চা মেকার শামিম…

সায়েম মাহামুদঃ

teeশামিম,পুরো নাম (()) আলেকজান্ডার উনিয়নের বাংলাবাজার অঞ্চলের — পুত্র।২০০৩ সালে ধরায় পা রেখেই সংসারের অভাব অনটন দেখে সে।বাবার আর্থিক অনটনের কারনে আর পরিবেশের প্রভাবে অল্প কয়েকদিন স্কুলে পা বাড়ানোর পর আর যাওয়া হয়নি স্কুলের পানে। স্বভাবতই এলাকার অন্যান্য ছেলেদের মত তাকেও নামতে হয় কর্মে সহযোগিতা করতে হয় বাবার আর্থিক সচ্চলতা অর্জনে।নিয়তি তাকে নিয়ে আসে চায়ের দোকানে। না!! এখানে সে অন্যান্য ছেলেদের মত টিভি দেখতে বা কিছু খাওয়ার জন্য আসে নি বরং সে এখানে সে আসছে অন্যদের হেল্প করতে সবাই চা করে দিতে,বিস্কুট নিয়ে দিতে আর তাদের বসার সুবিদের জন্য টেবিলটা পরিষ্কার করে দেয়া এই যেন ছিল তার নিয়তি।যখন তার অন্যান্য বন্ধুরা নদীর দারে খেলায় মত্ত, ছেলে বেলার দুড়ন্ত পনা দেখাতে ব্যস্ত,মা-বাবার আদরে টইটম্বুর থাকার কথা যেই শামিমের নিয়তি আজ তাকে নিয়ে এসেছে চায়ের দোকানে।মাত্র বার বছরের ছেলে শামিম আজ কর্মব্যস্ততায় কাটাচ্ছে তার প্রতিটি দিন। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠেই তাকে দৌড়াতে হয় নিজ কর্মস্হল চায়ের দোকানের পানে যা চলে নিরবিচ্ছিন্নভাবে ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ ঐবাজারে মানুষের আনাগোনা থাকে সেই সময়টাও নির্দিষ্ট না কখনও রাত বারটা কখনও একটা। বিনিময়ে তাকে যা পরিশোধ করা হয় তা হাস্যকর বৈ আর কিছুই।দৈনিক ১৬ঘন্টা কাজ করে তাকে দিন শেষে মাত্র ৩০-৪০ টাকা হাতে ধরিয়ে দেয় মালিকপক্ষ, কখনও কখনও তাও তার কপালে জুটে না। দিন নাই মাস নাই বছরের এমন কোন দিন নাই যেদিন তার ছুটি।সপ্তাহের প্রতিটিদিন, মাসের প্রতিটি দিন ,বছরের প্রতিটি দিনও তাকে ব্যাস্ত থাকতে হয় তার কর্মস্হল চা দোকানে। সবচেয়ে দুঃখের ব্যপার হচ্ছে ঈদের দিন সেটা হোক কুরবানের ঈদ আর হোক রোজার ঈদ সেদিনও তাকে দৌড়তে হয় কর্মস্হলের লক্ষ্যে। তাকে পরিশোধকৃত পারিশ্রমিক (৩০ টাকা) এত দামী যে তার একটু দেড়ি হলেই তার উপর আবার চলে নির্যাতন।কাজে সামান্য ত্রুটির জন্যও তাকে সইতে হয় মালিকের প্রহার। মাঝে মধ্যে তাকে তার সেবা গ্রহীতা কাস্টমারের হাতে একটু আধটু কিল গুষি খাওয়াটাই যেন তার নিয়তি হয়ে দাড়িয়েছে।। মালিক, সেবাগ্রহীতারর কাছ থেকে পাওয়া কিল-ঘুষি, দৈনিক তিনবেলা পেট পুরে খাওয়া আর দিনশেষে বিশ টাকার আর দশটাকার একটা করে দুইটা নোট হাতে পাওয়াটাই যেন তার দিনশেষে বড় এক পাওনা হয়ে দাড়ায়। বিশটাকার আনন্দ, শত নোংরা কথা আর তিনবেলা পেটপুরে খাওয়া জীবনের এই চরম সত্য মুহুর্তগুলো দিন দিন পার করছে শামিম নামক এই গ্রাম্য কিশোর।।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আরিফ চৌধুরী শুভ

কোটা আছে কোটা নাই!

আরিফ চৌধুরী শুভ :: ‘জয় পেতে হলে আন্দোলন করতে হয়। আন্দোলন ছাড়া জয় ...