‘তাজমহল ভারতীয় সংস্কৃতির কলঙ্ক’

মোগল সম্রাট শাহজাহান ১৬৪৩ সালে তার প্রিয় স্ত্রীর স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই তাজমহল নির্মাণ করেছিলেন

মোগল সম্রাট শাহজাহান ১৬৪৩ সালে তার প্রিয় স্ত্রীর স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই তাজমহল নির্মাণ করেছিলেন

ডেস্ক নিউজ :: ভারতে বিতর্কিত এক রাজনীতিক তাজমহলকে ‘ভারতীয় সংস্কৃতির কলঙ্ক’ বলে উল্লেখ করেছেন। ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি – বিজেপির নেতা সঙ্গীত সোম বলেছেন, ‘বিশ্বাসঘাতকরা’ এই তাজমহল তৈরি করেছে।

উত্তর প্রদেশের একজন এমপি এই সঙ্গীত সোম। মীরাট শহরে তার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেছেন বলে বিবিসির অনলাইনের খবরে বলা হয়েছে।

উত্তর প্রদেশের পর্যটন সংক্রান্ত পুস্তিকা থেকে তাজমহলের নাম বাদ দেওয়ার পর বিশ্বখ্যাত এই সমাধিসৌধটি সম্পর্কে এই মন্তব্য করা হলো।

মি. সোমের এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এর ফলে টুইটারে আজ সোমবার ‘তাজমহল’ শব্দটি ট্রেন্ডিং করছিলো।

মি. সোম তার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “উত্তর প্রদেশের পর্যটন বুকলেটে ঐতিহাসিক স্থানের তালিকা থেকে তাজমহলের নাম বাদ দেওয়ার ঘটনায় অনেকে দুঃখ পেয়েছেন।”

তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি তাজমহল বানিয়েছেন তিনি নিজে তার পিতাকে অন্তরীণ করে রেখেছিলেন। এটা কে কি আপনারা ইতিহাস বলবেন?”

“যে ব্যক্তি তাজমহল বানিয়েছে সে উত্তর প্রদেশ ও হিন্দুস্তানের বহু হিন্দুকে আক্রমণ করেছে। এটাকে কি আপনারা ইতিহাস বলবেন?” সমর্থকদের কাছে প্রশ্ন রাখেন মি. সোম।

তিনি বলেন, “এটা যদি ইতিহাস হয়, তাহলে সেটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। আমরা এই ইতিহাসকে চ্যালেঞ্জ করবো। আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি।”

মোগল সম্রাট শাহজাহান ১৬৪৩ সালে তার প্রিয় স্ত্রীর স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই তাজমহল নির্মাণ করেছিলেন।

কিন্তু তিনি তার পিতাকে কখনো অন্তরীণ করেন নি। শাহজাহানের সন্তান আওরঙ্গজেব তাকে আমৃত্যু কারারুদ্ধ করে রেখেছিলেন। এর আগেও মি. সোম বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচিত হয়েছেন।

২০১৩ সালে তার বিরুদ্ধে মুজফ্ফরনগরে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিলো। ওই দাঙ্গায় ৬২ জন নিহত হয়।

বিজেপির একজন মুখপাত্র নলিন কলি বলেছেন মি. সোমের এই বক্তব্যের সাথে বিজেপির দলীয় অবস্থানের কোন সম্পর্ক নেই। তবে তিনি এধরনের মন্তব্যের নিন্দাও করেন নি।

এনডিটিভি নিউজ চ্যানেলে তিনি বলেছেন, “এটা তার ব্যক্তিগত মত।” “তাজমহল আমাদের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইতিহাসে যা ঘটেছে সেটা তো মুছে ফেলা যাবে না। তবে এই ইতিহাস সুলিখিত হতে হবে।”

সোশাল মিডিয়াতে অনেকই মি. সোমের এধরনের মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সাংবাদিক ভিক্রম চন্দ্র লিখেছেন, “কেউ যদি তাজমহলকে ‘ভারতীয় সংস্কৃতির কলঙ্ক’ বলে উল্লেখ করেন, তাহলে বলতে হবে তিনি ইতিহাস জানেন না।

আবার অনেকে মি. সোমের বক্তব্য সমর্থন করেও মন্তব্য করেছেন। ভারতের অনেক হিন্দুর কাছেই তাজমহল একটি বিতর্কিত বিষয়।

হিন্দু জাতীয়তাবাদী এবং উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও গত জুন মাসে বলেছিলেন, তাজমহল ভারতীয় সংস্কৃতিকে প্রতিনিধিত্ব করে না।”

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

নির্বাচন এক সপ্তাহ পিছিয়ে ৩০ ডিসেম্বর

স্টাফ রিপোর্টার :: একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ৭ দিন পিছিয়ে ৩০ ডিসেম্বর ...