চরফ্যাশন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিত্যাক্ত ঘোষনার পরও চলছে চিকিৎসা

চরফ্যাশন স্বাস্থ্য কমপ্লেকেক্সশিপুফরাজী, চরফ্যাশন প্রতিনিধি :: ভোলা চরফ্যাশন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিত্যাক্ত ঘোষনার পর ও চলছে চিকিৎসা। স্বরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বারান্দার ফ্লোরে, সিড়ির নিচে চলছে রোগীর চিকিৎসা।

জানা যায়, গত বছর আগস্ট মাসে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ভবনটি পরিত্যাক্ত ঘোষনা করেছেন। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা ঐ পরিত্যক্ত হাসপাতালের বারান্দায় ১ম তলা, ২য় তলার ফ্লোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এতে করে রোগীদের আবাসিক সন্‌কট চরম আকার ধারন করায় চিকিৎসা সেবায় বঞ্চিত হচ্ছেন বহু দুর হতে আসা রোগীরা।  এ সমস্যা বিগত ১ বছর যাবৎ হওয়ার কারনে উপজেলার ৭ লক্ষ মানুষের চিকিৎসা সেবা বিপর্যয়ের আশংন্‌কা দেখা দিয়েছে।

১৯৬২ সালে ভবন টি ৩১ শয্যা বিশিস্ট নির্মান করা হলে ও ২০০৩ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। হাসপাতালটি মেরামত ব্যাতীত আর কোন পরিবর্তন ঘটেনি। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে বর্হিবিভাগে প্রতিদিন ৫০০থেকে ৬০০ রোগী সেবা নিচ্ছেন। প্রতিদিন গড়ে ৮০ জন রোগী ভর্তি হয়ে হাসপাতালে অবস্থান করছেন।

বিশাল সংখ্যক জনগোস্টির চরফ্যাশনের রোগী, দর্শনাথী, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের প্রতিটি মুহুর্ত ঝুকিপুর্ন এ ভবনে মৃত্যর হুমকি মাথায় রেখেই কাজ করতে হচ্ছে। পুরাতন এ ভবনে ২৭ টি শয্যার পাশাপাশি ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ২ টি শয্যা পরিত্যাক্ত ঘোষনার ফলে ও প্রশাসনিক কর্মকান্ড, শিশু, নারী, ডায়রিয়া রোগীদের সেবা এই ভবনেই চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থান সংকুলান না হওয়ায়  বারান্দা আর সিঁড়ির নিচে বিভিন্ন বয়সের রোগীরা সারিসারি বিছানা পেতে শুয়ে ও বসে রয়েছে যত্রতন্ত্র শয্যা পেতে থাকা শিশু, নারী ও নবজাতক রোগীদের কাতারে।

এদিকে বৃস্টির পানি যেমন রোগীদের বিছানা পত্র ভিজিয়ে দিচ্ছেন তেমনি রোদের উওাপে ও কস্টের সীমা থাকে না। ভবনটির ছাদ আর ভীমের ফাটল দিনে দিনে বেড়ে সিলিংয়ের ছাদ ভেংগে পলেস্টারের টুকরো খসে পড়ে আহত হচ্ছে রোগী,দর্শনাথী, আর কর্মরত ব্যক্তিই।

চরফ্যাশন স্বাস্থ্য কমপ্লেকেক্সসহকারী সার্জন ঢা: শোভন বসাক জানান, চরফ্যাশন উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের ৭ লাখ মানুষের  ৫০ শয্যার এই হাসপাতালের বর্হিবিভাগে প্রতিদিন ৫শ’-৬শ’ রোগী সেবা নিচ্ছেন এবং দৈনিক গড়ে নূন্যতম ৮০ জন রোগী ভর্তি অবস্থায় হাসপাতালে অবস্থান করছেন। কখনো কখনো ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা ১শ’ সীমা অতিক্রম করে। বিশাল সংখ্যক রোগী, দর্শনার্থী আর কর্মকর্তা কর্মচারীদের প্রতিটি মুহূর্ত মৃত্যুর হুকমী মাথার উপর রেখেই ঝুঁকিপূর্ণ ছাদের নিচে অবস্থান করতে হচ্ছে। মাথায় আছড়ে পড়ছে ছাদ-এমন আশংকা মাথায় রেখেই কাজ করতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, চরফ্যাশন উপজেলার ৭ লাখ মানুষের পাশাপাশি নিকটতম দূরত্বের কারণে প্রতিবেশী উপজেলা লালমোহন, মনপুরা এবং পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার সীমান্ত গ্রামের রোগীরাও এখানে ভীর করছে। ফলে বর্ধিত রোগী সামাল দিতে নির্ধারিত ৫০ শয্যার চেয়ে অতিরিক্ত শয্যার ব্যবস্থা আছে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ভবন পরিত্যক্ত  ঘোষণার ফলে রোগীদের সীমাহীন দূর্ভোগে   হাসপাতাল জুড়ে বিপর্যস্ত অবস্থা বিরাজ করছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.মো. সিরাজ উদ্দিন জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ঝুঁকিপূর্ণ পুরাতন ভবন ভেঙ্গে নতুন ভবন নির্মাণ করার জন্য ১১ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প প্রস্তাব তৈরী করে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে জামা দেয়া হয়েছে। দ্রুত ভবনটি নির্মাণ করা না হলে  উপজেলার ৭ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় চরম সংকট দেখাদিতে পারে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মহিলা ও শিশু হাসপাতাল উদ্বোধন

নতুন মহিলা ও শিশু হাসপাতাল উদ্বোধন

স্টাফ রিপোর্টার :: মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি ...