ছিটমহল গুলোতে আনন্দ মিছিল

ছিটমহল গুলোতে আনন্দ মিছিলআসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট প্রতিনিধি :: লালমনিরহাট জেলার ওপারে ভারতীয় ১৩২/১ নম্বরের ওই ছিটমহলের বাসিন্দা রমিচা বেগম গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগে কাঁটাতারের বেড়ার পাশে এসে শেষ পর্যন্ত ছিটমহল সমস্যা সমাধানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ঘোষণা দেন তার খবর প্রথম পান সাংবাদিকদের কাছে।

তবে এই ছিটমহলসহ পাশের আরেকটি ছিটমহলের অনেকেই ভারতীয় সংবাদ ভিত্তিক চ্যানেলের সৌজন্যে খবরটি পেয়েছেন ঘোষণার পরপরই।

কেউ কেউ আবার ওপারে থাকা আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমেও মুঠোফোনে পেয়েছেন খবরটি।

ফলে কোথাও কোথাও দেখা গেল তাৎক্ষণিকভাবে বের করা হয়েছে আনন্দ মিছিল। অনেকে আবার একে অন্যকে মিষ্টিমুখ করাচ্ছে। খবরটি যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচাল এখানকার মানুষজনকে।

সন্ধ্যার একটু আগে দেখা গেল সেখানকার কিছু বাসিন্দা ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি’র বাংলাদেশ অংশের লালমনিরহাট জেলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলামের নেতৃত্বে বের করেছে আনন্দ মিছিল। মিছিলে শ্লোগান দেয়া হচ্ছে ‘ছিটমহল বিনিময় কমিটি জিন্দাবাদ/ মমতা ব্যানার্জি জিন্দাবাদ’, ‘ছিটমহল বিনিময় কমিটি জিন্দাবাদ/ শেখ হাসিনা জিন্দাবাদ’, ‘আর নেই সমস্যা-মমতার ঘোষণা’, ‘নতুন করে স্বাধীন হলাম-স্বাধীন হলাম স্বাধীন হলাম’ ।

ছিটমহল বিনিময় কমিটি’র বাংলাদেশ ইউনিটের সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বলেন, এখন ছিটমহল বিনিময়ে আর কোনো বাধা থাকল না ভেবে আমরা এবার সত্যিকার অর্থেই বিশ্বাস করছে যে ছিটমহল বিনিময় হবে আর এর বাসিন্দারা নাগরিকত্ব, ভোটাধিকারসহ পাবে নাগরিকের সব অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস ছিটমহল ইস্যুতে শেষ পর্যন্ত পিছু হটার পর সম্প্রতি স্থলসীমান্ত চুক্তি অনুমোদনের ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ‘নীতিগত সম্মতির’ কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারকে।

এরই ধারাবাহিকতায় তৃণমূল সভানেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের এই অবস্থান বদলের ফলে ভারতের মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশের মধ্যে ৩৮ হাজার ভারতীয় নাগরিকের ভাগ্য নিশ্চিত হওয়ার রাস্তা তৈরি হলো। নাগরিকত্ব না থাকা কার্যত এক ধরনের ‘রাষ্ট্রহীন’ এসব মানুষ ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকেই অমানবিক জীবন যাপন করে আসছে।

ছিটমহলের বাসিন্দা দুলালী বেগম, কেয়া আক্তার বলেন, ‘আমরা এত দিন কোনো ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইনি। অন্য অনেক কিছুর মতো ছিটমহলের নাগরিক বলে ছেলেমেয়ের বিয়ে দিতেও আমাদের পড়তে হয়েছে নানা সমস্যায়। আমাদের হয়তো এবার সুদিন ফিরে আসবে।’

বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের মেয়ে জেসমিন বৈবাহিক সূত্রে এখন ভারতীয় উত্তর গোতামারী ছিটমহলের বাসিন্দা। তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘বাবার বাড়িতে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশের অনেক সুযোগ-সুবিধা পেয়েছি। কিন’ এখানে আসার পর সেসব থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত ছিলাম এত দিন। এবার হয়তো এখানে থেকে সেই সুযোগ-সুবিধাগুলো পাব।’

দুলালী, জেসমিনের মতো পাটগ্রামের অভ্যন্তরে থাকা ভারতীয় ছিটমহল বাঁশকাটা, ভোটবাড়ি এবং আরো অনেক ছিটমহলের বাসিন্দারা মমতার এই ঘোষণার পর তারা দেশের মূল ভূখণ্ডের বাসিন্দাদের সঙ্গে এক কাতারে দাঁড়াতে পারবে বলেই মনে করছে।

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

হাইকোর্ট

জাতীয় নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে রিট

স্টাফ রিপোর্টার :: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে রিট করা ...