দিনাজপুরে ৪৭ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে ভূট্রার বাম্পার ফলন

দিনাজপুর : দিনাজপুর জেলায় এবার ৪৭ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে ভূট্রার বাম্পার ফলন অর্জিত হয়েছে। উৎপাদিত ফলন থেকে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৯১২ মেট্রিক টন ভূট্রা পাওয়া যাবে।

অনুকুল আবহাওয়া ও ভূট্রা চাষের প্রয়োজনীয় উপকরন ঠিক থাকায় জেলায় কৃষকেরা উচু ও চরের জমিতে ভূট্রা চাষ করছে।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সমপ্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচলাক আনোয়ারুল আলম জানান, চলতি মৌসুমের শুরুতে ৪৫ হাজার ৩৯৪ হেক্টর জমিতে ভূট্রা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছিলো। আর প্রতি হেক্টর জমিতে ৭ দশমিক ২০ মেট্রিক টন উৎপাদন লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়। কিন্তু নদীর ধারে পতিত জমি ও অকেজো এবং উচু জমিতে কৃষকরা ভূট্রা চাষ করায় লক্ষমাত্রা অতিরিক্ত ১ হাজার ৮১৬ হেক্টর জমিতে ভূট্রাচাষ অর্জিত হয়েছে। গত ১৫ নভেম্বর থেকে শুরু করে ফেব্রুয়ারী মাস পর্যন্ত ভূট্রা রোপন কাজ অব্যাহত থাকে। চলতি মৌসুমে জেলার ৪৭ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে ভূট্রার ফলন অর্জিত হয়েছে। অর্জিত ভূট্রা থেকে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৯১২ মেট্রিক টন ফলন পাওয়া যাবে। এবার নদীর চর এলাকায় কৃত্তিম উপায়ে সেচের মাধ্যমে কৃষকরা ভূট্রা চাষ করছেন।

বিরামপুর উপজেলার কৃষক মিজানুর রহমান জানান, গত বছর নদীর পাশে দেড় একর জমিতে ভূট্রা চাষ করেছিলো। তার অর্জিত ভূট্রা জমি থেকে সাড়ে ১০ মেট্রিক টন অর্জিত পেয়েছে। চাষাবাদ খরচ বাদে ৫০ হাজার টাকা ভূট্রা থেকে মুনাফা পেয়েছে। তিনি আরো জানান, ভূট্রা চাষে অনান্য ফসলের তুলনায় শারীরিক পরিশ্রম, সার, সেচ সবই কম প্রয়োজন হয়। তাছাড়া বাজারে ভূট্রার চাহিদয় রয়েছে প্রচুর। তাই তিনি এবার ৩ একর জমিতে ভূট্রা চাষ করছে। গত বছরের তুলনায় এবার ভূট্রার আবাদ ভালো হয়েছে।

জেলার ১৩টি উপজেলাতেই এবার ভূট্রার বাম্পার ফলন অর্জিত হয়েছে। চৈত্র মাসের মাঝামাঝি থেকে ভূট্রা মাড়াইয়ের কাজ শুরু হবে। ভূট্রা ক্রয়ের জন্য থাইলেন্ড ভিত্তিক সিপি কোম্পানী, দেশীয় নারিশ, আরএফএল, ডাষ্ট কোম্পানীসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ক্রয়ের জন্য জেলার বিভিন্ন স্থানে কেন্দ্র খুলেছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ভূট্রা এবার তাদের অর্জিত ভূট্রার ভালো মুল্য পাবে। উল্লেখ্য থাকে যে, গত বছর জেলায় ৪৬ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে ভূট্রা অর্জিত হয়েছিলো। ফলন হয়েছিলো ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৭৪২ মেট্রিক টন।

মাহিদুল ইসলাম রিপন/

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পলাশবাড়ীতে মরিচের বাম্পার ফলনেও হাসি নেই চাষিদের মুখে

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল। গাইবান্ধা: বাম্পার ফলনেও হাসি নেই গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার ...