Home / Featured / ‘গ্রামের সমস্যা সমাধান হচ্ছে গ্রাম আদালতেই’

‘গ্রামের সমস্যা সমাধান হচ্ছে গ্রাম আদালতেই’

গ্রামের সমস্যা সমাধান হচ্ছে গ্রাম আদালতেইশিপুফরাজী, চরফ্যাশন :: চরফ্যাশনের উত্তর মাদ্রাজ গ্রামের রহিমা বেগম ও তানিয়া বেগমের মধ্যে জমি জমা নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে এক বছর আগে তানিয়া বেগম বাড়ির উঠানে মধ্যে পাকা দেয়াল তুলে দেন। এতে রহিমা বেগমসহ তিন পরিবারের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারটি আদালতে সরনাপন্ন হয়। কিন্তু আদালতে বিষয়টির মীমাংসা হতে বিলম্ব হওয়া গ্রাম আদালতে শরণাপন্ন হন রহিমা বেগম।

জিন্নাগড় ইউনিয়ন আদালতে সমঝোতার মাধ্যমে মাত্র এক মাসের মধ্যে দেয়াল ভেঙে অবরুদ্ধ তিন পরিবারের চলাচলের সুব্যবস্থা করেন। দীর্ঘ দিনের বিরোধ মিটিয়ে ফিরে আসেন সৌহান্দ্যপূর্ণ সম্পর্কে। এভাবে চলতি বছর উপজেলার ১৯টি গ্রাম আদালতে সহশ্রাধিক বিরোধের সমাধা দেয়া হয়েছে।

বিচার পদ্ধতি সহজ ও ভোগান্তি না হওয়ায় ভোলা জেলার চরফ্যাশনে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমের সুফল পাচ্ছেন প্রান্তিক মানুষ। ছোটখাট বিরোধ নিয়ে জেলা-উপজেলার আদালতে আসার সংখ্যাও কমতে শুরু করেছে। চলতি বছর উপজেলার গ্রাম আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে সহশ্রাধিক মামলা। তা ছাড়া বিচার পদ্ধতি সহজ ও ভোগান্তি না হওয়ায় উকিল মোক্তারের পরিবর্তে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ওপর আস্থা রাখছেন এলাকাবাসী। অল্প সময়ে সহজ বিচার প্রক্রিয়ার কারণে গ্রাম আদালত নিয়ে আশার কথা জানালেন উপজেলা প্রশাসন।

এই গ্রামের আরেক নারী ময়ফুল বেগম জানান, গ্রাম্য আদালতে মাধ্যমে মীমাংসার পর দেয়াল ভেঙে দুটি পরিবার সুখে শান্তিতে মিলে-মিশে বসবাস করতেছি।

উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চরকুকরী মুকরী ইউনিয়নের হাজিপুর গ্রামের মাজেদা খাতুন জানান, লেন-দেনের সংক্রান্ত মামলা ছিল গ্রাম্য আদালতে। এর মাধ্যমে আমি আমার ১৫ হাজার টাকা ফিরে পেয়েছি।তেতুলিয়া নদীর ওপার উপজেলার মজিব নগর ইউনিয়নের সিকদার চরের হাবুল মাঝি জানান,চরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ছিল।গ্রাম্য আদালতে সমাধা হয়েছে। এখন কোন প্রকার হইচই নেই। কাগজপত্র দেখিয়ে আমি আমার জমি ফিরে পেয়েছি।

গ্রামের সমস্যা সমাধান হচ্ছে গ্রাম আদালতেইএদিকে ভোগান্তি ও হয়রানি ছাড়া সমস্যার সমাধা দিতে পারার বিষয়টিকে জনকল্যাণমূলক মনে করেন গ্রাম্য আদালতে বিচারকরা।

ভোলা চরফ্যাশনের জিন্নগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হোসেন মিয়া বলেন, আমরা আলাপ-আলোচনা করে কাগজ দেখে সুষ্ঠ সমাধা দেই। এতে গ্রামের সাধারণ মানুষ এই গ্রাম আদালতের মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছে।

চরফ্যাশনের চরকুকরী মুকরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম মহাজন বলেন, আমার ইউনিয়নে ফৌজদারি মামলা একবারে নেই বললেই চলে, টুকি টুকি যা হয়, তা আমরা গ্রাম্য আদালতে মাধ্যমে সমাধান করে দেই।

এদিকে দরিদ্র মানুষ ও অবহেলিত নারীদের সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণসহ নানা সহায়তা করছেন ইউএনডিপি। ভোলা জেলা কর্মকতা মো শফিকুল রহমান বলেন, আমরা আমাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য সামনে নিয়ে এগুচ্ছি। আশা করি আমরা আমাদের লক্ষ্য উদ্দ্যেশে পৌঁছতে পারবো।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন বলেন, জনগণ অল্প সময়ে ও কম খরচে তাদের হাতের কাছে বিচার পাচ্ছে। আমার মনে হয় এতে তারা খুশি।

জেলার চরফ্যাশনসহ পাঁচ উপজেলায় ৪৮টি গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সচল রয়েছে। এসব আদালতে মাত্র ২০ টাকায় বিচার কাজ সম্পন্ন করা হয়।

Print Friendly, PDF & Email

About ahm foysal

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

রাজিব-স্বরলিপির ‘কেন মনে হয়’

রাজিব-স্বরলিপির ‘কেন মনে হয়’

স্টাফ রিপোর্টার :: সম্প্রতি নির্মিত হলো রাজিব ও স্বরলিপির মিউজিক ভিডিও ‘কেন ...