ড. কামাল হোসেনের প্রতি খোলা চিঠি

ড. কামাল হোসেন

জনাব কামাল হোসেন। আমি যখন নটরডেম কলেজের ছা্ত্র ছিলাম তখন জেনেছি যে আপনিও ঐ কলেজের ছাত্র ছিলেন। তখন আপনি বেশ প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিবিদ এবং দেশের ও বৈদেশের একজন স্বনাম ধন্য আইনজীবি। আমাদের খুব গর্ব হতো যে এমন একজন মহান ব্যক্তি যে কলেজে পড়েছেন আমার মত একজন কৃষকের ছেলেও সেখানে পড়ার সুযোগ পেয়েছে। তাই গর্ব করতাম মানুষকে বলতাম যে উনি (আপনি) আমাদের কলেজের এক সময়ে ছাত্র ছিলেন। ইতিহাস একটু হলেও পড়েছি। ইতিহাস পড়ে যা শিখেছি তাতে জানতে ও বুঝতে পেরেছি যে বঙ্গবন্ধু একজন মহান নেতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী এবং মুক্তিযুদ্ধ একটি মহান ঘটনা বাংলাদেশের পক্ষে।

যখন জেনেছি যে আপনি বঙ্গবন্ধুর সাথে এবং স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করেছেন তখন গর্বে বুক ভরে যেত। মনে একটা শান্ত্বনা পেতাম যে আপনি অন্যদের মত নয়। আপনার ব্যক্তিগত শিক্ষা এবং নটরডেম কলেজের শিক্ষা (প্রকৃত মানুষ হওয়ার শিক্ষা) পেয়েছেন যা নটরডেম কলেজ তাদের ছাত্রদের দিয়ে থাকে। নটরডেম এমন একটি কলেজ যেখানে শুধু পুঁথিগত শিক্ষাই নয় বরং প্রকৃত জ্ঞানার্জনের শিক্ষা এবং মানুষ গড়ার শিক্ষা দেয়া হয়। এর মধ্যে মানবতা ও দেশ প্রেমের শিক্ষা অন্যতম। নটরজডম কলেজের চরিত্র ও জীবন গঠনের শিক্ষার কোন জুড়ি নেই। রেজাল্টও ভাল এবং দেশের সব ছাত্র ছাত্রী ও বাবা-মা’দের একটাই স্বপ্ন ছেলে যেন নটরডেম কলেজে পড়তে পারে এবং জীবন গঠনমূলক শিক্ষা গ্রহণ করে যেন মানুষের মত মানুষ হতে পারে।

আপনাকে নিয়ে আমরা এজন্যই গর্ববোধ করতাম যে আমাদের কলেজের প্রকৃত শিক্ষায় আপনি নিজেকে উদ্ভাসিত করেছেন। গর্ববোধ করতাম আপনি বঙ্গবন্ধুর সাথে রাজনীতি করেছেন। দেশের ক্রান্তিকাল মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন আপনি দেশের সফলতার জন্য যা যা করা দরকার তা করেছেন। একজন নটরডেমিয়ান হিসেবে আরো গর্ববোধ করি স্বাধীনতার মাত্র এক বছরের মধ্যে আপনার নেতৃত্বে একটি সদ্য স্বাধীন দেশের সংবিধান রচনার মত একটি কঠিন কাজ আপনি সম্পন্ন করেছেন।

কিন্তু আজ আমরা কি দেখি? আপনি কি সেই নটরডেমিয়ান যিনি ভাল রেজাল্ট করেছিলেন, আপনি কি সেই নটরডেমিয়ান যিনি বঙ্গবন্ধুর সাথে ন্যায়ের পক্ষে রাজনীতি করেছেন, আপনি কি সেই নটরডেমিয়ান যিনি মুক্তিযদ্ধের সময় মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত, পরিচালনা এবং বিশ্ব জনমত তৈরীতে কাজ করেছেন। আপনি কি আাজ সেই শিক্ষিত ব্যক্তি যিনি মানবতার পক্ষে কথা বলবেন? এমন হাজারো প্রশ্ন আজি বিবেকের মধ্যে ঘুরপাক খায়। মনে পড়ে সেই কবিতার লাইন, ‘মাথায় কত প্রশ্ন আসে দিচ্ছে না কেউ জবাব তার’।

আপনার বিষয়েও ঠিক তাই। জবাব কেউ দিতে পারছে না। অনুমান করি আপনিও দিতে পারবেন না বা দিতে গেলে হয়তো কয়েক গ্লাস পানি পান করতে হবে তারপর আস্তে বলবেন আমি অমুক তো তমুক তো এমুক অথবা বলবেন বর্তমান সরকার এ করছে, সে করছে, গণতন্ত্র নাই ইত্যাদি ইত্যাদি। এমনিতেইতো আপনি ধীর লয়ে কথা বলেন। আপনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের একজন মানুষ। অথচ যখন দেখি যে আপনি ক্ষমতার জন্য সেই রাজাকার- মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী লোকদের পক্ষ নিয়ে কথা বলেন তখন সত্যই বুঝতে কষ্ট হয় যে আপনার শিক্ষা, দীক্ষা, জ্ঞান, গরিমা আসলে কিসের জন্য। আপনাকেতো আমরা স্বার্থান্বেষী বা কুচক্রী ভাবতে পারি না। পরি না বলতে ভাবতে কষ্ট হয়।

বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পরে আপনার ভূমিক কি ছিল তা আপনি নিজে যেমন জানেন তেমনি সবাই জানে। আপনি তখন বঙ্গবন্ধু সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। আপনাকে তখন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং তার বোন শেখ রেহান বিদেশে একটা সংবাদ সম্মেলন করতে অনুরোধ করেছিলেন এবং কুটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যেতে এবং বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার প্রতিবাদ করতে বলেছিলেন। কিন্তু আপনি তা করেন নি। আপনি ভয় পেয়েই হোক বা অন্য কোন কারনেই হোক নীরব ছিলেন।

ডঃ কামাল হোসেনআজ আপনি গনতন্ত্র নাই, সংবিধান অমান্য হচ্ছে এমন সব কথা বলে মাঠ গরম করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ১৯৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরতো এই বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা কুচক্রী জিয়া ইনডেমনিটি বিল পাশ করে হত্যার বিচার করা যাবে না এমন করা হয় তখন কোথায় ছিল আপনার স্বাধীনতা, কোথায় ছিল সংবিধান আর কোথায় ছিল গণতন্ত্র? কই তখনতো আপনি কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নি। আপনিতো একজন আইনজীবি হয়েও এই ইনডেমনিটি বা কালো আইনের বিষয়ে কোন আদালতে যান নি? তো আজ আপনি কেন এমন করছেন। আসলে বুঝতে পারছি না যে আপনি কোন গুপ্তচর বাহিনীর লোক কিনা? আপনি কি কারো দ্বারা ব্যবহৃত হচ্ছেন কিনা?

যাহোক, অতীতের কথা না হয় বাদই দিলাম। সাম্প্রতিক সময়েও আপনার ভূমিক কতটা গঠনমূলক তা দেশবাসী জানে। আপনার কর্মকান্ড আজ জাতির নিকট বড় প্রশ্ন বিদ্ধ। কি নেই আপনার। আপনি দেশের প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি না হয়েও কিন্তু জনগণের কাছে তাদের মর্যাদারই একজন বলে আমরা জানি। কিন্তু কেন আপনি ঐসব যুদ্ধাপরাধী ও যারা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে লক্ষ কোটি টাকা নিজেদের নামে করে নেয় তাদের পক্ষে কথা বলবেন। জনাব ডঃ কামাল হোসেন। জানেন তো যে প্রতিটি পরিবারের কর্তা তার সংসার চালায় একটি নির্দিষ্ট ষ্টাইলে। সব পরিবারেই কিছু অশান্তি আছে। কিন্তু তাই বলে কি সংসার টিকে না? অবশ্যই টিকে। নাকি সংসারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়, মিটিং হয়, মিছিল হয়, গুপ্ত আলোচনা হয়। হয়তো বা হয়। কিন্তু স্বামী-স্ত্রী নামক সংসারটি কিন্তু ঠিকই টিকে থাকে। হয়তো এক একটি ভিন্ন ম্যানেজমেন্ট এ। ঠিক তেমনি একটি সরকারের মধ্যে ভাল এবং মন্দ দু’টো বিষয় পাশাপাশি চলবেই। এটা অনন্তকালীন।

আপনারতো জানা কথা যে যারা ভাল করেন এবং প্রগতিশীল তাদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত থাকে। আর সেই চক্রান্ত করে থাকে মন্দ চিন্তাধারীরা। একটু ভেবে দেখেন যে স্বাধীনতাকে বিপন্ন করতে এবং দেশের মানুষদেরকে অপমান করতে কারা এ দেশে রাজাকারদের নতুন করে ঠাঁই দিয়েছিল? কারা যদ্ধাপোরাধীদের পুনর্বাসন করেছিল এ স্বাধীন দেশে? কারা ভাঙ্গা সুটকেস দিয়ে কোকো জাহাজ নির্মান করেছে? কারা দেশের ভন্ডার থেকে কোটি কোটি ডলার বা টাকা আত্মসাৎ করেছে। তাকি ভূুলে গেছেন? কারা ২১ আগষ্ট শেখ হাসিনাকে এবং পুরো আওয়ামীল নেতৃত্বকে সমূলে মারতে চেয়েছিল। কারা যদ্ধাপোরাধীদের বিচারে বাঁধা দিয়েছেলি?

কারা কালো ব্যবসার সাথে জড়িত, কারা দশ ট্রাক অস্র দেশে ঢুকিয়েছিল কোন নাশকতার জন্য, কারা এদেশে উলফা এবং জঙ্গীদের সৃষ্টি ও আশ্রয় দিয়েছিল, কারা হাওয়া ভবন তৈরী করেছিল, কারা রাজাকারদের এখনো আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে, কারা এখনো বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে যড়যন্ত্র করছে, কারা পদ্মা সেতু যেন না হয় তারজন্য বিশ্ব ব্যাংক এবং এডিবি এর নিকট মিথ্যা তথ্য দিয়েছিল? অবশ্য আপনি তো ধরি মাছ না ছুঁই পানি এবং অবস্থার মানুষ। আপনি আপনিার একমাত্র বৈদেশিক জামাতা (হাইব্রিড) দিয়ে কিভাবে বিচার ব্যবস্থাকে বাঁধাগ্রস্ত করতে চেয়েছিলেন। কাজেই আপনার নিকট হতে মানুষ এর বেশী আর কি আশা করবে।

বিভিন্ন আলোচনায় আমি শুনেছি যে আপনার পরিবারে মাত্র তিনজন সদস্য। একজন আপনি, দ্বিতীয়জন আপনার প্রাণপ্রিয় স্ত্রী এবং তৃতীয়জন আপনার একমাত্র কন্যা সারা হোসেন। আপনারা একই বাড়ীতে থাকতেন জানিনা এখনো আছেন কিনা। তবে আাপনারা একই বাড়ীতে বা একই ছাদের নীচে থাকা কালীন সময়ে নাকি এই তিন প্রানীর সাথে নাকি মাসে একবারও দেখা হতো না বা হয় না। তো আপনি যদি নিজের পরিবারের মধ্যেই যদি এত দূরত্ব থাকে তবে জনগণের কাছে যাবেন কি ভাবে?

আজ আপনারা কয়েকজন মিলে সরকারকে সরিয়ে দিতে ষড়যন্ত্র কাছেন আর বলছেন যে দেশ রসাতলে গেল, দেশে কোন গণতন্ত্র নেই। আপনার এ ধরণের খোড়া সব যক্তি দাঁড় করাচ্ছেন। আপনাদের এ দাবী শুধুমাত্র আপনাদের মত কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত ও বিএনপি’র কয়েকজন নেতার দাবী। কই এজন্যতো কোন গণ-আন্দোলনতো হয় নাই। তবে কেন আপনি এমন একটি বিষয় নিয়ে আরামের বৃদ্ধ বয়সটাকে ভোগাচ্ছেন? আবশ্য সে আপনার ব্যক্তিগত বিষয়। তবে আমরা গণতন্ত্র’র সজ্ঞা জানি না। আমরা সাধারণ জনগণ শুধু বুঝি আমারদের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, দেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশ্বে নিজেকেসহ বাংলাদেশকে একটা স্থান তৈরী করে দিতে পেরেছেন – এগুলোইতো আমাদের প্রাপ্তি। আর কিচাই আমাদের। গণতন্ত্রের উদ্দেশ্যতো এগুলোই।

বুঝলাম আপনি এবং আপনিসহ কতিপয় ব্যক্তি দেশের গনতন্ত্রের জন্য মোর্চা গঠন করবেন এবং চাচ্ছেন সরকার গঠন করতে। আর ঐ কল্পিত সরকারে কে রাষ্ট্রপতি ও কে প্রধানমন্ত্রী হবেন তা একরকম স্থির করেই রেখেছেন। বেশ ভাল কথা। তবে আপনি কি পারবেন আমাদের জনগণকে গ্যারান্টি দিতে যে, দেশে গণতন্ত্র থাকবে, কোন প্রকার দুর্নীতি বা অনিয়ম থাকবে না, কেউ রাস্তায় নামবে না, সবাই তাদের জীবনের নিশ্চয়তা পাবে, কোন হত্যা, গুম ইত্যাদি হবে না বা রাস্তায় কোন দুর্ঘটনা হবে না? হ্যাঁ, যদি পারেন তবে আমি আপনাকে সেলুট জানাব। ধরেন আপনি আপনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করলেন আর যদি উক্ত অবস্থাসমূহের পরিবর্তন করতে পারলেন না। বরং বেড়ে গেল। তখন কি করবেন। আর জনগণ যদি তার প্রতিবাদ করে তখন আপনি কি করবেন।

ডঃ কামাল হোসেনপুলিশ, র‌্যাব দিয়ে কি ঠান্ডা করবেন নাকি ক্ষমতা ছেড়ে দিবেন। তখন কি হবে? একটু ভাবুন। এদেশের সমস্যা আছে, সমাধানও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সমাধান করছেন। তবে সবই কি একদিনে বা একসাথে সব সমাধান করা যায়? আমার মনে হয় না। আমি রাজনীতি ও দেশ পরিচালনা নীতি বুঝি না। তবে আজ এই ছোট করে লিখে দিলাম যে আপনি উল্লেখিত সমস্যসমূহ সমাধান করতে পারবেন না লজ্জাবোধ থাকলে দেশকে একটা গভীর সংকটে ফেলে পদত্যাগ করবেন যদি আপনার মধ্যে সমান্যতম সম্মান থাকে। তখন দেশের অবস্থা কি হবে? তখন দেশ কি এগিয়ে যাবে নাকি আরো কয়েক বছর পিছিয়ে যাবে? ভবিষ্যৎটা একটু আগেই ভেবে নিন। একটি দেশ পরিচালনা অত সহজ নয়।

আপনি নিজেকে নিয়ে ভাবুন। আপনি একজন প্রখ্যাত আইনজীবি নিঃসন্দেহে। কিন্তু আজও পর্যন্ত কি কোন গরীব মানুষের মামলা বিনা ফি তে পরিচালনা করছেন। আপনার তো অনেক সুযোগ। মানুষ ও দেশ সেবার এ সুযোগ গুলো কি কাজে লাগাতে পারছেন। যদি না পারেন তবে দেশ ও জনগণের সেবা কিভাবে করবেন? বরিশাল সিটি নির্বাচনে দেখলাম একজন ডাক্তার বাম দলের কত সুপরিচিত। তার মানব সেবার জন্য সেখানকার জনগণ তাকে কতটা ভালবাসে কত মনে রাখে। কিন্তু আপনি কি করছেন? আপনার সাধ্যের মধ্যে থেকেতো কিছুই করতে পারেন নি।

আপনি নাকি একজন মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনকারী? কই এই কি তার নমুনা। আপনি তো সেই মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের সাথে জোট করতে পারেন না যদি সত্যিকার আপনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক হয়ে থাকেন। আপনি বেশ ভাল করেই জানেন যে বিএনপি এ দেশে যুদ্ধাপোরাধীদের স্থান করে দিয়েছেন। তবে তাদের সাথে আপনার কিসের সম্পর্ক? ক্ষমতাই কি সব? ও বুঝতে পারছেন না। বিএনপি তো যুদ্ধাপোরাধীদের এই শরীরের একটা অংশ। তাই নয় কি মিঃ কামাল? আপনি কি ভুলে গেছেন বিএনপি কি করেছে যখন ক্ষমতায় ছিল। এদেশের মাইনরিটিদের ঘরবাড়ী জ্বালিয়ে দিয়েছে, শিক্ষকদের গাঁয়ে হাত দিয়েছে (২০০১ সালের নির্বাচনের পর), ১৫ আগষ্ট জাতির পিতার শাহাদাত বার্ষিকীতে খালেদার মত একজন অষ্টম শ্রেনী পাশ মহিলা কটাক্ষ করে নিজের জন্মদিন না হওয়া সত্বেও জন্মদিন পালস করে, ২১ আগষ্ট আওয়ামীলীগকে শেষ করতে গ্রেনেড হামলা করে, গড়ে তোলে হাওয়া ভবন, খাম্বা বিক্রির কমিশন থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে, লন্ডনের মত জায়গায় বিনা কাজে রাশি রাশি টাকা খরচ করছে – কোথ্থেকে আসে এত টাকা? আপনার বিবেক কি নাড়া দেয় না যে এমন কিছু লোকের সাথে আবার আপনি জোট করতে যাচ্ছেন। ছিঃ। মনে রাখবেন রাজনীতিতে শেষ বলে কোন কথা নাই। আপনাকেও তারা একদিন লাথি মারতে দ্বিধা

আর তারক রহমান কে? তারকি কোন ভাল বুদ্ধি-শুদ্ধি আছে? সেতো একজন মাথামোটা লোক। তার কি এমন কোন থিউরী আছে যা সর্বজন গ্রহনীয়? তার কি এমন কোন ব্যক্তিত্ব আছে বা ভাল কাজ আছে যে মানুষ তাকে অনুসরন করবে? সেতো জিয়ার ও সাবেক প্রধানমন্ত্র বেজি’র ছেলে ছাড়া আর কিছু্ই নয়। তারমত একটা অপদার্থ লোকের সাথে আপনি টেলিফোনে কথা বলেন এতে কি আপনার মর্যাদা বাড়ল না কি কমল। সে সার্ভে আপনি নিজেই করে নিবেন। তার দুর্নীতি ছাড়া আর কিইবা আছে?

যাহোক আপনাকে আর আমি বেশী কিছু বলতে চাই না। শুধু বলতে চাই যা করবেন ভালমত চিন্তা করেই করবেন। কারণ তখন পিছানোর আর কোন পথ থাকবে না। রাজনীতি রাজনীতিবিদদের হাতে ছেড়ে দেন। আপনি আসলে বর্তমান রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকলেও ভিতরকার রাজনীতি আপনি বুঝেন না – এটা আমি চ্যালঞ্জে দিয়েই বলে রাখলাম। ২/৪/৫ বছর পর মিলিয়ে দেখবেন।

ভাল থাকুন, সুস্থ্য থাকুন এ কামনায়,

 

শৌল বৈরাগী 

উন্নয়ন কর্মী, ঢাকা।

ইমেইল: saul_boiragee@yahoo.ca

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

৩২ ধারা বহাল রেখে ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল পাস

ষ্টাফ রিপোর্টার :: সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন মহলের আপত্তি সত্ত্বেও বহুল ...