চাঁপাইনবাবগঞ্জে-২ আসনে আ.লীগের মনোনয়ন পাবেন কে

আশরাফুল ইসলাম।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ : জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রায় আড়াই বছর বাকি থাকলেও এখন থেকেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে আগামী নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ থেকে কে মনোনয়ন পাবেন তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা।

441বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস, নাকি আগের মেয়াদের জিয়াউর রহমান, নাকি নতুন কোনো মুখ? এ নিয়ে সরব এলাকাবাসী। আগামী নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের হাফ ডজন নেতা মনোনয়ন চায়তে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

দলীয় একটি সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার তিন আওয়ামীলীগ সংসদ সদস্যের মধ্যে আগামী নির্বাচনে দুজন বাদ পড়তে পারেন এ খবর প্রকাশিত হবার পর থেকেই মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। আর এ তালিকায় সমপ্রতি যুক্ত হয়েছে নাচোল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদেরের নামও। তিনিও সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য দল থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে এলাকায় বেশ গুঞ্জন চলছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে এবারই প্রথম নাচোলে আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন আবদুল কাদের। গত ডিসেম্বরে নাচোল পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী আবদুর রশিদ খান ঝালুকে মেয়র পদে বিজয়ী করতে তার এবং ভাইস চেয়ারম্যান মজিবুর রহমানসহ আরো বেশ কয়েকজন নেতার জোরালো ভূমিকা ছিল। সে সময় থেকেই এলাকায় কানাঘুষা শুরু হয়, আবদুল কাদের আগামী সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চায়তে পারেন। কানাঘুষা আরো তীব্র হয় কোরবানি ঈদের আগে। কেননা এর আগে এলাকাবাসীকে শুভেচ্ছা-সংবলিত আবদুল কাদেরের ব্যানার-ফেস্টুন নাচোলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এবারই প্রথম তিন উপজেলা তার ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে।

অনেকেই জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা বাড়বে। গুঞ্জন রয়েছে, এ আসন থেকে অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চায়তে পারেন ভোলাহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার আশরাফুল ইসলাম, গোমস্তাপুর উপজেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মোহাম্মদ আলী সরকার, জিয়াউর রহমান, গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস, শেখ রাসেল পরিষদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ড. অজিত দাস প্রমুখ। এর বাইরে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম আনোয়ারও এবার মনোনয়ন চায়তে পারেন বলে নেতাকর্মীদের ধারণা।

তবে আবদুল কাদেরই যেন শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন পায়, সে আশা করছে নাচোলবাসী। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, নাচোলের উন্নয়নের স্বার্থে আগামী নির্বাচনে এখান থেকেই আওয়ামী লীগ প্রার্থী দিক। আবদুল কাদেরকে না দিলে অন্য কাউকে দিলেও অসুবিধা নেই; কিন্তু প্রার্থী যেন নাচোলের হয়। শুধু তাই নয়, অন্য দলগুলোও এ উপজেলা থেকে প্রার্থী মনোনয়ন দিক, বলছেন তারা। এমন অভিমত নাচোল  মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ওবাইদুর রহমান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফরিদ উদ্দিন, সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী আমানুল্লাহ আল মাসুদসহ আরো অনেকের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীও এমনটাই বলেছেন। কসবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান জানান, এর আগে এ আসনে নাচোল উপজেলা থেকে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থীই দেয়া হয়নি। এবার অন্তত নাচোলবাসীর মনের আশা পূরণের জন্য আগামী সংসদ নির্বাচনে এখান থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানান তিনি।

আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চায়তে পারেন বলে স্বীকার করেছেন আবদুল কাদের। তিনি বলেন, দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে তিনি নাচোলবাসীর আকুতির কথা জানাবেন এবং মনোনয়ন চাইবেন। নেত্রী যদি যোগ্য মনে করে আমাকে মনোনয়ন দেন তবে নির্বাচন করব এবং ইনশাল্লাহ জয়ী হয়ে শুধু নাচোল নয়, বাকি দুই উপজেলার উন্নয়নেও জোরালো ভূমিকা রাখব।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব: টিআইবি

ষ্টাফ রিপোর্টার :: দলীয় সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সম্ভব বলে ...