চরাঞ্চলবাসীর সমস্যা নির্দিষ্ট করে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং অর্জিত সুফল পৌঁছে দিতে হবে: স্পিকার

চরাঞ্চলবাসীর সমস্যা নির্দিষ্ট করে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং অর্জিত সুফল পৌঁছে দিতে হবে: স্পিকারআ হ ম ফয়সল :: জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, সব অঞ্চলে সম-উন্নয়ন সৃষ্টির পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। তারপরেও বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলো নিরসনের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এবং এর থেকে অর্জিত সুফল চরবাসীর কাছে পৌঁছে দিতে হবে। আমরা চাই অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন পরিকল্পনা। যার থেকে কোন বিশেষ শ্রেণী বা অঞ্চল যেন বাদ না পড়ে। এজন্য বিশেষ প্রয়োজন ও সমস্যার প্রেক্ষিতে চরাঞ্চলবাসীর সমস্যা নির্দিষ্ট করে সরকারের কাছে তুলে ধরতে হবে। চরাঞ্চলবাসীর উন্নয়নকে টেকসই রূপদানের জন্য যেসব সংসদ সদস্যদের এলাকায় চর আছে তাদের নিয়ে একটি জাতীয় চর কমিটি গঠন করা যেতে পারে,”

স্পিকার  শনিবার (৭ জুন) রাজধানির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে প্রথম জাতীয় চর সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

‘চরাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ুক উন্নয়নের আলো’ এই শ্লোগান নিয়ে আয়োজিত দিনব্যপী সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রথম চর সম্মেলন জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ও চর সম্মেলন জাতীয় কমিটির ভাইস চেয়ার এ কে এম মুসা, অস্ট্রেলিয়ান ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন এ্যাফেয়ার্স এ্যান্ড ট্রেড-এর কাউন্সিলর এবং হেড অব ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন প্রিয়া পাওয়েল, সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক এবং সম্মেলন জাতীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান শিশির শীল এবং চরাঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠির প্রতিনিধি মনীন্দ্র নাথ রায় ও সম্মেলন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ও সমন্বয়ক এম আনোয়ার হোসেন।

অনুষ্ঠানে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী আরো বলেন, চর বাসীর সমস্যা সমাধানকে টেকসই রূপদান করার জন্য সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় একে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ৫০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দের উল্লেখ করে তিনি বলেন, চরের মানুষের বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই থোক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এই বাজেটে তাদের পুনর্বাসনের দিকেও নজর দেয়া হয়েছে।

স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল (এমডিজি)-এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে পরবর্তী ১৫ বছরের জন্য শুরু হবে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি)। এসডিজি পূরণে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দারিদ্র দূরীকরণের পাশাপাশি বৈষম্যও কমিয়ে আনতে হবে।

চরাঞ্চলবাসীর সমস্যা নির্দিষ্ট করে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং অর্জিত সুফল পৌঁছে দিতে হবে: স্পিকারখোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, চরাঞ্চলের উন্নয়নে কর্মরত দেশি-বিদেশি ৮০টি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সমন্বয়ে জাতীয় কমিটি গঠন করে একযোগে কাজ করতে হবে। উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বেসরকারি সংস্থাগুলোর যেমন কিছু সীমাবদ্ধতা আছে, সরকারেরও তেমনি কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু এই দুইয়ের সমন্বয় হলে সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজতর হবে।

তিনি বলেন, চরের মানুষের দুরাবস্থার মূল কারণ হলো বিচ্ছিন্নতা। যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে তারা উন্নয়ন থেকে অনেক দূরে বাস করছে। আধূনিক তথ্য প্রযুক্তির যুগে এই বিচ্ছিন্নতা কাম্য নয়। এজন্য প্রত্যেক চর ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, স্কুল, মাদ্রাসা বা এধরনের কোন একটি স্থাপনায় একটি করে ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া জরুরি। তিনি এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ আরো বলেন, হাসপাতাল নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য উপযোগী পরিবেশ না থাকায় চরের মানুষের বড় সমস্যা স্বাস্থ্য সমস্যা। উপজেলার সাথে চরের যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক হওয়ায় যেকোনো জরুরি স্বাস্থ্য সমস্যায় তাদের ভাগ্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। অনেক সময় উপজেলা সদরে চিকিৎসার জন্য আসতে আসতে রোগীর মৃত্যু ঘটে। চরাঞ্চলে স্কুলগুলোতে শিক্ষক সমস্যা দূরীকরণে চরের অষ্টম শ্রেণী পাশ ছেলে-মেয়েদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়ার সুপারিশ করে ইব্রাহিম খালেদ বলেন, এর মাধ্যমে চরাঞ্চলে শিক্ষার নিবন্ধন বাড়বে এবং শিক্ষার হার বৃদ্ধি হবে। তিনি বলেন, চরের মানুষের জন্য টানা পাঁচ বছর নিবিড়ভাবে কাজ করলে তাদের ভাগ্যোন্নয়ন হবে।

প্রিয়া পাওয়েল চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে তাদের প্রতি ‘বিশেষ ফোকাস’ দেয়ার সুপারিশ করেন। তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দেশকে উন্নয়নের একটি বিশেষ লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য প্রশংসনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। আমরা আশা করি যে, এদেশের ৩২ জেলার ১০০ চরের প্রায় ৬০ লাখ মানুষ এ উন্নয়নের সুফল ভোগ করবে। তিনি চরাঞ্চলের মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানের সমস্যা সমাধানে সরকারের বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

বাংলাদেশ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রশংসা করে প্রিয়া বলেন, আমরা আশা করি যে, এর মাধ্যমে দেশের প্রবীণ, দরিদ্র, হতদরিদ্র এবং নারীর সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে। তিনি ২০১৫-১৯ পর্যন্ত সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় গৃহিত উদ্যোগসমূহের সফল বাস্তবায়ন ও টেকসই উন্নয়নের জন্য সরকারি পর্যায়ে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ডিএফআইডি, অস্ট্রেলিয়ান হাই কমিশন, কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড, অক্সফ্যাম, কেয়ার বাংলাদেশ, ওয়াটার এইড, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, ইসলামিক রিলিফ এবং জাতীয় পর্যায়ের উন্নয়ন সংস্থা সিএনআরএস, গণস্বাক্ষরতা অভিযান, ডরপ, উন্নয়ন সমুন্বয়সহ তৃণমূল পর্যায়ের ৮০টির ও বেশি সংগঠনের অংশগ্রহণে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনে চরের মানুষ, জনপ্রতিনিধি, গবেষক, সিবিও প্রতিনিধি, উন্নয়ন কর্মীসহ প্রায় ১২’শ প্রতিনিধি অংশ গ্রহণ করে। সম্মেলনে ছয়টি সেশনে চরের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে ১৪টি প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয়।

বিকেলে সমাপনী অধিবেশনে সম্মেলনের পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

শীর্ষ ১০০ ঋণখেলাপির তালিকা

ষ্টাফ রিপোর্টার :: দেশে বর্তমানে ঋণখেলাপির সংখ্যা ২ লাখ ৩০ হাজার ৬৫৮ ...