গ্রেপ্তারের নির্দেশ সত্ত্বেও কলকাতায় অনুষ্ঠান করে গেলেন মমতাজ

 

‘নান্টু ঘটকের কথা শুইন্যা….,বা খাইরুল লো তোর লম্বা লম্বা চুল’..গানের জন্য তিনি বিখ্যাত। তিনি সংগীতশিল্পী।দুই বাংলায় সাম্প্রতিককালে জনপ্রিয়তা কুড়িয়েছেন।সেই তিনিই আবার বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামি লীগ দলের সংসদ সদস্য।এহেন এক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধের পশ্চিমবঙ্গে অন্তত ১৪ লক্ষ টাকা জালিয়াতির অভিযোগ ঝুলছে।অভিযুক্ত সেই মমতাজ বেগমের জামিন বাতিল করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। বহরমপুরের আদালত তাকে ফাটকে ঢোকাতে বলেছে।কিন্তু তিনি সম্প্রতি কলকাতায় অনুষ্ঠান করে ঢাকা ফিরে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের বাসিন্দা শক্তি শংকর বাগচী ।গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১১ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে শক্তি শংকর বাগচী এক লিখিত আবেদনে জানান, বাংলাদেশের গায়িকা ও সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম ভারতে অনুষ্ঠান করার নামে তার কাছ থেকে ১৪ লাখ ভারতীয় টাকা নেন। মমতাজ তার নিজের প্যাডে লিখে স্বাক্ষর করে বাগচীর বাড়িতে সাক্ষীদের সামনে এই টাকা নেন। কিন্তু চুক্তি মতো তিনি কোনো কাজ করেননি। মমতাজের প্রতারণায় বিপুল অর্থের দেনায় জর্জরিত হয়ে সকল প্রমাণপত্রসহ বহরমপুর আদালতে যান শক্তি শংকর বাগচী।

শক্তি শংকর বাগচী আবেদনে অভিযোগ করেন, এরপর মমতাজ বেগম আদালত এড়িয়ে চলতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত আদালত মমতাজ বেগমের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। বিষয়টি দুই দেশের পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি হওয়ার পর মমতাজ বেগম ২০১০ সালের ১৯ মে আদালতে উপস্থিত হয়ে কিছু শর্ত সাপেক্ষে জামিন নেন। এরপর ভারত থেকে বাংলাদেশে চলে যান। আদালতের দেয়া যে শর্তে তিনি জামিন পান তা মানেননি মমতাজ। এমনকি বার বার নির্দেশ সত্ত্বেও কলকাতা হাইকোর্টে হাজিরও হননি। এ অবস্থায় কলকাতা হাইকোর্ট শক্তি বাগচীর জামিন বাতিলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৮ মার্চ ও ২৬ আগস্ট ২০১১ মমতাজ বেগমের জামিন বাতিল করে রায় দেয়।

শক্তি শংকর বাগচী তার লিখিত অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলেন, “বিষয়টি আপনার কাছে আগেও লিখিত আকারে জানিয়েছি। কিন্তু কোনো সুচিবার পাইনি। পুনরায় আপনার কাছে আবেদন করছি। সুবিচার করে আমাকে ও আমার পরিবারকে বাঁচান।”

উল্লেখ্য, শক্তি শংকর বাগচী প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো আবেদনের কপি জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনারের বরাবরেও পাঠিয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

শক্তি শংকর বাগচী আরও অভিযোগ করেন, কলকাতায় মমতাজ বেগম একটি নির্দিষ্ট ঠিকানায় আসেন আবার অনুষ্ঠান করে চলে যান।অভিযোগকারীর দাবি,সম্প্রতি কলকাতায় ভাইফোঁটার দিন শাসক গোষ্ঠীর এক বিধায়ককে ফোঁটা দিয়ে সেই শিল্পী,বাংলাদেশী সংসদ সদস্য তথা এদেশে আসামি হিসাবে অভিযুক্ত নিশ্চিন্তে বাংলাদেশে ফিরে গেছেন ।শক্তি শংকর বাগচী দুদেশেরই সরকারের কাছে এ জালিয়াতির প্রতিকার চেয়েছেন।

এস.ইসলাম, কলকাতা

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

 'আউটসোর্সিং ও ভালোবাসার গল্প'

 ‘আউটসোর্সিং ও ভালোবাসার গল্প’

স্টাফ রিপোর্টার :: মাহাবুব এক স্বাধীনচেতা যুবক। নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা ছেলেটি ...