চরফ্যাশনে বিএনপির প্রার্থীদের নির্বাচন বর্জনের মধ্যদিয়ে ৩ ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন

চরফ্যাশনে বিএনপির প্রার্থীদের নির্বাচন বর্জনের মধ্যদিয়ে ৩ ইউপি নির্বাচন সম্পন্নশিপুফরাজী, চরফ্যাশন প্রতিনিধি :: ওপেন সীল, এজেন্ট বের করে দেওয়া, এজেন্টেদের হুমকি-ধামকিসহ নানা অভিযোগ এনে ভোলার চরফ্যাশনে ৩ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন বর্জন করেছে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। সকাল ১০টার পর তারা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে ঘোষণা দিলেও বৃহষ্পতিবার দুপুর ১টার দিকে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলার নীল কমল ইউনিয়নের বিএনপির প্রার্থী নওরোজ বাবুল তার দুলার হাটের নির্বাচনী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, নির্বচনের আগ থেকেই ক্ষমতাশীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও তার লোকজন বিভিন্নভাবে তার নেতাকর্মীদের হুমকি ও নির্বাচন থেকে সরে যেতে বলে।

সকল কিছু উপেক্ষা করে আজ (বৃহষ্পতিবার) সকাল ৮টা থেকে ইউনিয়নের সকল কেন্দ্রে নির্বাচনী এজেন্ট দেওয়া হয়। কিন্তু শুরুর আধা ঘন্টার মাথায় আওয়ামী লীগের এজেন্টরা তাদের পক্ষের ভোটারদের কাছ থেকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে ওপেন ছিল দিতে বাধ্য করে। কয়েকটি কেন্দ্রে থেকে এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগও করেন বিএনপির এ চেয়ারম্যান প্রার্থী।

এমনকি আওয়ামী লীগের প্রার্থী আলমগীর হোসেন হাওলাদার নিজেই ৪নং কেন্দ্রের বিএনপির এজেন্ট মোকছেদ আলমকে ধাক্কা দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। এ নিয়ে কর্তব্যরত প্রিজাইডিং অফিসার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালেও তারা কোনো প্রকার ব্যবস্থা গ্রহন করেননি।

এছাড়াও ভোট শুরু হওয়ার এক ঘন্টার মাথায় সকল কেন্দ্রে থেকে তাদের নির্বাচনী এজেন্টদের বের করে দেয়। তাই আমরা এ সকল অনিয়মের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে নির্বাচন সকাল ১০টা থেকেই বয়কট করেছি। বাকী প্রার্থীরা হলেন আমিনাবাদ ইউনিয়নের গোলাম আকতার ও জিন্নাগর ইউনিয়নের ইমরান ভুঁইয়া।

এর আগে সকাল ৮টা থেকে তিনটি ইউনিয়নের ২৮টি কেন্দ্রে একযোগে ভোট গ্রহন শুরু হয়। বাহিরে ভোটারদের ব্যাপক উপসি’তি থাকলেও ভিতরে চলছে অনিয়ম। ওপেন ভোট দেয়া, অন্যপ্রার্থীর এজেন্টের কার্ড ব্যবহার করে নৌকার পক্ষে কাজ করতেও দেখা গেছে অনেককে। কেউ আবার ছবি ছাড়াই এজেন্ট আইডি ব্যবহার করছে। দোহাই দিচ্ছে ক্ষমতাশীন দলের।

চরফ্যাশনের নীলকমল ইউনিয়নের ৬নং কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় মো. আলমগীর হোসেন নামের এক লোক হাতপাখা মার্কার এজেন্টে নাম লিখিয়ে নৌকার পক্ষে ওপেন সীল দিতে বাধ্য করছে। এজেন্ট কার্ডের পাশাপাশি তার বুকে লাগানো রয়েছে নৌকা প্রতিকের স্টিকার।

একই পরিস্থিতি ৩ ইউনিযনের অধিকাংশ কেন্দ্রগুলোতে। তবে ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী ও এজেন্টরা বাহিরের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ থাকলেও কেন্দ্রের ভেতরে অনিয়মের নানা অভিযোগ করেছে। দুপুর ১২টার দিকে নীল কমল ইউনিয়নের ২নং ভোট কেন্দ্রে দুই মেম্বার প্রার্থীর মধ্যে একাধিকবার ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

তবে এসকল অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী আলমগীর হাওলাদার বলেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবেই হচ্ছে। তাদের কোনো এজেন্টকে বের করে দেয়া হয়নি। তারা নিজেরাই পরাজয় ভেবে বেরিয়ে গেছে। বিএনপি অতীতের মত অনিয়মের অভিযোগ এনে নির্বাচন বয়কট করেছে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সুবর্ণচরে সড়ক দূর্ঘটনায় স্কুল ছাত্রের মৃত্যু

সুবর্ণচরে সড়ক দূর্ঘটনায় স্কুল ছাত্রের মৃত্যু

মুজাহিদুল ইসলাম সোহেল,  নোয়াখালী প্রতিনিধি :: নোয়াখালী সুবর্ণচর উপজেলায় রিয়াজ উদ্দিন (১০) ...