ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে “৩২ ধারা” বাতিলের দাবী বনপা’র

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে “৩২ ধারা” বাতিলের দাবী বনপা’রস্টাফ রিপোর্টার :: “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮” খসড়ার কালো “৩২ ধারা” বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল এ্যাসোসিয়েশন (বনপা)।

আজ শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারী) শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচিতে এ দাবী জানানো হয়।

মানববন্ধনে বনপা’র সভাপতি সুভাষ সাহা বলেন, সাংবাদিকরা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে বর্তমান সরকারের সহযোদ্ধা। তাই আমাদের জোর দাবী প্রস্তাবিত “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮” কালো ধারা ৩২ সহ ২৫, ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারা অবিলম্বে বাতিল করে এই আইন পাশ করা হোক। না হলে ডিজিটাল তথা অনলাইন সাংবাদিকতার অধিকার খর্ব হবে এবং স্বাধীন ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্থ হবে।

উক্ত মানববন্ধনে বনপা’র মহাসচিব এ এইচ এম তারেক চৌধুরী বলেন, ডিজিটাল সাংবাদিকতার কন্ঠ রোধ করে এমন আইন চাই না। “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮” কালো ধারা ৩২ সহ ২৫, ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারা অবিলম্বে বাতিল করে এই আইন পাশ করা হোক। নাহলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার অধিকার হরন হবে। বর্তমান সরকার অনলাইন গণমাধ্যমের জন্য জাতীয় অনলাইন নীতিমালার খসড়া চুড়ান্ত করেছে, অবিলম্বে এই নীতিমালা জাতীয় সংসদে পাশ করা হোক এবং অনলাইন গণমাধ্যমের নিবন্ধন দেওয়া হোক।

বনপা’র অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা তাদের বক্তব্যে বলেন, আপনারা জানেন বহু আন্দোলন সংগ্রামের পরে বর্তমান সরকার জাতীয় অনলাইন নীতিমালা ২০১৭ চুড়ান্ত করেছে। অবিলম্বে নীতিমালাটি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে পাশ করা হোক এবং অবিলম্বে অনলাইন গণমাধ্যমগুলো বিনামূল্যে নিবন্ধন সহ সরকারী-বেসরকারী সকল সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হোক।

বনপা’র অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ ফয়েজ আহমেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট বি এইচ বেলাল, কোষাধক্ষ্য মোঃ কবির হোসেন, যুগ্ন মহাসচিব এ কে এম মিজানুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম মাহমুদ রিয়াজ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক জোহুরা পারভিন জয়া, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কবির আহমেদ লিঞ্জু, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবদুল ওয়াহেদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোঃ মুরাদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোঃ মোস্তফা খান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবদুল মান্নান সাগর, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তারিক হোসেন জনি, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোঃ জিয়াউর রহমান শরিফ প্রমুখ।

উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার গত ২৯ জানুয়ারী  মন্ত্রী পরিষদের নিয়মিত বৈঠকে “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮” খসড়ার চুড়ান্ত অনুমোদন দেয়। আমরা সরকারকে সাধুবাদ জানাই। প্রস্তাবিত আইনের “৩২ ধারায়” বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি বেআইনি প্রবেশের মাধ্যমে কোনো সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে কোনো ধরনের গোপনীয় বা অতিগোপনীয় তথ্য-উপাত্ত কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বা ডিজিটাল নেটওয়ার্ক অন্য কোনো ইলেকট্রনিক মাধ্যমে গোপনে ধারণ, প্রেরণ বা সংরক্ষণ করেন বা করতে সহায়তা করেন তাহলে তা গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ বলে গণ্য হবে। এর জন্য ১৪ বছরের জেল ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়াও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়ার ২৫, ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় বিলুপ্তি ঘোষনাকৃত আইসিটি আইনের ৫৭ ধারার অনুরূপ বক্তব্য যুক্ত করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

‘রামগতি উৎসব’

‘রামগতি উৎসব’ আজ: মিডিয়া পার্টনার ইউনাইটেড নিউজ

স্টাফ রিপোর্টার :: ঢাকায় বসবাসরত লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলা বাসীদের নবগঠিত সংগঠন ...