জামালপুরে নির্যাতন ও প্রতারণা শিকার খালেদা

জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নের লোন্দহ গ্রামের গৃববধূ খালেদা বেগম স্বামী ও শশুরের নিমর্ম নির্যাতন ও প্রতারণা শিকার হয়ে বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়,জামালপুর সদরের লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নের চরযথার্থপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ও জামালপুর পৌর শহরের শাহপুর এলাকার অস্থায়ীভাবে বসবাসরত আহম্মদ আলীর কন্যা স্বামী পরিত্যক্তা খালেদা বেগম (৪৮) এর সাথে ৯নং রানাগাছা ইউনিয়নের লোন্দহ গ্রামের নজর আলী নজর ছেলে হেকমত আলীর সাথে ২০০৮ সনের ১ মে তারিখে বিয়ে হয়।

বিয়ের পর হেকমত আলীর কু নজর পড়ে স্ত্রী খালেদা বেগমের বিভিন্ন এনজিও সমিতির মাধ্যমে এবং বিভিন্ন বাসা বাড়ীতে কাজ করে তিল তিল করে জমানো টাকার উপর।

স্বামী হেকমত আলী ব্যবসাসহ নানা উপায়ে উপার্জনের জন্য খালেদার কাছে ওই টাকা চেয়ে বসে।

খালেদা বেগমও জীবনের শেষ প্রানেত্ম এসে একটু সুখের কথা চিনত্মা করে স্বামী হেকমত আলীর হাতে তুলে দেন তার জমানো শেষ সম্বলটুকু।

বিভিন্ন সময় দফায় দফায় খালেদা বেগম মোট দুই লাখ দুই হাজার টাকা তুলে দেন স্বামী হেকমতের হাতে।

যতদিন টাকা দিতে  পেরেছে খালেদাকে সে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছে।

গত দুই মাস আগে হেকমত আলী খালেদার কাছে আরও টাকা দাবি করে।

কিন্তু টাকা দিতে অস্বীকার করায় তার উপর নেমে আসে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন।

এক পর্যায়ে  স্ত্রী খালেদাকে স্বামী হেকমত আলী ও শশুর নজর আলী বেদম প্রহার করে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেয়।

শরীরে জখম নিয়ে খালেদা চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে।

সেখানে ৩দিন চিকিৎসা গ্রহনের পর বাড়ী ফিরে যান।

বাড়ী ফিরে যাওয়ার পর খালেদা বেগম ভন্ড প্রতারক স্বামী হেকমত আলী ও শশুর নজর আলীর শাসিত্মর ও টাকা ফেরতের দাবিতে সমাজ পতিদের কাছে ধর্না দিচ্ছেন।

রোববার সকালে ৯নং রানাগাছা ইউনিয়ন পরিষদে খালেদা বেগম চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এ সময় খালেদা উপস্থিত ইউনাইটেড নিউজ টয়েন্টিফোর ডটকম’র এই প্রতিনিধির কাছে বলেন, আমি আজ প্রতারণা শিকার।

আমার স্বামী হেমকত আলীর আগের স্ত্রী ও ছেলে মেয়ে রয়েছে এ কথা আমার কাছে সে সব সময় গোপন রাখে।

তার বউ ছেলে  মেয়ে বর্তমানে ঢাকার আব্দুলস্নাহপুর থাকলেও কয়েকদিন আগে তাদের সে নিজ বাড়ীতে নিয়ে এসেছে।

সে এখন আগের বউ ছেলে মেয়েকে নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। আমি টাকা ফেরত চাইতে গেলে সে আমাকে খুন জখমের হুমকি দিয়েছে এবং বলেছে তুই টাকা পাবি না।

টাকা টাকা করলে  তোকে মেরে ফেলব। তুই তোর বাপের বাড়ী চলে যা।

অসহায় প্রতাণার ও নির্যাতনের শিকার খালেদা বেগম ন্যায্য বিচার দাবি করেছেন।

ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডট কম/ছাইদুর রহমান/জামালপুর।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

খুলনা বিএল কলেজ ছাত্রী গৃহবধূ সোনালী

‘যদি মরে যাই তাহলে শুধু রবিনই দায়ী থাকবে’

মহানন্দ অধিকারী মিন্টু, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি :: খুলনার পাইকগাছায় মৃত্যুর পূর্বে খুলনা বিএল ...