চরফ্যাশনে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ: আহত -১১

ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষশিপু ফরাজী, চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি:: চরফ্যাশন সরকারি কলেজের ফেসবুকে  মন্তব্য করা নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে হামলা, ভাংচুরের ঘটনায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ঈমন গ্রুপ সমর্থিত মোঃ নজরুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক মেহেদী হাসান সোহাগ ও সরকারি কলেজের শিক্ষক ছলেমান গ্রুপের মনজু পঞ্চায়েতসহ কমপক্ষে ১১ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে সোহাগ গ্রুপ উপজেলা সদরের ফরাজি মার্কেটের দুটি দোকান ভাংচুর করে। ওই মার্কেটের মনিরের চা দোকানে শিক্ষক মোঃ ছলেমান অবস্থান করার সংবাদে ওই দোকানও ভাংচুর করা হয়। বুধবার রাত থেকে গতকাল পর্যন্ত সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

চরফ্যাশন থানার ওসি এনামুল হক জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ রাত থেকেই দুই গ্রুপকে দুই দিকে সরে যেতে বাধ্য করে। তার পরেও ঝটিকা হামলা হচ্ছে। সোহগের পিতা আবুল কালাম আজাদ বাদি হয়ে থানায় একটি মামলা করেছেন। ওই মামলার আসামী ১৩ জন চিহ্নিত, অহ্ঘাত রয়েছে ৮/১০ জন।

এদিকে রাতেই আহত সোহাগকে চরফ্যাশন হাসপাতাল থেকে আশংকাজনক অবস্থায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে রেফার করা হয়। মনজু পঞ্চায়েতকে গতকাল দুপুরে বরিশাল প্রেরন করা হয়েছে। তার পিঠে ৮ স্থানে রামদার কোপানো জখম রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, মোঃ নজরুল ইসলাম এক সময় সলেমান গ্রুপে ছিল। কলেজ শাখার সাংগঠনিক পদ প্রত্যাশীন নজরুলকে ওই পদে না দেয়ায় সে সলেমান থেকে সরে এসে যোগদেয়  সলেমানের এন্টিগ্রুপ ঈমন গ্রুপে যোগ দেয়। ২০১২ সালে সলেমান ছিলেন উপজেলা ছাত্রলীগের সম্পাদক ও পরে ঈমনও ছিলেন উপজেলা ছাত্র লীগ সভাপতি।

এরা এখন ছাত্রলীগ না করলেও দুজনের বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। সলেমান বর্তমানে সরকারি কলেজের শিক্ষক হলেও মাঠে ছাত্র লীগের একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দেন। ৩ দিন আগে মোঃ নজরুল তার ফেসবুকে সলেমান সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করায়, ক্ষিপ্ত হন সলেমান। বুধবার সন্ধ্যায় সলেমান গ্রুপ নজরুলকে তার বাড়ির কাছাকাছি ধরে বেদম মারধর করে ও আওয়ামী লীগ অফিসে ধরে নিয়ে আসে।

পরের দিন শালিস করা হবে এ মর্মে নজরুলকে হাসপাতালে নেয়ার সময়। সলেমান গ্রুপের ক্যাডাররা পেপসি, সেভনআপসহ কমল পানির কাচের বোতল বিস্ফোরণ ঘটাতে থাকে। এতে ওই সড়কে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে অবশ্য পৌরসভার উদ্যোগে ওই সড়ক থেকে কাচের টুকরো অপসারণ করা হয়। এ সব ঘটনার জের ধরে রাত সাড়ে ১০ টায় নজরুলের সমর্থনে ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ গ্রুপ সলেমান গ্রুপকে ধাওয়া করে।

এ সময় দোকানপাট ভাংচুর করা হয়। এক পর্যায়ে সোহাগকে কুপিয়ে জখম করে ছলেমান গ্রুপ। এদিকে পর দিন গতকাল সকাল ১০টায় ছলেমান গ্রুপ ফের অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়। অপরদিকে দুপুরে সোহাগ গ্রুপ ছলেমান গ্রুপের মনজুকে শরীফ পাড়ার ব্রিজের গোড়ায় পেয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করে। এভাবেই চলছে হামলা পাল্টা হামলা।

তবে কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সভাপতি আশিকুর রহমান শিপন জানান, এটা কলেজ ছাত্র লীগের কোন বিষয় নয়। এটা ব্যাক্তি আক্রোসের জের। সরকারি কলেজের প্রভাষক মোঃ সলেমানকে তার মোবাইল ফোনে কয়েকদফা ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেন নি।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

এ্যাডভোকেট এ.কে.এম শরীফ উদ্দিন

‘দলের জন্য নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী’

বিশেষ প্রতিনিধি :: আসছে একাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিতে রামগতি-কমলনগরের ...