ঝিনাইদহে কিশোর অপরাধীরা বেপরোয়া

ঝিনাইদহ শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহলস্নায় কিশোর অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় লালিত এ সব সন্ত্রাসীরা অপহরণ, চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজী, মাদক ব্যবসা, মেয়েদের যৌন হয়রানী এমন কি হত্যার মতো ভয়ানক অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

অপরাধ সংঘটিত হবার পর পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া এ সব কিশোর অপরাধীরা অপকটে তাদের অপরাধের কথা স্বীকারও করেছে। কলেজ ছাত্র শাহেদ, স্কুল ছাত্র অনত্মর ও শ্রাবনী হত্যার সঙ্গে জড়িত গ্রেফতারকৃতরা সবাই কিশোর বলে পুলিশ জানায়।

অন্যদিকে স্কুলগামী ছাত্রীদের যৌন হয়রানীর দায়ে জেলায় ইতিমধ্যে কিশোর বখাটে সজল, রাজু ও জাহিদকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

জানা গেছে, সন্ধ্যা হলে পাড়ায়-মহলস্নায় দল বেধে এ সব টিনএজ সন্ত্রাসীরা বিচরণ করে থাকে। নারীঘটিত বিষয় নিয়ে এরা বিচার শালিস বসিয়ে হাতিয়ে নেয় কাড়ি কাড়ি টাকা। এ ভাবে তাদেরকে টেন্ডারবাজীর মতো জঘন্য পেশায় এক সময় ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

ধারালো ও আগ্নেয়াস্ত্র পরিচালনায় পারমাঙ্গ হয়ে এক সময় শহরের দুধর্ষ সন্ত্রাসী বনে যায় কিশোর থেকে যুবক।

পুলিশ সুত্রে জানা গেছে জেলা শহরের ব্যাপারীপাড়া কিশোর অপরাধীদের নিরাপদ আসত্মানা গড়ে উঠেছে। এ সব সন্ত্রাসীরা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অপহরণ, ছিনতাই, চাঁদাবাজী ও রাতে চুরিদারীর মত জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত। ছিনতাই করতে গিয়ে মানুষ এদের হাতে খুনও হচ্ছে।

সমপ্রতি ১৩ জানুয়ারী কাঞ্চননগর মডেল হাই স্কুলের দশম শ্রেনীর ছাত্র অনত্মর রায় চৌধুরী অপহরণের পর নিহত হওয়ায় এ সব কিশোর অপরাধীরা একযোগে গা ঢাকা দিয়েছে। ব্যাপারীপাড়ায় কতিপয় মাদক বিক্রেতাদের পথভ্রষ্ট কিশোর ছেলেরা এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশ নিশ্চত হয়েছে।

জানা গেছে, অপহরণের সময় অনত্মর রায় চৌধুরীর কাছে দামী একটি মোবাইল সেট ছিল। সেটি ছিনতাই করতে গিয়ে সে সন্ত্রাসীদের চিনে ফেলে। এই চিনে ফেলায় তার কাল  হয়ে দাড়ায়। ব্যাপারীপাড়ার একটি নির্জন স্থানে এনে অনত্মরকে প্রথমে গলায় ফাঁস দিয়ে এবং পরে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার পর তাকে স্থানীয় সরকারী বালক বিদ্যালয় মাঠে ফেলে রেখে যায় সন্ত্রাসীরা।

অনত্মর হত্যার সঙ্গে যাদের সন্দেহ করা হচ্ছে তাদের বয়স সবার ১২ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। ৫ জন কিলিং মিশনে অংশ নিলেও এই দলে আছে ২০ থেকে ৩০ জন। এদের বাড়ি ব্যাপারীপাড়া, আদর্শপাড়া, হামদহ, কোরাপাড়া ও চাকলাপাড়ায় বলে বিশ্বসত্ম সুত্রে জানা গেছে।

এ সব সন্ত্রাসীরা ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় থেকে একের পর এক অপরাধ করে গেলেও পুলিশ এতো দিন ছিল সম্পূর্ন নির্বিকার। কলেজ ছাত্র চাকলাপাড়ার শাহেদ ও ব্যাপারীপাড়ার অনত্মর, এবং হলিধানীর শ্রাবনী হত্যার পর পুলিশের টনক নড়ে।

নিজেদের মধ্যে ছিনতাই ও চাঁদার টাকা নিয়ে ভাগাভাগীর কারণে প্রায় এসব টিনএজআরদের মধ্যে সংঘর্ষ মারামারী হয়।

পুলিশের একটি সুত্র জানায় চাকলাপাড়ার কলেজ ছাত্র শাহেদ হত্যার সঙ্গে জড়িত গ্রেফতারকৃতদের মধ্যেও রয়েছে কিশোর অপরাধীরা। আবার হলিধানী থেকে অপহৃত স্কুল ছাত্রী শ্রাবনী হত্যার সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া কলম ও রোমান আহম্মদের বয়সও বেশি নয়।

ঝিনাইদহ শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে বখাটে কিশোররা স্কুলগামী ছাত্রীদের উত্যক্ত করছে। ক’দিন আগে সজল, রাজু ও জাহিদ নামে ৩ বখাটে কিশোরকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

বিষয়টি নয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শহরের বেশির ভাগ কিশোর অপরাধী রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় লালিত। পাড়ায় পায় অপরাধ করে সন্ধ্যায় এদেরকে শহরে পার্টি অফিস বা নেতাদের অফিসের সামনে ঘুরতে দেখা যায়। আর রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকার কারনে এদের সঠিক বিচার করা সম্ভব হয়না।

একের পর এক অপহরণ , ছিনতাই, গুম, চাঁদাবাজির ঘটনায় ঝিনাইদহ বাসি অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন। সাধারন মানুষ দিনের বেলাতেও পথে-ঘাটে বের হতে ভয় পাচ্ছেন এমনকি সন্ধ্যার পর রাসত্মায় বের হওয়াতো তাদের জন্য এক আতঙ্কের। কারন যে কোন সময় হারাতে হতে পারে নিজের মূল্যবান জীবন।

তাই সাধারন মানুষের দাবি যেন, এই সব জঘন্যতম অপরাধ বন্ধের জন্য এখনই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যাতে করে মানুশষ তাদের জান-মাল, সম্পদের নিরাপত্তা পায়।

ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডট কম/শাহারিয়ার/ঝিনাইদহ

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ইনজেকশন দেয়া গরু চিনবেন যেভাবে

ষ্টাফ রিপোর্টার ::ঈদুল আজহার আর মাত্র ক’দিন বাকি। ঈদুল আজহা মূলত মহান ...