জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার ৬২ রানের জয়

millerস্পোর্টস ডেস্ক :: শুরুতে একটু চমকে গিয়েছিলো দক্ষিণ আফ্রিকা। ৮৩ রানে তাদের ৪ উইকেট পড়ে গিয়েছিলো। আবার জিম্বাবুয়ে তাদের চমকে দেয় ব্যাট হাতে।
২ উইকেটে ১৯১ রান তুলে নিয়েছিলো তারা। তাতে দক্ষিণ আফ্রিকার দেয়া ৩৪০ রানের চ্যালেঞ্জের পেছনে ছোটার মতো ব্যাপারই দাঁড়িয়েছিলো।
কিন্তু বোলিংয়ের সময় যেমন পারেনি জিম্বাবুয়ে, ব্যাটিংয়েও তেমন পারেনি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৬২ রানের ঘাম ঝড়ানো জয় পেলেও খুশি হবারই কথা দক্ষিণ আফ্রিকার। কারণ বিশ্বকাপ ফেভারিটদের ব্যাটসম্যান ও বোলাররা সব পরীক্ষায়ই পাশ করেছে।
টস হেরে আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ৩৩৯ রান করেছিলো দক্ষিণ আফ্রিকা। তাতে ডেভিড মিলার ও জেপি ডুমিনির সেঞ্চুরির অসাধারণ ভূমিকা। পঞ্চম উইকেটে বিশ্বরেকর্ড গড়া ২৫৬ রানের জুটি গড়েছেন তারা। আর রানের নিচে চাপা পড়ার অবস্থা হয়েছে জিম্বাবুয়ের।
তবু তারা মাথা উচু করেই লড়েছে। দ্বিতীয় উইকেটে চিবাবা ও মাসাকাদজা ১০৫ রানের জুটি বেধেছেন। তাতে লড়াইয়ের মাঠ ছিলো উন্মুক্ত। চিবাবা ৬৪ রান করেন।
আর মাসাকাদজা দলের ১৯১ রানে আউট হয়েছেন ৭৪ বলে ৮০ রান করে। এই দুইয়ের পর কেবল টেলরই ৪০ রানের একটা লড়াই দেখাতে পেরেছেন।
তাতে দলের সংগ্রহ ২৭৭ হয়েছে সব মিলিয়ে। ৪৮.২ ওভারে জিম্বাবুয়ে হয়েছে অলআউট। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন ফিল্যান্ডার, মর্কেল। স্পিনার ইমরান তাহির পেয়েছেন ৩ উইকেট।
এর আগে, ১০ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর ৮৩ রানে দক্ষিণ আফ্রিকার নেই ৪ উইকেট। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এমন ধাক্কা খাওয়ার কথা কেউ আগে ভাবতে পারেনি।
কারণ, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে ব্যাটিংয়ে বিস্ফোরণ ঘটানোই প্রোটিয়াদের চরিত্রের বড় এক দিক। ডি কককে (৭) চাতারা তুলে নিয়েছেন। এই সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হাশিম আমলাও (১১) ৯ম ওভারে নেই। তিনি হয়েছেন পানিয়াঙ্গারার শিকার।
ফাফ ডু প্লেসি (২৪) দলের ৬৭ রানের সময় আউট চিগাম্বুরার বোলিংয়ে। ওয়ানডে ইতিহাসের দ্রুততম সেঞ্চুরির মালিক দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্সও (২৫) প্রতিরোধ গড়তে পারেননি।
কিন্তু কে জানতো তারপর কি হবে! ডেভিড মিলার ও ডুমিনি একটু একটু করে এগিয়েছেন শুরুতে। প্রতিরোধ গড়েছেন। দলের সেরা চার ব্যাটসম্যানকে হারানোর পর একটু সামলে নিয়েই ঝড় তুলেছেন দুজন। ঝড়ের আগে ৫৫ বলে ফিফটি করেছেন মিলার।
আর ৬৮ বলে ৫০ রান এসেছে ডুমিনির ব্যাট থেকে। ১১২ বলে এই জুটির প্রথম ১০০ রান এসেছে। ৪১তম ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার ২০০ রান এসেছে। তারপর জিম্বাবুয়ের বোলারদের চোখে পানি এনে দেওয়ার মতো নির্মমতা দেখিয়েছেন মিলার ও ডুমিনি।
৮১ বলে ৬ ছক্কা ও ৩ চারে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন মিলার। পঞ্চম উইকেটে ২০০ রান এসেছে ১৬২ বলে। ৪৬তম ওভারে ২৫০ পেরিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৯৬ বলে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরিটা করেছেন ডুমিনি। ১৭৮ বলে পঞ্চম উইকেটে ২৫০ রান এসেছে।
বোঝাই যাচ্ছে শেষের দিকে কেমন নির্মম হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৪৮তম ওভারে ৩টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৩০ রান তুলেছেন মিলার।
৯২ বলে ৯টি ছক্কা ও ৭টি চারে ১৩৮ রানে অপরাজিত থেকেছেন মিলার। আর ১০০ বলে ৯ চার ও ৩ ছক্কায় ১১৫ রান করে অপরাজিত ডুমিনি। অসাধারণ ব্যাটিংয়ে এই দুজন প্রতিরোধ ও আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী দেখিয়ে দলকে দিয়েছেন স্বস্তি।
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশে

স্টাফ রিপোর্টার :: সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে পা রেখেছে ...