ঢাকা বারের নির্বাচন : লড়াই হবে সাদা-নীলে

dhaka-bar-associatioএশিয়ার বৃহত্তম আইনজীবী সমিতি ঢাকা আইনজীবী সমিতি’র (বার)২০১৬-২০১৭ কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন বুধ ও বৃহস্পতিবার। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলবে এই ভোটগ্রহণ। মূলত, এ নির্বাচনের মূল লড়াই হবে সাদা-নীল এ দুই প্যানেলে।

এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের সাদা প্যানেল এবং বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্যের নীল প্যানেল ২৭টি পদের জন্য একে অপরেরর বিপরীতে তাদের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছে।

এ নির্বাচনের জন্য ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২০১৬-২০১৭ বর্ষের কার্যকরী পরিষদের জন্য ২৭টি পদে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২৭টি পদের মধ্যে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ১২টি সম্পাদকীয় পদ ও ১৫টি কার্যনির্বাহী সদস্য পদ রয়েছে।

নির্বাচনে সাদা প্যানেলে আবারো মনোনয়ন পেয়েছেন সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান মানিক, সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট আয়ুবুর রহমান।

অন্যদিকে, নীল প্যানেলের মনোনয়ন পেয়েছেন সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট মো. খোরশেদ আলম এবং সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট আজিজুল ইসলাম খান বাচ্চু।

নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকা বার এলাকায় উৎসবমুখর অবস্থা বিরাজ করছে। কর্মদিবসে প্রার্থী ও প্যানেলের পক্ষে তাদের সমর্থিত আইনজীবীরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ভোটার আইনজীবীদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন। ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য প্যানেলের পক্ষে তাদের সমর্থকেরা স্লোগানে মুখরিত করছেন ঢাকা বার এলাকা।

পূর্বের ইতিহাস অনুযায়ী দেখা যায়, নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় দুটি প্যানেলের মধ্যে। একটি প্যানেল আওয়ামী লীগ ও তাদের সমমনা সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের সাদা প্যানেল অপরটি বিএনপি ও তাদের সমমনাদের সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের নীল প্যানেল।

নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থী ও প্যানেল জয়ী হতে আদালত এলাকা ও আইনজীবীদের চেম্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনায় নানামুখী প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্যানেল ও প্রার্থীদের পক্ষে প্রতিদিন লিফলেট ও কার্ড বিতরণ ছাড়াও মোবাইলে ফোন করে এবং এসএমএস পাঠিয়ে জোর প্রচারণা ও ভোট প্রার্থনা চলছে। কেউ কেউ ফেসবুকেও প্রচারণা চালাচ্ছেন।

মঙ্গলবার ছিল প্রচার-প্রচারণার শেষ দিন। শেষ দিনেও ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন প্রার্থীরা। নানা রকম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়ে আইনজীবীদের (ভোটারদের) কাছে ভোট চেয়েছেন প্রার্থী, কর্মী ও সমর্থকরা। সুপ্রিম কোর্টের বাইরেও সাদা ও নীল প্যানেলের আইনজীবীরা তাদের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে দেখা গেছে।

সাদা ও নীল উভয় প্যানেলের প্রার্থীরা সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী র‌্যালি। শেষ মুহূর্তের প্রচারণার পরে দুই প্যানেলের প্রার্থীরাই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

২০১৬-২০১৭ কার্যবর্ষের সম্পাদকীয় পদে সাদা প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট আলহাজ মোহাম্মাদ হাবিবুর রহমান, সহ-সভাপতি পদে আবু বারেক ফরহাদ, ট্রেজারার পদে মো. হাসিবুর রহমান দিদার, সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুস সালাম খান, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মো. শাহাদাত হোসেন ভুইয়া, লাইব্রেরি সম্পাদক পদে আলী আহমেদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে লাকী আক্তার ফ্লোরা, দফতর সম্পাদক পদে আব্দুল হাই মামুন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে প্রহলাদ চন্দ্র সাহা পলাশ এবং খেলাধুলা সম্পাদক পদে মো. বাহারুল আলম বাহার।

অন্যদিকে সম্পাদকীয় পদের নীল প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আফরোজা বেগম শেলী, সহ-সভাপতি পদে কাজী মো. আবুল বারিক, ট্রেজারার পদে আবু বক্কর সিদ্দিকী, সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক পদের সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মো. সারোয়ার কায়ছার রাহাত, লাইব্রেরি পদে মো. আবুল কালাম আজাদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে শাহনাজ বেগম শিরীন, দফতর সম্পাদক পদে মো. আফানুর রহমান রুবেল, সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে মো. শফিকুল ইসলাম এবং খেলাধুলা সম্পাদকে মোহাম্মাদ শাখাওয়াত উল্লাহ চৌধুরী মনোনয়ন পেয়েছেন।

সাদা প্যানেলের ১৫টি সদস্য পদে মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যাডভোকেট আমিনুল আহসান মামুন, ইমারত হোসেন বাচ্চু, হাজেরা বেগম আজরা, মোহাম্মাদ আবু সাঈদ সিদ্দিক টিপু, নাসিম জাহান রুবি, নুর জাহান আক্তার পারভীন, মরিয়ম বেগম তুলি, মো. আলাউদ্দিন খান, সাহিদা পারভীন নদী, মো. বিল্লাল হোসেন লিজন, মোহাম্মাদ খায়রুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম তালুকদার, তাইবুর রহমান তুহিন, মোহাম্মাদ সাইফুজ্জামান টিপু ও মোহাম্মাদ নুর হোসেইন।

অন্যদিকে সদস্য পদে নীল প্যানেলে মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যাডভোকেট আজমেরী আহমেদ চৈতি, মো. আব্দুল মোমেন খান মামুন, মো. আনোয়ার পারভেজ কাঞ্চন, মো. শহিদুল্লাহ, মো. শাহীন হোসেন, মো. শওকত উল্লাহ, মোহাম্মাদ আবুল কাশেম, মোহাম্মাদ রোকনুজ্জামান সুজা, মোস্তফা সারওয়ার মুরাদ, মোস্তরী আক্তার নুপুর, মোসা. জেবুননেছা খানম জীবন, পান্না চৌধুরী, শাহনাজ পারভীন, সৈয়দ আকতারুল ইসলাম আক্তার এবং সৈয়দ মোহাম্মাদ মাইনুল হোসেইন অপু।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

‘আমাকে এখনও কেন হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে না’

ষ্টাফ রিপোর্টার :: বিএনপি চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ৮ মাস ...