গৃহবধু ও প্রবাসীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন: ২৪ জনকে আসামী করে মামলা, গ্রেফতার-২

গৃহবধু ও প্রবাসীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন: ২৪ জনকে আসামী করে মামলা, গ্রেফতার-২জহিরুল ইসলাম শিবলু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:: ইউপি চেয়ারম্যানের ও মেম্বারের নির্দেশে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে গৃহবধু ও এক প্রবাসীকে গাছের সাথে বেঁধে বর্বর নির্যাতন চালানো হয়েছে। পরে দুইজনকে কোমরে দড়ি বেঁধে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরিয়ে আনন্দ উল্লাস করা হয়। শালিস বেঠকের নামে দুই লাখ টাকা আদায় ও জোর করে কয়েকটি ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়ার অভিযোগও রয়েছে ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন ও মেম্বার ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেনসহ ২৪ জনকে আসামী করে শুক্রবার রাতে রামগঞ্জ থানায় মামলা করেন নির্যাতিত ওই নারী। রাতে পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফারুক হোসেন ও সিরাজ নামে দুইজনকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, রামগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের ফতেহপুর এলাকার হতদরিদ্র ৫ সন্তানের জননী (পারুল বেগম) প্রতিদিনের মত সন্তানদের নিয়ে ১আগষ্ট মঙ্গলবার রাতে ঘুমিয়ে পড়ে। অনৈতিক কার্যকলাপের অপবাধ দিয়ে ইউপি সদস্য ফারুক ও রুবেলের নেতৃত্বে ২০/২৫ জনের একদল লোক ওইদিন রাত সাড়ে তিনটার দিকে পারুল বেগমের ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে। পরে তাকে টেনে হিছড়ে ঘর থেকে বের করে  সুপারির বাগানে গাছের সাথে বেধে ব্যাপক মারধর করে।

এর আগে একই বাড়ির প্রবাসী সবুজকে একই কায়দা গাছের সাথে বেধে নির্যাতন চালায় তারা। পরে দুইজনকে কোমর দড়ি বেধে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরিয়ে আনন্দ উল্লাস করে। পূনরায় ওই বাগানে গাছের সাথে তাদের দুইজনকে বেধে রাখা হয়। পরের দিন বেলা ১১টার দিকে বাড়িতে শালিস বৈঠকের আয়োজন করে। এ সময় ওই নারী ও প্রবাসীকে দুই লাখ টাকা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয় চেয়ারম্যান। এসময় পারুল বেগমের স্বামী আবদুর রহমানকেও বেদম মারধর করা হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্যাতিতদের কাছ থেকে দাবীকৃত দুই লাখ টাকা আদায় করা হয়। ওই নির্যাতনের চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা ঝড় উঠে জেলায় জুড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরির্দশন করে। শুক্রবার রাতে নির্যাতিত পারুল বেগম বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলায় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেনসহ ১৩জনের নাম উল্লেখ করে আরো ১১জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়। রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ফারুক হোসেন ও সিরাজ নামে দুইজনকে গ্রেফতার করে। জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছে স’ানীয়রা।

নির্যাতিত পারুল বেগম ও সবুজ জানায়, চেয়ারম্যান কামাল হোসেনের নির্দেশে মিথ্যা অপবাধ দিয়ে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন চালিয়েছে ইউপি সদস্যসহ অন্যরা। কোমরে দড়ি বেঁধে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরিয়ে উল্লাস করা হয়। পরে বিচারের নামে জোর করে কয়েকটি সাদাকাগজ ও ৪টি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয় চেয়ারম্যান। এ সময় বিচারের নামে দুই লাখ টাকাও আদায় করেন নেয় তারা।

ঘটনার পর এলাকায় কাউকে মুখ দেখাতে পারিনা। ঘটনার পর থেকে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যসহ তাদের লোকজনের হুমকি ধুমকিতে ভয়ে আতংকে আছি। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমুলক বিচার চেয়েছেন তারা।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও নিজেদের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন ও সদস্য ফারুক হোসেন বলেন, জরিমানার দুই লাখ টাকা দিয়ে পুকুরের ঘাটলার কাজ করা হবে। অনৈতিক কাজ করায় এলাকাবাসী তাদের দুইজনকে আটক করে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন করছে বলেও দাবী করেন তারা। এ ঘটনার সাথে তারা কোনভাবে জড়িত নয়।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর পুলিশ সুপার আ স ম মাহাতাব উদ্দিন জানান, নির্যাতনের সত্যতা মিলছে। এ ঘটনা কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা। ঘটনার সাথে জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

শতকোটি টাকার মালিক সেই মুচি জসিমকে গ্রেপ্তার

ষ্টাফ রিপোর্টার :: গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা, মৌচাকসহ আশপাশের এক আতঙ্কের নাম ...