চিকিৎসক ধর্মঘট বনাম শ্রমিক ধর্মঘট

মীর আব্দুল আলীম


চিকিৎসক; স্বাস্থ্য চিকিৎসার সেবাদাস। চিকিৎসকদের সেবার শপথ নিয়ে তবেই চিকিৎসা পেশায়  প্রবেশ করতে হয়। পেশাটা রাষ্ট্রের অন্যান্য পেশার তুলনায় অনেক বেশি সম্মানের। এটা পেশা হলেও, চিকিৎসকরা মানুষের জীবন রক্ষায় কাজ করেন বলে এটি মানব সেবার একটি অংশ বটে। কিন্তু আজকাল এ পেশার মানুষ কেমন যেন রাজনৈতিক আচরণ করতে শুরু করেছেন।

আমরা দেখে আসছি, রোগিতে জিম্মি করে হরহামেশাই ধর্মঘটে যান চিকিৎসকরা। এ জন্য ইতোমধ্যে অনেক রোগী চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাবার ঘটনাও ঘটেছে। বোধ করি বাংলাদেশে ছাড়া এমন নজির আর কোথাও নাই। রোগীদের জিম্মি করে চিকিৎসকরা এর আগে বহুবার তাদের দাবি আদায় করেছেন। ইন্টার্ন চিকিৎসকরাও সম্প্রতিকালে অপরাধী ৪ ডাক্তারকে বাঁচাতে টানা পাঁচ দিন কর্মবিরতি পালন করেছে। ৬ মার্চ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে চার ইন্টার্ন ডাক্তারের শাস্তি প্রত্যাহারের দাবি আদায় করেই ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেয় তারা।

প্রশ্ন হলো চিকিৎসকরা আইনের উর্দ্ধে নাকি? অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার পরই তাদের শাস্তি মওকুফ করা হয়েছে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম জানিয়েছেন। ক্ষমা চাইলেই অপরাধের শাস্তি মওকুফের প্রবনতা আমাদের আরো অপরাধী হতে শিক্ষা দেবে বৈকি। অসহায় রোগীদের জিম্মি করে তবেই দাবি আদায় করল ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি কর্তৃক চার ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বগুড়ায় এক রোগীর ছেলেকে মারধর করা ঘটনা প্রমাণ হওয়ার পর ছয় মাসের জন্য তাদের ইন্টার্নশিপ স্থগিত করা হয়। প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসরা সারাদেশের রোগীদের জিম্মি করে ধর্মঘট শুরু করে। অপরাধ কওে সাজা পাওয়ায় পরিবহন শ্রমিকরা যেমন অপরাধী দুই খুনী চালকের পক্ষ নিয়ে দেশ জুড়ে ধর্মঘটের নামে নৈরাজ্য করেছে ইন্টার চিকিৎসকরাও  চার অপরাধী ইন্টার্ন চিকিৎসকে বাঁচাতে সেই একই পথ বেছে নেয়। এই হলো আমাদের চিকিৎসকদের মহান পেশা!

‘কসাই আর ডাক্তার দুটোই আজ প্রফেসন…।’ নচিকেতার গানের চিকিৎসকরা তো তাই মনে হচ্ছে। বিখ্যাত এ গায়ক তার গানে কেন কসাইয়ের সাথে ডাক্তারদের গুলিয়ে ফেললেন? কেন এক কাতারে তাদের দাঁড় করালেন এখন তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। আমাদের চিকিৎসকগণ (সবাই নন) মাঝে মাঝে কসাইয়ের ভূমিকায় অবতির্ন হন। অহেতুক অপারেসন করা, ভ্থল চিকিৎসা করা, কমিশনের জন্য অহেতুক টেষ্ট দেয়া, ভিজিট বেশি নেয়া, রোগিদেরসাথে খারাপ আচরন এমন এন্তার অভিযোগ আছেন এই মহান পেশার লোকদেও বিরুদ্ধে। আমারা প্রায়ই দেখি কিছুনা কিছু হলেই রাজনীতিবিদ আর পরিবহন শ্রমিকদেও ন্যায় তারা ধর্মঘট করেন। প্রশ্ন আসে স্বাভাবিক ভাবেই মানুষের জীবন নিয়ে ধর্মঘট হয় কি? এটি কিছুতেই আইন সিদ্ধহবে না। তবুও কথায় কথায় মানুষের জীবন নিয়ে চিকিৎসকদের ধর্মঘট কেন? এটা মোটেও মানবিক নয়। চিকিৎসকরা তা কিছুতেই করতে পারেন না। চিকিৎসকদের সেবার সাথে মানুষের জীবনের বিষয় জড়িত। জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার কোনোই অধিকার নেই চিকিৎসকদের। রাষ্ট্রের কেউ কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করতেই পারেন। আইনের মাধ্যমেই তাকে লড়তে হবে। আজ হরহমেশাই দেখি চুন থেকে পন খসলেই চিকিৎসকরা চিকিৎসা সেবা থেকে দূরে থকেন। এ কারণে চিকিৎসার অভাবে রোগী মারা যাবারও নজির রয়েছে দেশে। চিকিৎসকদের মাঝে নীতিনিষ্ঠা, মানবিকতা, সদাচার, কর্তব্যপারায়ণতা, এগুলোর আজ বড্ড অভাব দেখা দিয়েছে। তাদেরই তো এসব গুণের বেশি পূজারী হবার কথা।

কী ঠিক, কী ভুল, কোনটি অমানবিক তা আজ আমাদের ডাক্তারদের চোখে আঙুল দিয়ে বুঝিয়ে দিতে হচ্ছে। এটাই হচ্ছে তিক্ত বাস্তবতা। সমপ্রতি বন্দর নগরী চট্রগ্রামে চিকিৎসকরা ধর্মঘটের নামে রোগীদের চিকিৎসাবঞ্চিত করে, কষ্ট দিয়ে অনৈতিক ও অমানবিক কাজ করছেন এবং একই সঙ্গে একটি দুষ্ট নজির স্থাপন করেছেন তা বলাই বাহুল্য। আন্দোলনের নামে চিকিৎসকদের ধর্মঘট করা, চিকিৎসা সেবা বন্ধ রাখা, চিকিৎসকদের পেশাগত নৈতিকতা বা আইন কোনোটাই সমর্থন করে না। তারপরও আমরা দেখে আসছি, দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল-চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসকরা বিভিন্ন ইস্যুতে ধর্মঘট করছেন, ডাক্তারগণ চিকিৎসা সেবা বন্ধ রাখছেন। এটা দুর্ভাগ্যজনক। আমরা আসা করব, প্রতিবাদ কর্মসূচি হিসেবে চিকিৎসা সেবা বন্ধের মতো অমানবিক প্রবণতা থেকে চিকিৎসকরা বেরিয়ে আসবেন।

প্রায়শই দেখছি দেশের কোথাও না কোথাও ডাক্তাররা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন। এর পিছনে বিভিন্ন ধরনের কারণও পাওয়া যায়। কোনোটি ঠুনকো আবার কোনোটি অযৌক্তিক। কখনো রাজনৈতিক কারণ, কখনো বা রোগীদের স্বজনকর্তৃক আইনি আশ্রয় নেয়াসহ ডাক্তারদের লাঞ্ছিত কিংবা মারধরের ঘটনায় ডাক্তাররা কর্মবিরতি পালন করছেন। রাজনৈতিক ঘটনাগুলোকে ডাক্তারদের এড়িয়ে যাওয়া উচিত। দল বা মতের সমর্থন করা দোষের নয়, তবে তাতে যদি চিকিৎসাধীন রোগীদের জীবনহানির আশঙ্কা সৃষ্টি হয় কিংবা রোগীদের নিয়ে স্বজনরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েন, তবে ডাক্তারদের প্রতি রোগীর আত্মীয়-স্বজনরা আস্থা হারিয়ে তাদের প্রতি ভিন্ন ধারণার সৃষ্টি হবে। যা ডাক্তারদের জন্যও যেমন কল্যাণকর হবে না, তেমনি রোগীদের জন্য তো কল্যাণকর নয়ই। ডাক্তাররা ভুলের ঊর্ধ্ধে নন। অন্যান্য পেশাজীবী মানুষের মতো তাদেরও ভুল হওয়া স্বাভাবিক। ডাক্তারদের অনিচ্ছাকৃত বা ইচ্ছাকৃত ভুল যেভাবেই হোক, এর ফলে যদি কোনো রোগীর প্রাণহানি কিংবা অঙ্গহানি হয় তবে স্বাভাবিকভাবেই রোগীর আত্মীয়-স্বজনরা সেটা মানতে নারাজ হবেন। ডাক্তাররাও অপারেশনে এমন কিছু ভুল করেন যা একজন পেশাদার হিসেবে ডাক্তারদের থেকে কখনো আশা করা যায় না।

ডাক্তাররা তাদের ধর্মঘট বা কর্মবিরতিকে ‘আন্দোলন’ বলে দাবি করেন। শব্দটিকে এরূপে কলুষিত না করলেই ভালো হতো। কিছু ব্যক্তি (ডাক্তার) নিতান্ত স্বাথের্র খাতিরে একজোট হয়ে একটি সমাজবিরোধী কাজ (রোগীকে চিকিৎসা না দেয়া) করলে তা ‘আন্দোলন’ হয়ে ওঠে না, তা অপরাধও বটে! এই অপরাধবোধ যে আমাদের দেশের এক শ্রেণির চিকিৎসকদের মধ্যে অনুপস্থিত, সেটাই আজ উপলব্ধি হচ্ছে। অসভ্য, ববর্র আর অশিক্ষত সমাজের নাগরিককে ঘা মেরে (পিটিয়ে) নীতিবোধ শিক্ষা দেয়া যায়, কিন্তু যথার্থ সভ্য সমাজের সুশিক্ষায় শিক্ষিত ডাক্তারদের কীভাবে নীতিবোধ শিক্ষা দেবে সমাজ? এ জন্য আইন করা দরকার। ডাক্তারদের ঘন ঘন কর্মবিরতি বন্ধ করতে সরকার একটি আইন প্রণয়ন করতে পারে। আর সহসা তা করা দরকার। জানি এই সংবাদ উৎসাহ জাগায় না। আইন করে যদি বিবেক জাগ্রত করতে হয়, আর আইনের মাধ্যমে অসদাচরণ বন্ধ করা সম্ভব হতো, তবে বাংলাদেশ এই বিশ্বের সর্বাধিক শিষ্ট, নীতিনিষ্ঠ রাষ্ট্র হতো, সন্দেহ নেই। এদেশে অসংখ্য আইন আছে, দেশের নাগরিক সমাজ ক’টা আইন মানে? তবে আমাদের চিকিৎসকরা এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন, যে আইন করার উদ্যোগ না নেয়া ছাড়া বোধ করি রাষ্ট্রেরও আর কোনো উপায় নেই। অন্যথায় রোগীদের সামান্য চিকিৎসাটুকু নিশ্চিত করা যাবে না। বিনা চিকিৎসায় একের পর এক রোগী মরতেই থাকবে।

চিকিৎসকদের দাবি-দাওয়া থাকতেই পারে, তা আলোচনার মাধ্যমে সুরাহা হওয়া উচিত। কিন্তু তাদের অযৌক্তিক ধর্মঘট আর রোগীদের চিকিৎসাবঞ্চিত করার অধিকার কি তারা রাখেন? দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তাবিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রের, নাগরিকের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমরা মনে করি, সরকারি চাকরিজীবী চিকিৎসকদের অবশ্যই অন্য সরকারি কর্মকর্তাদের মতোই সম্পূর্ণভাবে সরকারি আইন ও বিধিবিধান-শৃঙ্খলা মেনে চলা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসকরা তা মানেন বলে মনে হয় না। ধর্মঘটের নামে দায়িত্ব পালন না করা সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘনের শামিল। চিকিৎসকদের কাছে এ আচরণ জনগণ প্রত্যাশা করে না। সমাজে চিকিৎসকরা একটি শিক্ষিত ও সম্মানিত পেশাজীবী মহল। এই সম্মানিত চিকিৎসকরা যদি কাজ ফেলে ধর্মঘট করেন, তবে এর ভোগান্তির দায় নেবেন কে? তাদের এ অবস্থানের কারণে হারিয়ে যেতে পারে অনেক প্রাণ। দাবি আদায়ের জন্য সকল সংগঠন ও পেশাজীবীরা আন্দোলন সংগ্রামকেই বেছে নেন। দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করার ইতিহাস ও যুক্তি রয়েছে। কিন্তু ডাক্তাররা রাজনৈতিক আচরণ করলে চলবে না। চিকিৎসকদের সংগঠন গুলো কোনো ট্রেড ইউনিয়ন নয়। চিকিৎসা পেশা একটি মহৎ পেশা। চিকিৎসকদের প্রথম কাজই হচ্ছে রোগীর সেবা দেয়া। মনে রাখতে হবে, ডাক্তারদের এক মিনিটের কর্মবিরতিতে একটি জীবনহানি ঘটতে পারে। ডাক্তাররা তাদের দাবি-দাওয়ার জন্য অন্যভাবেও প্রতিবাদ করতে পারেন। রোগীর সেবা প্রদান বন্ধ করা তাদের মোটেও উচিত নয়। এ অবস্থায় সরকার বিএমডিসি’র আইন সংস্কার করে সেখানে তদন্তপূর্বক শাস্তির বিধান সংযোজনের বিষয়টি চিন্তা করা দরকার। আর তা সহসা করাও উচিত। চিকিৎসকদের রোগীর সেবা প্রদানে বিরত থাকার কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়। এ কথা সত্য যে, ইদানীং চিকিৎসার কারণে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল ও ডাক্তারের চেম্বার ভাঙচুরের বিষয়টি এখন নিয়মিত ঘটছে। এসব ক্ষেত্রে ডাক্তারদের মারধরের ঘটনাও ঘটছে। এ ধরনের ঘটনা আশা করা যায় না। সরকারকে এসব ঘটনা রোধে দায়িত্ববান হতে হবে।

দেশের নানা হাসপাতালে রোগীদের চরম অসুবিধা এবং অন্যায়ের দৃষ্টান্ত অগণিত। এ সকল সমস্যার কোনো প্রতিবাদ কোনো চিকিৎসক সংগঠনের মুখে এ যাবৎ শোনা যায়নি। রোগীর স্বার্থ রক্ষায় হাসপাতালের অব্যবস্থার বিরুদ্ধে চিকিৎসকরা গলা ফাটিয়েছেন, ধর্মঘট আর কর্মবিরতি পালন করেছেন এমন দৃষ্টান্ত কয়টি মিলবে? বোধকরি একটিও না। কিন্তু কিছু থেকে কিছু হলেই হলো- চিকিৎসকরা কাজকর্ম বন্ধ করে ধর্মঘট শুরু করে দেন। এ ধর্মঘট কি রোগিদেও বিরুদ্ধে নয়?। রোগী মরে মরুক, ডাক্তারকে বাঁচতেই হবে। তাঁরা অপরাধ করলেও তাদেও সাজা দেয়া যাবে না। কিছু বলা যাবে না এ কেমন মহান পেশার মানুষ তাঁরা? রোগী নয় ডাক্তারদের স্বার্থ রক্ষাই আগে। চিকিৎসকদের অনৈতিক ধর্মঘটের বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে কঠোর পদক্ষেপই আমরা আশা করি। কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর কাছে রোগীরা জিম্মি হতে পারে না। একই সঙ্গে আমরা চাই, চিকিৎসা সেবাকে ‘অত্যাবশ্যক’ বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসকদের ধর্মঘট স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হোক।

ডাক্তারী পেশাটি মানুষের সেবা করার মতো অসাধারণ এক মহান পেশা। যে পেশার মানুষরাই পারে একজন মুমূর্ষু মানুষকে নতুন জীবন দিতে। পারে অসংখ্য অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোঁটাতে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এ পেশার মানুষের সংখ্যা বাড়লেও তাদের মানবিক বোধ যেন দিন দিন কমছে। যারা সেবার মানসিকতা নিয়েই পেশাটিকে বেছে নিয়েছেন এবং এখনো নীরবে সাধারণ ও অসহায় মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন। যাদের কাছে চিকিৎসা পেশাটি কেবলই অর্থ বানানোর হাতিয়ার নয়। তবে, এ সংখ্যা আনুপাতিকহারে কমে আসছে। ডাক্তারদের আচরণ দেখে অন্তত তাই মনে হয়। অবহেলা, অসদাচরণ ও ভুল চিকিৎসাসহ নানা কারণে দেশের চিকিৎসক সমাজের কাছ থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা উঠে যাচ্ছে। উচ্চবিত্তের পাশাপাশি যাদের সামান্য সামর্থ্য রয়েছে তারাও এখন হরদম বিদেশ পাড়ি দিচ্ছেন চিকিৎসা সেবা নিতে। চিকিৎসকদের প্রতি সাধারণ মানুষের এই আস্থাহীনতার কারণ কিন্তু চিকিৎসক সমাজই। এটা কি তারা বুঝতে পারেন না?

পরিশেষে আমাদের মহান চিকিৎসকদের বলব, আপনারা রোগীদেও জিম্মি করে কোনো কারণেই ধর্মঘটের মতো অমানবিক আন্দোলনে যেতে পারেন না। ধর্মঘট ডাকলে এর ফলে একজন রোগী মারা গেলে দায়িত্ব নেবে কে? এর আগে ধর্মঘটের কারনে যারা মারা গেছেন তার দায়ই বা কার? অতীতে ডাক্তার এবং রোগীদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। কেননা ডাক্তাররা তাদের সর্বস্ব উজাড় করে রোগীর সেবা করে থাকেন। এখনো রোগী-ডাক্তার সম্পর্ক অটুট থাকবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

লেখক- মীর আব্দুল আলীম, সাংবাদিক, গবেষক ও কলামিস্ট।newsstore13@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষক নেই কেন?

স্টাফ রিপোর্টার :: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত ...