তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ পাচ্ছে ৩৪ হাজার তরুণ-তরুণী

তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণএইচএম জামাল :: দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ কর্মীর সংখ্যা আরো বাড়ানোর জন্য ৩৪ হাজার তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ২০ হাজার জনকে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ, ১০ হাজার জনকে শিল্প সংশ্লিষ্ট দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য টপ আইটি  ট্রেনিং এবং ৪ হাজার জনকে ফাস্ট ট্র্যাক ফিউচার লিডার হিসেবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে যাদের ৬০ শতাংশকে প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আজ সোমবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, বাংলা গভনেট ও ইনফো সরকার প্রকল্পের আওতায় সারাদেশের প্রায় সব উপজেলাকে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ১৮ হাজার ১৩২টি সরকারি সংস্থা অভিন্ন নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে। এছাড়া বিসিসি থেকে সচিবালয় পর্যন্ত ৩১ কিলোমিটার ফাইবার অপটিক ক্যাবল সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়কে ফ্রি ওয়াইফাইয়েরর আওতায় আনা হয়েছে। এতে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড আরো গতিশীল হবে।

তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী জানান, সারাদেশের সব মানুষকে একটি নাম্বারে নাগরিক সেবা সম্পর্কিত তথ্য প্রদানের উদ্দেশে ‘ন্যাশনাল কল সেন্টার’ তৈরি করা হচ্ছে। সে সঙ্গে কোরিয়া সরকারের সহায়তায় আইসিটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে কোরিয়া সরকারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৮০ সালে চীন ৩০ বছরের একটি তথ্যপ্রযুক্তি পরিকল্পনা তৈরি করে। সে অনুযায়ী তারা কাজ করেছে। একইভাবে দক্ষিণ কোরিয়া ২০০০ সালে ১৫ বছরের জন্য একই ধরনের মাস্টারপ্ল্যান করে। দু’টি দেশই তাদের পরিকল্পনা  তৈরি ও তা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছে। আমরাও একইভাবে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন করে এগিয়ে যেতে চাই।

জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, অনলাইনে সেবা প্রদানের কলেবর দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এজন্য ডেটা সেন্টারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে দেশের ৫ম বৃহত্তম টায়ার-৪ সার্টিফাইড ডেটা সেন্টার গড়ে তোলা হবে। সেখানে ক্লাউড কম্পিউটিং প্রযুক্তি সংযোজন ও জি-ক্লাউড স্থাপন করা হবে। ডিজিটাল সংযোগ প্রকল্পের অধীনে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড কানেকটিভিটি স্থাপন করা হবে। উদ্ভাবন ও উৎকর্ষতাকে অনুপ্রেরণা প্রদান ও বাস্তবায়নের জন্য একাডেমি ফর ইনোভেশন, ডিজাইন অ্যান্ড এক্সিলেন্স (আইডিএ) স্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।

তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জানান, লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্পের আওতায় ২৬ হাজার জনকে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। যাদের মধ্যে ১২ হাজার নারী রয়েছেন। প্রকল্পের আওতায় আরো ৫৫ হাজার জনকে আগামী ২ বছরের মধ্যে এ প্রকল্পের আওতায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। হাইটেক পার্কের অধীনে আইটি/আইটিইএস সেক্টরে কমর্রত এক হাজার জন মধ্যম পর্যায়ের পেশাজীবীকেও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া হাইটেক পার্কের অধীনে দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ কর্মসূচির আওতায় তিন হাজার জনকে ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) শ্যামাপ্রসাদ বেপারী, বিসিসির পরিচালক এসএম আশরাফুল ইসলাম, হাইটেক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম প্রমুখ।

 

 

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

শুরু হচ্ছে নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর পরিবর্তন

ডেস্ক নিউজ :: মোবাইল নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর পরিবর্তনের (মোবাইল নম্বর পোর্টাবিলিটি—এমএনপি) ...