‘দুই বাংলার উন্নয়ন ঘিরে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে’

‘দুই বাংলার উন্নয়ন ঘিরে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

স্টাফ রিপোর্টার :: দু’দিনের ভারত সফরের শেষ দিনে শনিবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার সন্ধ্যায় কলকাতার তাজ বেঙ্গল হোটেলে এ বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে বেরোতেই সাংবাদিকরা মমতার কাছে জানতে চান বৈঠকে কী হল?

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দুই বাংলার নানা ইস্যুতে সফল ও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

এ সময় সাংবাদিকরা জানতে চান- তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা? এ প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান মমতা। বলেন, ‘দুই বাংলার উন্নয়ন ঘিরে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

বৈঠক হয়েছে দুটি পর্বে। প্রথম পর্বে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এইচ মাহমুদ আলী, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং শীর্ষ কর্মকর্তারা ছিলেন। সেই সৌজন্য বৈঠকটি মাত্র পাঁচ মিনিট স্থায়ী ছিল। এর পরই দুই নেত্রী রুদ্ধদ্বারে একান্ত বৈঠকে বসেন।

মমতা সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে কোনো রাজনৈতিক সীমানা আছে বলে আমার জানা নেই। তাই আজ দুই দেশের সম্পর্ক উন্নতি করা নিয়ে আমাদের বিস্তারিত কথা হয়েছে। দু’দেশের সব বিষয় নিয়ে আমরা সব সময়ই তো কথা বলি। সম্পর্ক ভালো হোক, এ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই এদিনও আমাদের অনেক আলোচনা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও সীমান্ত সমস্যা নিয়েও কথা হয়েছে।’

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, দুই নেত্রী যখন একান্ত আলোচনা করেছেন তখন মমতার ‘সব বিষয়’-এর মধ্যে নিশ্চয়ই তিস্তার পানিবণ্টন বিষয়টি ছিল। কারণ, এ বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যে কোনো মূল্যে এ বহু প্রতীক্ষিত এ চুক্তি সম্পন্ন করতে চান বঙ্গবন্ধুকন্যা। প্রয়োজনে তা তিন বা পাঁচ বছরের স্বল্পমেয়াদি চুক্তি হলেও। আর এ কারণে প্রায় সাত বছর দিল্লির ওপর ভরসা করেও শুধু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তিতে তা সম্পূর্ণ না হওয়ায় এবার নিজেই মমতার সঙ্গে দীর্ঘদিনের ‘ব্যক্তিগত সম্পর্ক’ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন তিনি। তবে আগামী বছর লোকসভা ভোটের সম্মুখীন হওয়া মমতাও নিজের ভোটব্যাংক ধরে রাখতে কতটা ছাড় দেবেন তা প্রশ্নসাপেক্ষ।

শেখ হাসিনার সঙ্গে মধুর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে মমতা বলেন, “একটা ‘ওপেন ইনভাইটেশন’ রয়েছে আমাদের মধ্যে। আমরা দু’জনেই দু’জনকে ভালোবাসি। যখনই দরকার হয় তখনই কথা বলি। ওনারা ওপারে ভালো আছেন। ভালো করছেন। আমি চাই ওরা আরও উন্নতি করুক।” সরাসরি না বললেও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জিতে ফের বাংলাদেশের শাসন ক্ষমতায় শেখ হাসিনা ফিরে আসুক তা মনেপ্রাণে চান মমতা।

মমতা বলেন, ‘ঢাকা সফরে ফের যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমায় আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমিও তাকে ফের কলকাতা আসতে আমন্ত্রণ করেছি। আসলে আমাদের সম্পর্ক বহু বছরের। এমনকি তিনি যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না তখনও আমাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল।’

কলকাতায় বঙ্গবন্ধু ভবন এবং গবেষণা কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গ সরকার তৈরি করবে বলেও বৈঠকে মমতাকে সম্মতি দেন শেখ হাসিনা। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘আমরা যেমন বঙ্গবন্ধু ভবন তৈরি করব, তেমনই শেখ মুজিবুর রহমান যেখানে থাকতেন, শেক্সপিয়ার সরণির যে বাড়িতে ১৯৭১ সালে প্রথম বাংলাদেশ সরকারের স্বাধীনতা পতাকা উড়েছিল সেটাও ওরা নিতে চান। একটা মিউজিয়াম করবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যে সাহায্য করার দরকার তা আমরা পুরোটাই করব।’

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, বৈঠকে শেখ হাসিনা কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট ডিগ্রি অর্জন করায় মমতা ব্যানার্জি তাকে অভিনন্দন জানান। পশ্চিমবঙ্গ সফর এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ও কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্যও তাকে ধন্যবাদ জানান মমতা। আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়নে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।

পরে শেখ হাসিনা ও তার সফর সঙ্গীরা হাসিমুখে হোটেল ছাড়েন। শেখ হাসিনার মুখেও ছিল হাসি। ভারতীয় সময় রাত ৯টায় (বাংলাদেশে সাড়ে ৯টা) কলকাতা ছাড়ে শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিশেষ বিমান। রাত সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান ঢাকায় শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে।

ঢাকা থেকে রওনা হওয়ার দু’দিন আগেই বুধবার ফোন করে মমতার সঙ্গে এ বৈঠক নিয়ে কথা বলে নিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। কলকাতায় নিজের বিমান পৌঁছানোর ২৪ ঘণ্টা আগেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মমতার কালীঘাটের বাড়িতে পদ্মার ইলিশ এবং যশোর-বগুড়ার মিষ্টি ও নানা উপহার পৌঁছে দেন তিনি। শান্তিনিকেতনে সমাবর্তনে যাওয়ার আগে উদয়ন গৃহে মমতাকে প্রথম দেখতে পেয়েও বড় আপ্পার স্নেহ নিয়েই আবেগে জড়িয়ে ধরেন।

সমাবর্তন ও বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধনে গিয়েও দুই নেত্রী বাংলা ভাষায় প্রাণের কথা বলেছেন, ফটোসেশনে মোদির পাশ থেকে মমতাকে নিজের দিকে ডেকে এনেছেন হাসিনাই। এরপর সন্ধ্যায় তাজ বেঙ্গলে দুই নেত্রীর বহু প্রতীক্ষিত একান্ত বৈঠকে নজর ছিল দিল্লি ও ঢাকার শীর্ষ পদাধিকারী থেকে শুরু করে সব রাজনৈতিক মহলের।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সুপার ফোরে বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ ::  আবুধাবির শেখ জায়েদ ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের কাছে বিশাল ...