ব্রেকিং নিউজ

দারিদ্র বিমোচনে যাকাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে: পরিকল্পনা মন্ত্রী

দারিদ্র বিমোচনে যাকাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে: পরিকল্পনা মন্ত্রীস্টাফ রিপোর্টার :: পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল যাকাতের অর্থ প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিতরণ করার জন্য দেশের বিত্তশালীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি ব্যক্তি পর্যায়ে যাকাত না দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যাকাত প্রদানের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

মন্ত্রী আজ শুক্রবার ঢাকায় ৬ষ্ঠ যাকাত মেলা ২০১৮ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষনে এ কথা বলেন।

বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে সরকারের দারিদ্রবিমোচন ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রম গতি লাভ করেছে এবং এর সুফল ইতোমধ্যে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের নির্ণয়কে প্রতিফলিত হয়েছে। তবে সম্পদের স্বল্পতা এক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি মন্তব্য করেন, সরকারের এসব দারিদ্রবিমোচন ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রমের পাশাপাশি বেসরকারী খাতে পরিপূরক উৎস হিসেবে যাকাত গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করতে পারে।

পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, আমাদের মত এমন সুন্দর জাতী পৃথিবীতে আর কোথাও পাওয়া যাবেনা। বাংলাদেশিরা অনেক শক্তিশালী। এদেশে বিপ্লব হতে হবে। যা এই দেশের মানুষকে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। পৃথিবীতে একসময় মানুষের খাবারের বিপ্লব হয়েছে, এরপর হয়েছে শিল্প বিপ্লব। এগুলোর হাত ধরেই সারা বিশ্বে বিপ্লব সাধিত হয়। আমাদের  দেশেও সব ধরনের বিপ্লব হতে হতে সবকিছু ডিজিটাল হয়ে যাবে। আমার কথা হচ্ছে, বাংলাদেশে যারা পিছিয়ে পড়ছে, যারা দরিদ্র জনগোষ্ঠী তাদেরকে যাকাত দেয়ার মাধ্যমে সাহায্য করতে হবে। স্বাবলম্বী সবারই যাকাত দেয়া ফরজ।  যারা  দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সাহায্য করেনা তারা মূলত দেশকে সাহায্য করেনা, তারা ভালো মানুষ না। দেশের প্রতি তাদের কোন দায়িত্ব নেই।

তিনি বলেন, যাকাত প্রদান করা একটি বড় ইবাদত। যারা ধনী তাদের সম্পদে গরীবের হক আছে। সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট (সিজেডএম) এর এই আয়োজন নিশ:ন্দেহে প্রশংসনীয়। এই আয়োজন কেন্দ্র থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। যাকাতের ব্যাপারে সংঘবদ্ধভাবে সবাইকে কাজ করতে হবে। মানুষকে যাকাতের বিষয়ে জানাতে হবে। মহান আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, আপনারা যাকাত সংক্রান্ত সকল আয়োজনে আমাকে সবসময় পাবেন। আপনারা এই আন্দোলনের আরও শক্ত অবস্থান করতে পারলে সরকারকেও পাশে পাবেন।

লে. জেনারেল (অব:) এম. নুরুদ্দিন খানের সভাপতিত্বে এ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর সাবেক মহাপরিচালক মুস্তফা জামান আব্বাসী, ইসলামি ব্যাংক’স কনসালটেটিভ ফোরাম এর ভাইস চেয়ারম্যান এ কে এম নুরুল ফজল বুলবুল, বিশিষ্ট পরমানু বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. এম. শমসের আলীসহ সমাজের আরও অনেক স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গ যাকাত ফেয়ারে বিশেষ অতিথি ও বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে যাকাত ফেয়ার অর্গানাইজিং কমিটির সদস্য সচিব ও সাবেক তথ্যসচিব এ এম এম নাসির উদ্দিন ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

এবারের যাকাত ফেয়ারে স্পন্সর হিসেবে রয়েছে ইসলামি ব্যাংক্স কনসালটেটিভ ফোরাম, এক্সিম ব্যাংক, কোহিনুর ক্যামিক্যল সহ দেশের বিভিন্ন সনামধন্য প্রতিষ্ঠান । এ ফেয়ারে ২০টি স্টল রয়েছে। যাকাত ফেয়ারের মূল আকর্ষন যাকাত সংক্রান্ত পরামর্শ ডেস্ক, বিভিন্ন ইসলামিক বই, যাকাত ভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম উপস্থাপন সহ অন্যন্য স্টল রয়েছে। মেলা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধা ০৬:৩০ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

মাননীয় মন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এ যাকাত মেলার উদ্বোধন করেন এবং উপস্থিত অতিথিবৃন্দকে সংগে নিয়ে বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।

উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে বক্তারা যাকাতের বিধিবিধান তুলে ধরে বলেন, যাকাত কোন ট্যাক্স বা দান নয়, যাকাত বাধ্যতামূলক ইবাদত। যাকাত সম্পর্কে জনগণকে আরো বেশী সচেতন করার কাজে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানানো হয়।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মহাজোট থেকেই নির্বাচনে অংশ নেবে জাতীয় পার্টি

স্টাফ রিপোর্টার :: আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সঙ্গে জোট করেই নির্বাচনে অংশ ...