জেলা ভিত্তিক বাজেটে নারীদের স্থানীয় চাহিদা ভিত্তিক প্রকল্প প্রয়োজন: ড. সায়েমা হক বিদিশা

সামগ্রীক উন্নয়নে বাজেট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আগামী সংসদ অধিবেশনে জাতীয় বাজেট ২০১৫-১৬ উপস্থান করা হবে। এ বাজেট নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের থাকে নানান কৌতহল, থাকে মতামত-পরামর্শ। বাজেটে নারী তার কতটুকু অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে পাশাপাশি আগামী বাজেটে তাদের প্রত্যাশা কি? দেশের বিশিষ্ট নারী জনদের কাছে এ সব প্রশ্নের উত্তর জানার চেষ্টা করেছেন আ হ ম ফয়সল

ড. সায়েমা হক বিদিশা সহযোগী অধ্যাপক (অর্থনীতি বিভাগ), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ড. সায়েমা হক বিদিশা, সহযোগী অধ্যাপক (অর্থনীতি বিভাগ), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

তিনি বলেন, সরকার মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে যে বাজেট বরাদ্দ দেয় তা নিতান্তই কম। ২০০৬ সাল থেকে জেন্ডার বাজেট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নারী বান্দব যে সকল প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে তার একটি হিসাব বা তুলে ধরা হয়েছে। গত অর্থ বছরে ২৬-২৭ ভাগ নারী বান্দব বরাদ্দ বলা হয়েছে। আমাদের দেশে জেন্ডার ডিজেনিগেটেড ডাটা কিন্তু আমাদের দেশে বেশি একটা নেই। সেটার কারনে অনেরক সময় অনুমানের ভিত্তিতে করতে হয়- এই প্রকল্পে নারীরা এত পার্সেন্ট উপকৃত হবে আর পুরুষরা এত পার্সেন্ট উপকৃত হবে।

তিনি আরো বলেন, বাজেটে বরাদ্দের কথা বলা হয় শুধু মাত্র কিন্তু বিগত বাজেট কতটা লক্ষ্য অর্জণ করেছে সেটা আমরা খোজ নেই না। যেটির দিকে আমাদের নজর দেয়া প্রয়োজন। এ জন্য জেন্ডার বাজেট ঘোষিত মন্ত্রণালগুলোর একটি লক্ষ থাকতে হবে এবং বাজেট ঘোষণার পূর্বে কতটুকু লক্ষ অর্জিত হয়েছে তার একটা চিত্র থাকা উচিত, এক কথায় বিগত বাজেটের একটি মূল্যায়ন থাকা উচিত। সেই আলোকে পরবর্তী বাজেট বরাদ্দ করলে সচ্চতা বেশি থাকবে।

সায়েমা হক বিদিশা বলেন, এ ছাড়া বিষয়টিওত মানুষের জানার অধিকার আছে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টুনির আয়োতায় কিছু কিছু প্রকল্প আছে সরাসরি নারীদের জন্য কাজে লাগছে, সেগুলোর ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে পাশাপাশি নারীদের কর্মক্ষমতার উন্নয়নে সুনির্দষ্টভাবে কিছু কার্যক্রম হাতে নিতে হবে। জেলা ভিত্তিক বাজেট শুরু হয়েছে, সেখানে স্থানীয় চাহিদা ভিত্তিক নারীদের জন্য প্রকল্পর গ্রহণ করা যেতে পারে।

সায়েমা হক বিদিশা আরো বলেন, মাতৃস্বাস্থ্যের জন্য যে ভাতা দেয়া হয় তার পরিধি ও পরিমান বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। তৃণমূল এলাকার স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য ভ্রাম্যমান ক্লিনিক তৈরীর উদযোগ নেয়া যেতে পারে। নারীর পুষ্টি চাহিদা পূরণের বিষয়টির দিকে নজর দিতে হবে। গ্রাম পর্যায়ে ধাত্রিদেরকে প্রশিক্ষিত করার জন্য বাজেট বরাদ্দ থাকতে পারে। কারগরি শিক্ষায় মেয়েরা আসতে চায় না, এ ক্ষেত্রে বৃত্তির উদযোগ নেয়া প্রয়োজন।

তিনি অরো বলেন, নারী উদ্দোক্তা বাড়ানোর জন্য ‘জয়িতা’রমত প্রতিষ্ঠানের পরিধি বাড়াতে হবে। উদোক্তা নারীদের ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য ব্যাংগুলো গহনাকে আমানত হিসেবে নিতে পারে। যাতে করে নারীরা সহজে ঋণ পেতে পারে। গ্রামের নারীদের উদোক্তা তৈরীতে উপজেলা পর্যায়ে একটি সেল তৈরী করা যেতে পারে। কৃষিতে নারীর অনেক শ্রম আছে। এ ক্ষেত্রে নারী কৃষকদের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু উদযোগ নেয়া যেতে পারে। কর্মজীবী নারীদের জন্য শহর এলাকায় ডে-কেয়ার স্টোর তৈরীরর জন্য সরাসরি বরাদ্দ থাকা প্রয়োজন এবং সরকার ভূর্তকি দিয়ে এ সেন্টার গুলো পরিচালনা করতে পারে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বুলেট ট্রেনে

বাংলাদেশ হয়ে কলকাতা পর্যন্ত বুলেট ট্রেনের পরিকল্পনা চীনের

ডেস্ক নিউজ :: সড়ক, রেল ও জলপথে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে ...