জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে বাংলাদেশের জয়

জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে বাংলাদেশের জয়স্টাফ রিপোর্টার :: দুই দলের ব্যবধান স্পষ্ট থাকায় জয়টা প্রত্যাশিতই ছিল বাংলাদেশের। আজও জয় পেতে বেগ পেতে হয়নি বাংলাদেশকে। হেসেখেলেই জিম্বাবুয়েকে হারিয়েছে লাল-সবুজের জার্সিধারীরা।

আগেই ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল নিশ্চিত করায় বাংলাদেশ শিবিরে ছিল স্বস্তি। অন্যদিকে ফাইনালের টিকিট পেতে জিম্বাবুয়ের দরকার ছিল বোনাস পয়েন্টসহ জয়। কিন্তু আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশের সামনে জিম্বাবুয়ের আবারো অধঃপতন।

বল হাতে লড়াই করলেও ব্যাট হাতে জিম্বাবুয়ের পারফরম্যান্স তলানিতে। আগে ফিল্ডিং করে বাংলাদেশকে আটকে রাখে ২১৬ রানে। এ রান তাড়া করতে গিয়ে জিম্বাবুয়ের রান মাত্র ১২৫। ৯১ রানের জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে হট ফেবারিট দল হিসেবে নিজের অবস্থান আরও পোক্ত করল মাশরাফিবাহিনী।

গ্রায়েম ক্রেমার ও কাইল জারভিসের দারুণ বোলিংয়ে ১৭০ রানে ৮ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। যেখানে ৩৪তম ওভারে বাংলাদেশের রান ছিল ২ উইকেটে ১৪৬। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে ধস নামে ৩৫তম ওভার থেকে।

ক্রেমারের করা প্রথম বলে এক রান নিয়ে ওয়ানডেতে ছয় হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তামিম ইকবাল। পরের বলে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ দেন মুশফিক। এরপর ২৩ রান তুলতেই বাংলাদেশ হারায় ৫ উইকেট। মাত্র ৪৭ বলে ৫ উইকেট হারিয়ে দুই’শ রানের আগে গুটিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয় বাংলাদেশের।

সেখান থেকে বাংলাদেশকে পথ দেখান মুস্তাফিজুর রহমান ও সানজামুল ইসলাম। নবম উইকেটে এ দুই বাঁহাতি ২৬ রান এবং দশম উইকেটে মুস্তাফিজ ও রুবেল ২০ রান যোগ করে বাংলাদেশের রান ২১৬ তে নিয়ে যান।

ক্রেমার ৩২ রানে ৪ উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়ের সেরা বোলার। আর পেসার জারভিস নেন ৩ উইকেট। বল হাতে জিম্বাবুয়ের স্পিনাররা এতটাই ভালো ছিলেন যে তিন স্পিনার ক্রেমার, সিকান্দার রাজা, ম্যালকম ওয়ালার ২৭ ওভারে মাত্র ৪ বাউন্ডারি হজম করেন।

টস জিতে ধীরগতির উইকেটে মাশরাফির ব্যাটিং নেওয়ার সিদ্ধান্তকে যথার্থ প্রমাণ করতে পারেননি ওপেনার এনামুল হক বিজয়। দিনের শুরু থেকেই ভুগতে থাকা এনামুল জারভিসের সোজা বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফিরেন। তবে তামিম ও সাকিব ঠিকই দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন। দুজন ১০৬ রানের জুটি গড়েন। তবে ১৪তম ওভারের আগ পর্যন্ত পেসারদের বিপক্ষে খুব সহজেই খেলছিলেন তারা। স্পিনারারা বোলিং আসার পর রান তোলায় ধীর গতি নেমে আসে। পাশাপাশি বাউন্ডারিও আসছিল না।

৭৮ বলে টানা দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নেওয়ার পর সাকিব আউট হন সিকান্দার রাজার বলে। উইকেটে এসে চটজদলি রান তুলতে গিয়ে সাজঘরে ফিরেন মুশফিক। ক্রেমারের বলে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে ক্যাচ দেন মাত্র ১৮ রানে। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে উইকেটে থিতু হতে দেননি ক্রেমার। দারুণ এক গুগলিতে মাহমুদউল্লাহ আউট হন মাত্র ২ রানে। সেট ব্যাটসম্যান তামিমের প্রয়োজন ছিল উইকেটে টিকে থাকার। কিন্তু অসময়ে ভুল এক শট খেলতে গিয়ে সাজঘরের পথ ধরেন এ ওপেনার। ক্রেমারকে তুলে মারতে গিয়ে ৭৬ রানে আউট হন দেশসেরা ওপেনার।

এরপর সাব্বির ও নাসির হতাশ করেন মিরপুরের দর্শকদের। দলের অবদান রাখার সবথেকে বড় সময়ে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন দুজন। মাশরাফিকে ফিরিরে স্বাগতিক শিবিরে চতুর্থ আঘাতটি করেন ক্রেমার। সেরা ব্যাটসম্যানদের হারানোর পর সানজামুল, মুস্তাফিজ ও রুবেল দায়িত্ব নিয়ে দলকে সম্মানজনক স্কোর এনে দেন।

লো স্কোরে জয় পেতে শুরুতেই দরকার ছিল উইকেট। দায়িত্বটা নিজ কাঁধেই নেন অধিনায়ক মাশরাফি। তার আউটসুইঙ্গারে স্লিপে সাব্বিরের হাতে ক্যাচ দেন হ্যামিলটন মাসাকাদজা (৫)। এরপর সাকিব জোড়া আঘাত করেন জিম্বাবুয়ে শিবিরে। সোলোমন মিরে শর্ট বলে সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন ৭ রানে। পরের বলেই ব্রেন্ডন টেলর এলবিডব্লিউ শূন্য রানে। মাশরাফি বেশিক্ষণ টিকতে দেননি আরভিনকে। ক্রস সিমে বল করে আরভিনকে স্লিপে তালুবন্দি করান নড়াইল এক্সপ্রেস।

৩৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ শুরুতেই হেরে বসে জিম্বাবুয়ে। শুরুর আক্রমণের পর মুস্তাফিজ বোলিংয়ে এসে নতুন আক্রমণ যোগ করেন। তার করা প্রথম তিন ওভারে কোনো রানই নিতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। চতুর্থ ওভারের শেষ বলে এক রান নেন মুর।

পেসারদের পাশাপাশি স্পিনাররাও ছিলেন দারুণ। সাকিবের পর সানজামুল জোড়া আঘাত করেন জিম্বাবুয়ে শিবিরে। পিটার মুর ১৪ রানে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরার পর ম্যালকম ওয়ালারও এলবিডব্লিউ হন। সপ্তম উইকেটে ক্রেমার ও সিকান্দার রাজা ২৭ রানের জুটি গড়েন। ৩০তম ওভারের প্রথম বলে এ জুটি ভাঙেন রুবেল হোসেন। ডানহাতি এ পেসারের বলে এলব্লিডব্লিউ হন ২৩ রান করা ক্রেমার। সিকান্দার রাজাকে ফেরানোর দায়িত্ব নেন মুস্তাফিজ। ৫৯ বলে ৩৯ রান করে মুস্তাফিজের বলে বোল্ড হন রাজা। এরপর সাকিব চাতারা এবং মুস্তাফিজ জারভিসকে ফেরালে ১২৫ রানে শেষ হয় সফরকারীদের ইনিংস।

সাকিব ৩৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে আবারও বোলিংয়ে সেরা। ২টি করে উইকেট নেন সানজামুল, মুস্তাফিজ ও মাশরাফি। ১৮ রানে ১টি উইকেট নেন রুবেল।

সাকিব অলরাউন্ড পারফরম্যান্স করলেও ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে তামিমের হাতে। তার গুরুত্বপূর্ণ ৭৬ রানের ইনিংস বড় ব্যবধান গড়ে দিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আগের নয় ম্যাচের নয়টিতেই জয় বাংলাদেশের। আজ প্রাপ্তির খাতায় যোগ হলো আরেকটি পালক।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মুশফিকের সামনে শুধুই কোহলি

ষ্টাফ রিপোর্টার ::  এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ১৪তম আসরের প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষে ...