ঘটাকরে জেএসসি পরীক্ষার্থীর বাল্য বিবাহ সম্পন্ন: প্রশাসনকে বৃধাঙ্গুলী

 বাল্য বিবাহ সম্পন্নখোরশেদ আলম বাবুল, শরীয়তপুর প্রতিনিধি :: শরীয়তপুরের ডামুড্যায় উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান-মেম্বারদের উপেক্ষা করে জেএসসি পরীক্ষার্থীর বাল্য বিবাহ সম্পন্ন হয়।

গতকাল শুক্রবার (১ ডিসেম্বর) আনুষ্ঠানিক ভাবে এ বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। গোসাইরহাট উপজেলার সামন্তষার ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান নান্টু প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসন ও জন প্রতিনিধিদের বৃধাঙ্গুলী দেখিয়ে এ বিয়ে সম্পন্ন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কামাল বেপারীর মেয়ে জেসমিন আক্তার ডামুড্যা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পড়াশুনা করে। এ বছর জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেছে। কামাল বেপারী সৌদী প্রবাসী, ছুটিতে দেশে এসে নান্টু চেয়ারম্যানের ভাতিজার সাথে মেয়ের বিয়ে ঠিক করেন। শুক্রবার বাড়িতে বিয়ের আয়োজন করা হলে ইসলামপুর ইউপি সদস্য আলমগীর সরদার, মহিলা সংরক্ষিত সদস্য নিলুফা, বর্তমান চেয়ারম্যান আমিন উদ্দিন ঢালী, সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্যা, ডামুড্যা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলমগীল মাঝি বাল্যবিয়েতে বাঁধা প্রদান করে ব্যর্থ হয়।

পরবর্তীতে ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোজী আক্তার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে পাঠিয়ে বিয়ের কার্যক্রম স্থগিত করেন।

কিন্তু কোন বাধাই বিয় ঠেকাতে পারেনি। সামন্তষার ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান সাথে করে কাজী নিয়ে এসে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে বাল্যবিবাহের কাবিন সম্পন্ন করে ভাতিজা বধূ হিসেবে জেসমিনকে তাদের বাড়ি নিয়ে যায়। বাড়িতে শনিবার (২ ডিসেম্বর) বৌ-ভাত অনুষ্ঠান চলছে।

সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নিলুফা ও ৭ নং ওয়ার্ড মেম্বর আলমগীর সরদার বলেন, বাল্যবিবাহের সংবাদ পেয়ে কামাল বেপারীর তারাশিমুলিয়ার বাড়িতে যাই। বাল্যবিয়ের অনুষ্ঠান বন্ধের জন্য বললে তার কোন কর্ণপাত করেনি। জন প্রতিনিধি হয়ে বাল্যবিয়ে সমর্থণ করতে পারি না। তাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি অবগত করি।

তাদের নির্দেশে উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসের স্টাফ এসে বিয়ে বন্ধ করেন এবং কনের পিতার কাছ থেকে প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত মেয়ে বিয়ে দিবেন না মর্মে অঙ্গীকার নামা গ্রহন করেন। তারপরেও বিয়ে সম্পন্ন করা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো মতো হয়েছে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন মাঝি বলেন, বাল্যবিবাহ সংগঠিত হচ্ছে শুনে উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসের রইছ উদ্দিন নামে এক স্টাফকে পাঠিয়ে বিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। পরে কিভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে আমার জানা নাই।

ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোজী আক্তার বলেন, বাল্যবিবাহের সংবাদ পেয়ে লোক পাঠিয়ে অনুষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। পরবর্তীতে বাল্যবিয়ে সংগঠিত করে থাকলে আইন অমান্য করেছে। আইন ভঙ্গকারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

‘আমাকে এখনও কেন হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে না’

ষ্টাফ রিপোর্টার :: বিএনপি চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ৮ মাস ...