ব্রেকিং নিউজ

জল্লাদ ও মঞ্চ প্রস্তুত এখন শুধুই অপেক্ষা

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদষ্টাফ রিপোর্টার :: রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়ে দুই দফায় জানতে চেয়েও কারা কর্তৃপক্ষ বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের কাছ থেকে কোনো সাড়া পায়নি।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দ-প্রাপ্ত দুজন বারবার পরিবার ও আইনজীবীদের দোহাই দিচ্ছেন। তবে সরকারি সূত্রে বলছে, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত না জানালেও তাদের ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। জল্লাদরাও তৈরি। এখন শুধু সিদ্ধান্তের অপেক্ষা।
সূত্রটি জানায়, শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে ১২টা ১০ মিনিট পর্যন্ত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবীর ও জেলার নেসার আলম তাদের দুজনের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সাকা ও মুজাহিদ একই উত্তর দিয়েছেন। তারা কারা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, আইনজীবী ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে জানাবেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় রিভিউ আবেদন খারিজের আদেশ পড়ে শোনানোর সময়ও কারা কর্তৃপক্ষ তাদের কাছে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়টি জানতে চেয়েছিলেন। তখনও তারা একই উত্তর দেন।

যদিও ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়টি দ-প্রাপ্তদের নিজেদেরই নিতে হয়। কিন্তু তারা দুজন তা বুঝতে চাচ্ছেন না। তারা বারবার পরিবার ও আইনজীবীদের দোহাই দিয়ে যাচ্ছেন।
সূত্রটি জানায়, সাকা ও মুজাহিদের আইনজীবীরাও সাক্ষাতের জন্য কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে আইনগত কোনো বিষয় এখন আর বাকি না থাকায় আইনজীবীদের সাক্ষাতের সুযোগ আর নেই বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। তবে শেষ মুহূর্তে দ-প্রাপ্তদের স্বজনরা সাক্ষাৎ পেতে পারেন।
সাকা ও মুজাহিদ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের রজনীগন্ধা সেলে পাশাপাশি কক্ষে রয়েছেন। সেলটির নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। তিনজন কারারক্ষী তাদের সেলের সামনে দায়িত্ব পালন করেন। কিছুক্ষণ পরপর একজন ডেপুটি জেলার ওই সেলে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নিচ্ছেন।
এদিকে রায় কার্যকরের প্রস্তুতি বিষয়ে শুক্রবার সচিবালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, ফাঁসি কার্যকর যে কোনো মুহূর্তে হতে পারে এবং এর প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে। ওই সভার পরপরই কারাগারে জরুরি বৈঠকে বসেন আইজি (প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি করে তাদের মৃত্যুদ-াদেশ বহাল রেখে রায় দেয় আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে সুপ্রিমকোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার আবু তাহের ভূঁইয়া দুটি রায়ের কপি ট্রাইব্যুনালে পৌঁছে দেন। তারপর রাত পৌনে ৯টার দিকে সেখান থেকেই মৃত্যু পরোয়ানা তৈরি করে তা লাল কাপড়ে মুড়িয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

প্রস্তুত জল্লাদ শাজাহান-রাজু

দুই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসির রায় কার্যকর করতে আবারো ডাকা হয়েছে দুই জল্লাদ শাজাহান ও রাজুকে।
জল্লাদ শাজাহান ও রাজু অন্যদের চেয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। সেইসঙ্গে সুঠাম দেহ ও অধিক মনোবলের কারণে জল্লাদদের তালিকা থেকে তাদের ডেকেছে কারা কর্তৃপক্ষ। এই দুইজনের পাশাপাশি সাত্তার নামে আরো একজন জল্লাদকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে কেন্দ্রীয় কারাগারে।
এর আগে ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রথম যুদ্ধাপরাধী হিসেবে কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকরে জল্লাদের ভূমিকা পালন করেন শাজাহান।
অপরদিকে ২০১৫ সালের ১১ এপ্রিল কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায় কার্যকরের সময় জল্লাদের ভূমিকায় ছিলেন রাজু।
জল্লাদ শাজাহান ১৪৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত একজন কয়েদি। তিনি ৩৬ বছর ধরে কারাবাস করছেন। কারাগার থেকে দ্রুত মুক্তিলাভের জন্যই তিনি জল্লাদের খাতায় নাম লিখিয়েছেন বলেও সূত্রটি জানায়।
এরই মধ্যে এরশাদ শিকদার, বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের ৫ আসামি ও কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় ?কার্যকরে ভূমিকা রেখে তিন ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে গেছেন। অপরদিকে, জল্লাদ রাজু প্রায় ১৫ বছর ধরে কারাবাস করছেন।
কারা সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে মুজাহিদ ও সাকা চৌধুরীর ফাঁসির জন্য মঞ্চের প্রস্তুতি অনেকটাই সম্পন্ন হয়েছে। মঞ্চ ধোয়ামোছা শেষে টানানো হয়েছে শামিয়ানা। ফাঁসির মঞ্চের চুনকামও শেষ। এখন রায় কার্যকরের আদেশের অপেক্ষায় রয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

নয়াপল্টনে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

স্টাফ রিপোর্টার :: রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ...