চলছে ট্রলার তৈরীর ধুম

চলছে ট্রলার তৈরীর ধুমসঞ্জিব দাস, গলাচিপা(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি :: সামনে বর্ষা মৌসুম। আর বর্ষা মৌসুম মানেই জেলেদের কর্মযজ্ঞে মহাব্যস্ততা। বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে ইলিশ আকাল চললেও বর্ষা  মৌসুমকে ঘিরে সাগর উপকূলের জেলে পল্লীতে চলছে আগামী ইলিশ মৌসুম বরণ করে নেয়ার কর্মযজ্ঞ। কেউ পুরনো জাল সেলাই করছেন, কেউ পুরনো নৌকা অথবা তার ট্রলারটিকে মেরামত করছেন। আবার কেউ সাধ্যানুযায়ী নতুন ট্রলার তৈরী করছেন। বর্ষা মৌসুমকে বরণ করে নেয়ার দৃশ্য এখন সাগর উপকুলীয় প্রতিটি জেলে পল্লী গুলোতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার লঞ্চঘাট, কাঠপট্টি, উলানিয়ার বালুর মাঠ, বদনাতলি, চর কাজল, চর বিশ্বাস, ছোট শিবা, পানপট্টি, পক্ষিয়া উপকুলীয় অঞ্চলের একাধিক মৎস্য বন্দর অথবা জেলে পল্লী গুলোতে  ইলিশ ধরার উপযোগী নৌকা অথবা ট্রলার তৈরীর ধুপ পরেছে।

কেউ তার পুরনো নৌকা অথবা ট্রলারটিকে মেরামত করছেন। কেউ নতুন ট্রলার অথবা নৌকা তৈরী করছেন। আবার কোন জেলেরা মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত জালটিকে সেলাই করে মাছ ধরার উপযোগী করছেন। এভাবেই উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে পল্লী অথবা মৎস্য বন্দর গুলোতে ইলিশ মৌসুমকে বরণ করে নিতে চলে ট্রলার মালিক, জেলে অথবা জেলে শ্রমিকদের মহা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। ট্রলার মালিক ও জেলে সুত্রে জানা গেছে, এবছর গলাচিপা উপজেলার মৎস্য বন্দর গুলোতে অন্তত শতাধিক নতুন ট্রলার নির্মিত হয়েছে।

গলাচিপা উপজেলার উলানিয়া বাজার থেকে জেলে শহিদুল জানান, আমি আগে মাইনশের লগে (সাথে) ইলিশের সাবারে কাম করছি এ্যাহন আমি নিজেই জালের সাবার করার লাইগা নতুন বোট (ট্রলার) করতেছি। দেহি আল্লায় কিছু করতে দেয় কিনা। আজীবনতো মাইনশের লগে কাম হরছি। এ্যাহন নিজেই সাগরে বোট নামামু।

গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের ০১ নং ওয়ার্ডের জেলে নুর হোসেন প্যাদা বলেন, তিনি এবছর ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি মাছ ধরার নতুন ট্রলার  নির্মাণ করছেন। ইতিমধ্য ট্রলার তৈরীর ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চলতি মাসের মধ্য তিনি তার নতুন ট্রলারটি নদীতে নামাতে পারবেন।

তিনি আরো জানান, তিনি আগেও জালের সাবারে কাজ করতেন। সেই কাজে গত বছরে তার ভালো লাভ হইছে। এজন্য এই বছর তিনি আরো একটি ট্রলার তৈরী করছেন।

বোয়ালিয়া সুইজ গেট বাজার জেলে মোঃ নাসির মিয়া বলেন, তার পূর্ব পুরুষরা সবাই মাছের ব্যবসা করে আসছেন। তিনিও এ পেশায় আছেন। দীর্ঘদিন তিনি মাছের গদি (আরত) করে ব্যবসা করছেন। এবার তিনি নিজেই ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি নতুন ট্রলার নির্মাণ করেছেন।

তবে সাগরে জেলেদের উপরে জলদস্যুদের হামলার কথা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি জানান, নতুন তৈরী ট্রলারটি ব্যয়ের অর্ধেক টাকাই ধার এবং ঋণের। কোন ভাবে যদি তার আশা জলদস্যুদের কবলে গ্রাস হয় তাহলে তিনি সর্বশান্ত হয়ে পরবেন।

গলাচিপা উপজেলার মৎস্য বন্দরের মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সাম্পাদক চুন্নু মিয়া জানান, বর্তমান সরকার ইলিশ নিয়ে যে পরিকল্পনা গ্রহন করেছে। তাতে আগামী ইলিশ মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ব্যাপক ইলিশ ধরার পরবে বলে আমার  ধারনা। তবে সে ক্ষেত্রে জল সীমান্ত বাহিনী অথবা কোষ্টগার্ড জেলেদের প্রতি সহনশীল হতে হবে। যাতে সমুদ্রগামী জেলেরা জলদস্যুদের কবলে পরে ক্ষতিগ্রস্থ না হয়।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর তিন দফা সুপারিশ উপস্থাপন

ডেস্ক নিউজ :: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে এখানে শরণার্থী বিষয়ক বৈশ্বিক প্রভাব ...