জাতীয় পতাকার আদলে পানির ফোয়ারা উদ্ভাবন

জাতীয় পতাকার আদলে পানির ফোয়ারা উদ্ভাবনমোনাসিফ ফরাজী সজীব, মাদারীপুর প্রতিনিধি :: বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার আদলে পানির ফোয়ারা উদ্ভাবন করে সবাইকে তাকলাগিয়ে দিয়েছে মাদারীপুরের কালকিনির রমজানপুর ডক্টর আবদুস সোবহান গোলাপ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ইলেকট্রনিক্স বিভাগের চতুর্থ বর্ষের দুই ক্ষুদে বিজ্ঞানী নিউটন ও সাকিব।

এ কৃতি দুইশিক্ষার্থী স্বপ্ন আকাশ ছোঁয়া। তারা আধুনিক প্রযুক্তির সাথে তালমিলিয়ে উদ্ভাবন করতেচায় নতুন নতুন কিছু। তাই দেশ প্রেম ও বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান জানাতে তারা দুই বন্ধু নিউটন হাওলাদার ও সাকিব ইসলাম পানির সাহায্যে উদ্ভাবন করেছে লাল-সবুজের পতাকা।

কালকিনি উপজেলাসদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিনের প্রত্যন্তগ্রামের এক ইউনিয়ন রজমানপুর।

এ ইউনিয়নের উত্তর রমজানপুর গ্রামে প্রতিষ্ঠিত ডক্টর আবদুস সোবহান গোলাপ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট।

সম্প্রতি এই ইন্সটিটিউটের মাঠের এক প্রান্তে গিয়ে দেখাযায় দৃষ্টিনন্দন পানির ফোয়ারা। এর মধ্যে ঝলমল করছে লালসবুজের পতাকা। যা দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন শতশত দর্শনার্থী।

দুই ক্ষুদে বিজ্ঞানী নিউটন ও সাকিবের সাথে কথা বলেজানা গেছে, চলতিবছর জানুয়ারী ব্যক্তিগত কাজে ঢাকায় যায় এ দুইশিক্ষার্থী। সন্ধ্যার পর ঢাকার বিভিন্ন স্থানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে কয়েকটি ফোয়ারার দৃশ্য দেখে। তখনই তাদের মনে পানির ফোয়ারা দিয়ে লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা উদ্ভাবনের চিন্তা মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকে। তাই তারা তাদের মনের গভীরে উদ্ভাবনী চিন্তা ধারণ করে বাড়ি ফেরার অপেক্ষায়। বাড়িতে ফিরেই কিভাবে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করাযায় তানিয়ে ভাবতে থাকেন।

ইনস্টিটিউটের শিক্ষক আর সহপাঠীদের উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে পাঁচমাস ধরে নিজেদের অর্থ আর কঠোর পরিশ্রম দিয়ে কাজ শুরু করে।

শিক্ষার্থীরা আরো জানায়, দৃষ্টিনন্দন এই পতাকা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে চারটি ইলেকট্রনিক্স পাম্পমটর, লাল ও সবুজ রঙমিশিত পানি, ১৫০টি গেট বল, ১৫০টি তামার এসিডপাইপ, ইলেকট্রনিক্স সার্কিটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম। এসব সরঞ্জামের দ্বারা প্রযুক্তি ব্যবহার করেই এটা উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছে তারা।

তাদের উদ্ভাবিত ফোয়ারা চারফুট দৈর্ঘ্যের একটিলাল-সবুজের পতাকা। যার নাম দেয়া হয় ‘ডিজিটাল ওয়াটার বাংলাদেশ ন্যাশনালফ্লাগ’।

সরকারের অনুমতি ও সহযোগিতা পেলে জাতীয় পতাকার আদলে উদ্ভাবিত এই ফোয়ারা আরো আধুনিক করে গণভবন ও বঙ্গভবনে স্থাপন করতে চায় এই দুই ক্ষুদে বিজ্ঞানী।

উদ্ভাবক নিউটন হাওরাদার ও সাকিব ইসলাম বলছে, ‘আমরা প্রথমত লাল-সবুজের জাতীয় পতাকার আদলে ফোয়ারা উপস্থাপনকরি। এখন এটি একেবারেই অগোছালো। তবে আরো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলে এই পতাকা নতুন আকার নিবে। আপতত আর্থিক সমস্যার করণে আমরা এর উন্নতকরতে পারছি না।তবে, সরকারের অনুমতি ও সহযোগিতা পেলে এটি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সম্মুখে স্থাপন করতে চাই। আর এটাই আমদের স্বপ্ন। আমরা দেশের বিভিন্ন স্থানে দেখি বিভিন্ন ধরণের ফোয়ারা। পানির এই ফোয়ারায় যদি জাতীয় পতাকা থাকে তাহলে ছোট-ছোট শিশুরা এসব দেখে দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে এবং আমাদের জাতীয় পতাকাকে সম্মান জানাবে।’

ডক্টর আবদুস সোবহান গোলাপ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ সালাউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘আমাদের নতুন প্রতিষ্ঠান। নিউটনরাই ইলেকট্রনিক্স বিভাগের প্রথম ব্যাচ।আমরা দেখেছি ওরা নিজেদের অর্থায়নে ঝর্ণার আকারে দেশের জাতীয় পতাকা উদ্ভাবন করেছে। আমরা ওদের কাজে সহযোগিতা করেছি। তবে, এ ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণার জন্য সরকার বেশি অর্থ বরাদ্দ দিলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে। ফলে নতুন কিছু উদ্ভাবনে আমরা শিক্ষার্থীদের আরো উৎসাহ দিতে পারবো।’

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

চার বছরের কারাদণ্ড, রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশ স্টাফ রিপোর্টার :: সাবেক মন্ত্রী ...