টিআর, কাবিখা প্রকল্পের চাল ব্যবসায়ি সিন্ডিকেটের দখলে!

টিআর, কাবিখা প্রকল্পের চাল ব্যবসায়ি সিন্ডিকেটের দখলে!জাহিদ আবেদীন বাবু, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি :: কেশবপুরে কাবিখা ও টিআর প্রকল্পে খাদ্য গুদাম থেকে সবরাহকৃত চাল নিন্মমানের ঘোষণা দিয়ে চাল ব্যবসায়িরা সিন্ডিকেট করে সরকার নির্ধারিত মূল্যের অর্ধেক দামেও ক্রয় করছে না। যার কারণে এ উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারে ৩৪টি প্রকল্পের অর্ধেকও বাস্তবায়ন হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার দাবি এ চালের গুনগত মান খুবই ভালো এবং মানুষের খাওয়ার উপযোগী। ডিলাররা অপপ্রচার চালাচ্ছে।

তবে একটি সূত্র জানায়, খাদ্য গুদামের চাল মিল মালিকদের চাতাল ঘুরে বার বার খাদ্য গুদামে প্রবেশ করায় চালের মান হ্রাস পেয়েছে। আর এ সুযোগ নিচ্ছে সেই চাল ব্যবসায়িরা ।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচীর আওতায় এ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারে ৩৪টি প্রকল্প বাস-বায়নে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচীর আওতায় (কাবিখা) বিশেষ কোটায় ৩০০ ও সাধারণ কোটায় ১৪৮ দশমিক ৮৬৭ মেট্রিক টন ও টিআর প্রকল্পে বিশেষ কোটায় ৩০০ মেট্রিক টন ও সাধারণ কোটায় ১৩৩ দশমিক ১৫৫৯ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়।

এর মধ্যে ত্রিমোহিনী ইউনিয়ন ৪টি, সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের ৩টি, মজিদপুর ইউনিয়নের ৩টি, বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের ৪টি, মঙ্গলকোট ইউনিয়নের ৩টি, কেশবপুর সদর ইউনিয়নের ৩টি, পাঁজিয়া ইউনিয়নের ৩টি, সুফলাকাটি ইউনিয়নের ৩টি ও গৌরীঘোনা ইউনিয়নের ৫টি প্রকল্প বাস্তবায়নে কাবিখা ৪৪৮ দশমিক ৮৬৭ মেট্রিক টন এবং মসজিদ, মন্দির, ক্লাব সংস্কার, সোলার স্থাপনে টিআর প্রকল্পে এ চাল বরাদ্দ দেয়া হয়।

এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রকল্প কমিটি গঠন করে ইতোমধ্যে ৫০ ভাগ চাল উত্তোলন করা হয়ে গেছে। সরকার গত সংগ্রহ অভিযানে মিলারদের কাছ থেকে প্রতি কেজী চাল ৩১ টাকা দরে ক্রয় করে খাদ্য গুদামে মজুদ করেছে।

চলতি টিআর, কাবিখা প্রকল্প বাস-বায়নে সরকার প্রতি মেট্রিক টন চালের বাজার মূল্য ৩৬ হাজার ৩৩৫ দশমিক ৫০ টাকা নির্ধারণ করেছে। সেই হিসেবে এ উপজেলায় বরাদ্দকৃত ৮৮২ মেট্রিক টন চালের দাম ৩ কোটি ২০ লাখ ৪৮ হাজার ৭৪৩ টাকা।

একাধিক প্রকল্প সভাপতি জানান, কেশবপুরের কালো বাজারের ডিলাররা এ চাল খাওয়ার অনুপযোগি, গো-খাদ্য, মাছের খাদ্য হিসেবে আখ্যা দিয়ে সিন্ডকেট করে প্রতি মেট্রিক টন চাল সাড়ে ১৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকায় ক্রয় করছেন। এ হিসেবে ৮৮২ মেট্রিক টন চালের বর্তমান বাজার মূল্য ১ কোটি ২৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

ফলে বর্তমান বাজার মূল্যে প্রকল্প কমিটিকে কাজ বাস্তবায়ন করতে হলে ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা গচ্চা দিতে হবে। অথচ সরকার নির্ধারিত মূল্যেই উপজেলা প্রকল্প বাসতবায়ন কর্মকর্তা ওয়ার্ক ওর্ডার দিয়েছেন। ফলে প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে প্রকল্প কমিটিকে। ডিলারদের সিন্ডিকেটের কারণে চালের বাজার মূল্য না থাকায় প্রকল্পের কাজ অর্ধেকও বাস্তবায়ন না হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এরপরও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সরকারের কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচী কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ রেখেই কাজ বাস্তবায়ন করছেন।

কেশবপুর বাজারের নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক এক ডিও ব্যবসায়ি বলেন, খাদ্য গুদাম থেকে সরবরাহকৃত চালের মান নিন্ম মানের হওয়ায় তা গো খাদ্য, মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। বাইরের ডিলাররা এ চাল কিনতে চাচ্ছে না। যার কারণে সরকার নির্ধারিত মূল্যের অর্ধেকেরও কম দামে এ চাল কিনতে হচ্ছে। তবে উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা প্রবোধ কুমার পাল ডিলারদের এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার গুদাম থেকে সরবরাহকৃত চালের গুনগত মান খুবই ভালো এবং খাওয়ার উপযোগি। ডিলাররা প্রকল্প কমিটিকে জিম্মি করে নামমাত্র মূল্যে এ চাল ক্রয় করছেন।

এছাড়া ভারতীয় এলসির চাল আমদানির কারণে চালের বাজার কিছুটা মন্দা যাচ্ছে। গত ২২ ফেবু্রয়ারী পর্যন্ত খাদ্য গুদাম থেকে টিআর ও কাবিখা প্রকল্পে ৩০০ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করা হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিপুল কুমার মালাকার বলেন, চালের বাজার মন্দা যাওয়ার কারণে কাজের গতি কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছে। তবে প্রকল্পের কাজ যাতে বাস্তবায়ন হয় সে জন্যে কাজ করে যাচ্ছি।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বাংলাদেশের উন্নয়নে ভারতের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ষ্টাফ রিপোর্টার ::  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উন্নয়নে ভারতের অব্যাহত সাহায্য এবং ...