ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে নামছে সেনাবাহিনী

ঢাকা : দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে মাঠে নামানো হতে পারে। আগামী জানুয়ারি মাসের ৭ তারিখ পর্যন্ত তারা মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন। ইতিমধ্যে সশস্ত্রবাহিনী বিভাগে এ সংক্রান্ত নথিকে কমিশন অনুমোদন করেছে। আগামী ২/১ দিনের মধ্যে এ চিঠিটি সশস্ত্রবাহিনী বিভাগে পাঠানোর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এছাড়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কোস্টগার্ড মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ৩ জানুয়ারি থেকে ভোটগ্রহণের পর ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকবে। পাশাপাশি এক জানুয়ারি থেকে নামানো হচ্ছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়োগ সংক্রান্ত কার্যপত্র ঘেঁটে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, গত ২৫ নভেম্বর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয় ৫ জানুয়ারি। আগামীকাল ১৩ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন।
আগামী ১৯ ডিসেম্বর রিটার্নিং অফিসার, সশস্ত্র বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মূল আইনশৃঙ্খলার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। এ বৈঠকেই প্রস্তাবিত ফোর্স মোতায়েন বিষয়ে আলোচনা হবে। যা কমিশন সূত্র নিশ্চিত করেছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, ভোটগ্রহণের আগে-পরে মোট ৫ দিনের জন্য মেট্রোপলিটন এলাকা ও এর বাইরে সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে মোতায়েন করা হবে পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশ।
মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে সাধারণ কেন্দ্রে অস্ত্রসহ পুলিশ একজন, আনসার অস্ত্রসহ একজন, লাঠিসহ ৪ জন মহিলা ও ৬ জন পুরুষ এবং চৌকিদার/দফাদার একজনসহ মোট ১৪ জন।
পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে সমসংখ্যক ফোর্স মোতায়েন থাকবে।
অপরদিকে, মেট্রোপলিটন এলাকার সাধারণ কেন্দ্রে পুলিশ, আনসার ও চৌকিদারসহ ১৬ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ জন আইনশৃঙ্খলার সদস্য মোতায়েন করা হবে।
এছাড়াও সারাদেশের উপকূলবর্তী ১৪টি জেলা এবং বিশেষ এলাকাগুলোয় (পার্বত্য এলাকা, দ্বীপাঞ্চল ও হাওড়) সাধারণ কেন্দ্রে পুলিশ, আনসার ও চৌকিদার-দফাদারসহ ১৫ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৬ জন ফোর্স দায়িত্ব পালন করবে।
এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনুষ্ঠিত ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে তিনশ সংসদীয় আসনে সমতল এলাকার ভোটকেন্দ্রের জন্য ভোটগ্রহণের আগে-পরে ৩ দিনের জন্য এবং উপকূলীয়, চর ও পার্বত্য জেলাগুলোয় ভোটগ্রহণের দুদিন আগে এবং ভোটগ্রহণের পরে একদিনসহ মোট ৪ দিন পুলিশ, আনসার ও গ্রাম্য পুলিশ দায়িত্ব পালন করেছিল। এবার ৫ দিনের জন্য এই ফোর্স নামানো হচ্ছে।
সেনাবাহিনী ২০ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর-০৮ তারিখ পর্যন্ত মোট ১২ দিন নির্বাচনী মাঠে ছিল। বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যরা একই সময় মাঠে ছিল। আটদিনের জন্য নির্বাচনী মাঠে দায়িত্ব পালন করেছিল (২৪ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর-২০০৮) র্যাব ও আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন।

এবারের নির্বাচনে সেনাবাহিনী ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে অর্থাত্ ২৫ ডিসেম্বর থেকে ২০১৪ সালে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত নামানো হতে পারে। তবে, নির্বাচনী এলাকায় যাওয়া-আসা এ সময়ের বাইরে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যরা ৩ জানুয়ারি থেকে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবে।

কমিশনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সশস্ত্রবাহিনী বিভাগে এ বাহিনী চেয়ে আগামী ২/১ দিনের মধ্যে চিঠি পাঠানো হতে পারে। এরই মধ্যে এ সংক্রান্ত নথিতে কমিশনের অনুমোদন হয়েছে। একজন কমিশনার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর এ চিঠি পাঠানো হবে।

এদিকে, পয়লা জানুয়ারি থেকে ৭ জানুয়ারি র্যাব ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন সদস্যরাও ৭ দিন মাঠে থাকবে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ইনজেকশন দেয়া গরু চিনবেন যেভাবে

ষ্টাফ রিপোর্টার ::ঈদুল আজহার আর মাত্র ক’দিন বাকি। ঈদুল আজহা মূলত মহান ...