ব্রেকিং নিউজ

চাচা কর্তৃক শিশু ভাতিজি ধর্ষিত ও ঘর-বাড়ী ভাংচুর

শিশু ধর্ষিতখোরশেদ আলম বাবুল, শরীয়তপুর প্রতিনিধি :: শরীয়তপুরের ডামুড্যায় এক শিশুকে (৭ বছর বয়সী তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী) আপন চাচা ধর্ষণের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত ৭ এপ্রিল উপজেলার শিধলকুড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ওই ধর্ষক চাচা হত্যার ভয় দেখিয়ে শিশুটির মুখ বন্ধ করে দেয়।

পরবর্তীতে প্রতিবেশী অপর এক শিশুকে (সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী) টাকার লোভ দেখিয়ে অনুরূপ ঘটনা ঘটাইতে চাইলে নিজ ভাতিজির সাথে করা ঘটনা খোলসা হয়ে যায়।

এ বিষয়ে নির্যাতিতা শিশুর মা প্রতিবাদ করায় ধর্ষক তার পুত্রদের নিয়ে এসে ছোট ভাইয়ের ঘর ও আসবাবপত্র ভাংচুর করে। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গন্যমান্যগণ বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ গ্রহন করে ব্যর্থ হয়েছে।

প্রশাসনের কাছে ন্যায় বিচার দাবী করেছেন ধর্ষণের চেষ্ঠায় শিকার শিশু ও তার পরিবার। ধর্ষনের চেস্টাকারীর ছেলে ও স্ত্রী ভাংচুরের বিষয়টি স্বীকার করেছে।

শিশুটির পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শিধলকুড়া এলাকার আলিম সরদার পুত্র মজিদ সরদার (৪৭), কাদের সরদার (৪২) ও ইব্রাহীম সরদারদের (৩০) রেখে প্রায় ২০ বছর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেণ। ইতোমধ্যে মজিদ সরদার আলাদা বাড়ি নির্মাণ করে ভিন্নভাবে বসবাস করছে। গত ৭ এপ্রিল শনিবার বেলা ১১টার দিকে মজিদ সরদারের ৪ বছর বয়সী নাতনি মীমের সাথে ছোট ভাই কাদের সরদারের মেয়ে (তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী) খেলা করতে যায়। তখন মজিদ সরদার ছোটভাই কাদের সরদারের মেয়েকে তার বসত ঘরে ডেকে নিয়ে জড়িয়ে ধরে শিশুটির পোষাক খুলে ধর্ষনের চেস্টা করে।

এ সময় মেয়েটি চিৎকার করতে চাইলে তাকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে প্রতিবেশী এক প্রবাসীর মেয়েকে (সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী) টাকার লোভ দেখিয়ে কাছে নিতে চায় মাজিদ সরদার। এ নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন সৃস্টি হলে ভাতিজির সাথে যৌন আচরনের ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়।

এ বিষয়ে কাদের সরদারের স্ত্রী ও নির্যাতিত শিশুর মা কোহিনুর বেগম প্রতিবাদ করলে মজিদ সরদার তার ছেলে মিরাজ ও রবিনকে নিয়ে ছোট ভাই কাদের সরদারের বসত ঘর ও ঘরে থাকা আসবাবপত্র ভাংচুর করে।

এ ঘটনার পর মজিদ সরদারের মায়ের অনুরোধে স্থানীয় চেয়ারম্যান জানে আলম খোকন অভিযুক্তের মা রহিমা বেগম ও বোন মনোয়ারা বেগমকে বিষয়টি পারিবারিক ভাবে মীমাংসার নির্দেশ দেন। রহিমা বেগম ও মনোয়ারা বেগম স্থানীয় মুরব্বি তাজুল চৌকিদার, সুমন মাদবর, লিটন মাদবর, হারুন মাল ও মেম্বার আবু তাহেরকে নিয়ে মিমাংশার চেস্টা করে ব্যর্থ হয়। এর পর মজিদ সরদার স্থানীয়দের বিচার না মেনে নির্যাতিত পরিবারের প্রতি আরো চাপ সৃষ্টি করে বলে জানায় শিশুটির পরিবার।

স্থানীয় লোকজন আরো জানায় ইতিপূর্বেও মজিদ সরদার এক প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে প্রবেশের চেষ্টা করে ঝাড়– পেটার শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আলোচনা সমালোচনার সৃস্টি হয়েছে। শিশুটির পরিবার সমাজ ও প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবী করেছে।

সরেজমিনে গিয়ে ধর্ষন চেস্টাকারী মজিদ সরদারকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ছেলে রবিন সরদার ও স্ত্রী মিনারা বেগম শিশুটির বাবার ঘর ও ঘরে থাকা আসবাবপত্র ভাংচুরের কথা স্বীকার করেছে। এদিকে একই এলাকার এক প্রবাসীর সপ্তম শ্রেনীতে পড়ুয়া শিক্ষার্থীকে মজিদ সরদার টাকার প্রলোভন দেখিয়ে কাছে ডাকার সত্যতা স্বীকার করেছে ঐ শিক্ষার্থীর মা।

নির্যাতিত শিশুটির বাবা কাদের সরদার বলেন, আমার মেয়েকে নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় মজিদ সরদার এবং তার ছেলেরা আমার ঘর ও ঘরের আসবাপত্র ভাংচুর করেছে। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও আমার মা রহিমা বেগম মামলা বিষয়টি পুলিশে জানাতে নিষেধ করে। তিন্তু তারা বিষয়টির সুষ্ঠু কোন সমাধাণ দেয়নি। এ দিকে মজিদ সরদার ও তার ছেলেরা আমার ও আমার পরিবারের উপর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। এখন আমি মামলা করতে থানায় এসেছি। আমি আমার মেয়েকে নির্যাতনের বিচার চাই।

এ ব্যাপারে শিধলকুড়া ইউপি চেয়ারম্যান জানে আলম খোকন বলেন, প্রথমে আমার কাছে যৌন হয়রানির বিষয়টি খোলসা করে বলা হয়নি। ঘর ভাংচুরের বিষয়টি জেনে অভিযুক্তের মা রহিমা বেগম ও বোন মনোয়ারা বেগমকে বিষয়টি পারিবারিক ভাবে মীমাংসার জন্য বলে আসি। যৌন হয়রানির ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আমিও এ নেক্কার জনক ঘটনার উপযুক্ত বিচার দাবি করছি।

ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, শিশুটির পরিবারের কাছে আজ মঙ্গলবার মৌখিক ভাবে ঘটনা শুনে তাৎক্ষনিক এলাকায় পুলিশ পাঠিয়েছি এবং পরিবারকে মামলা করতে বলেছি। মামলা হলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

জুলিয়া সুকায়না পাইকগাছার প্রথম নারী ইউএনও

জুলিয়া সুকায়না পাইকগাছার প্রথম নারী ইউএনও

মহানন্দ অধিকারী মিন্টু, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি :: খুলনার পাইকগাছায় প্রথম নারী উপজেলা ...