গুম-হত্যার প্রতিকার নয়, সমালোচনায় ব্যস্ত তাঁরা !

 

আমাদের এই স্বাধীন বাংলাদেশ, অনেক ত্যাগ, তৃতীক্ষা, রক্তআর মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়েঅর্জিত এ স্বাধীন বাংলাদেশ, আজ ইতিহাসের এক সর্বকালের কঠিনসময় পার করছেপ্রতিদিনই গুম-অপহরণ-হত্যা-ধর্ষন–রাহাজানিসহনানা ভয়ানক বাজে অপকর্মের মধ্যেদিয়ে প্রতিটি সময় অতিবাহিতকরছে আজ সাধারণ মানুষসহ দেশেরসকল সর্বসাধারণ যেন হারিয়েফেলেছে তাদের স্বাভাবিক জীবনেরঅনেকটা নিশ্চয়তাপ্রায় প্রতিদিনইপরিবারের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটিকেহারিয়ে নির্বাক এবং শোকে পাথরহয়ে পড়ছে সেই সুখী পরিবারটিগুম এবং হত্যা নামক সবচেয়েনির্মম বাস্তবতায় হারিয়ে যাচ্ছেসবচেয়ে প্রিয় মানুষটি না ফেরারদেশে, আর সেই পরিবারের সদস্যরাশুধু বুক ফাটা কান্না আর আহাজারিতেপ্রতিটি সময় পার করছে

 এছারা সাধারণ মানুষ যেন প্রতিদিনসকালে ঘুম থেকে উঠে অফিস অথবাকর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বাসাথেকে বের হওয়ার পর আবার পুনরায়বাসায় ফিরবে কি-না, না-কি গুমঅথবা হত্যায় তার জীবনটি হারিয়েযাবে, এরকম নানা শংকায় প্রতিটিমুহুর্ত অতিক্রম করছেআজ বাংলায়প্রত্যেক মানুষ যেন তাদের প্রতিটিক্ষণ পার করছে এক বিশাল শংকা, অনিশ্চয়তা আর গুম-হত্যার শংকায়কিন্তু এখন সবার মনে প্রশ্নআর সরকারে কাছে জানার ইচ্ছাএই গুম–অপহরণ আর হত্যা থেকেকোন প্রতিকার বা বাঁচার কোনউপায় আছে কি? না-কি এই সকল গুম-অপহরণ-হত্যাআর ধর্ষন দিন দিন আরো বাড়তেইথাকবে? বাংলার আপামর জনতারমনে একটাই ছোট্ট চাওয়া সেটিহলো তাঁরা চায় গুম-অপহরণ আরহত্যা থেকে বাঁচতে আর চায় স্বাভাবিকভাবে মরতে

এমতাবস্থায় দেশের প্রায় প্রতিটি মানুষ যখন গুম-হত্যা-অপহরণ থেকে বাঁচতে আর স্বাভাবিক ভাবে মৃত্যুর গ্যারান্টি চায় তখন আমাদের দেশের মহান দুই নেতা এই জঘন্য অপরাধের হাত থেকে প্রতিকারের তেমন কোন ভাষা নয় বরং তারা নিজেদের আক্রোশ মেটাতে বিপক্ষ দলের প্রতি নিজেদের বিখ্যাত বিখ্যাত উক্তি এ সমালোচনার বাণী সুন্দরভাবে আওরায়ে যাচ্ছেন আর বাংলার নীরিহ সাধারন মানুষকে বোকা বানিয়ে নিকৃষ্টতম খেলায় মেতে উঠেছেন

 গত কয়েকদিন আগে নারায়ণগঞ্জের কথা না বললেই না, দেশের অন্যতম এই ভায়ানক শহরটিতে সাত সাতজন মানুষকে অপহরণ করার পর কি নির্মমভাবে হত্যা করা হল, যেটা স্বাধীন বাংলার ইতিহাসে অন্যতম জঘন্যতম এক কালের স্বাক্ষী হয়েই সবার মনে থাকবেঅথচ এর একদিন পরই আমাদের দেশের মহান দুই নেত্রী আওয়ামীলীগের সভানেত্রীদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপির সভানেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাঁরা তাঁদের বক্তব্যে রাজনৈতিক ভাষাতেই গুম-অপহরণ থেকে তেমন কোন প্রতিকারের ভাষা নয় বরং বিপক্ষ দলের প্রতি নিজেদের আক্রোশের বাণী শোনালেন

 আওয়ামীলীগ সভানেত্রী এবং দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোন রকম তদন্ত না করেই এক বাক্যে গুম-অপহরণের জন্য বিএনপিকে দায়ী করে বললেন, সারাদেশে গুম-অপহরণের জন্য বিএনপিই দায়ীতিনি বললেন, বিএনপি চোরাগুপ্তা রাজনীতি করে সরকারের পতন ঘটাতে চাইছেতাদের চোরাগুপ্তা রাজনীতির কারনে দেশের গুম-অপহরণ-হত্যার ঘটনা ঘটেছেতাই বিএনপির ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে

ঠিত তেমনি কম যাননি বিএনপি সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তিনিও তেমনি গুম-অপহরণ থেকে তেমন কোন প্রতিকারের কথা না বলে সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বললেন, সরকারের লোকেরাই এসব গুম-অপহরণ করছে এটা পরিস্কারতাই তারা এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারে নাইতিনি বলেন, তাদের কাছে বিচার প্রতিকার চেয়ে কোন লাভ নেই, এ জন্য সরকারের কাছে নিরাপত্তা না চেয়ে বরং তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান বেগম জিয়া

 এই হলো আমাদের দেশের মহান দুই নেত্রীর ভাষনের সংক্ষিপ্ত বর্নণা যেখানে দেখা যায় তারা এই গুম-অপহরণ এবং হত্যার নিকৃষ্ট পন্থা থেকে সাধারণ মানুষকে বাঁচানোর তেমন কোন উপায় অথবা এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পরিবর্তে তারা নিজেদের রাজনৈতিক আক্রোশ মেটাতে প্র্রতিপক্ষ দলকে যেকোন ইস্যুতে রাজনৈতিক ভাষায় আক্রমন করে যাচ্ছে আর বিপক্ষ দলের সমালোচনায়ই সবসময় ব্যস্ত রয়েছেন কিন্তু বাংলার সাধারণ মানুষকে নিয়ে তাদের ভাবার অথবা সাধারণ মানুষের দু:খ-দুর্দশা নিয়ে কথা বলার মত তেমন সময় তাদের হাতে নেই বললেই নির্দ্বিধায় বলা যায়

 আমরা যদি আওয়ামীলীগ এবং বিএনপিএ দুটি দলের ক্ষমতাকালীন সময়েরদিকে তাকাই তাহলে দেখা যায়গুম-অপহরণ-হত্যা-ক্রসফায়ারসহআরো অন্যান্য অপরাধে কোন সরকারইকারো চেয়ে কম যায়নি, প্রত্যকসরকারের সময়ই ব্যাপক অপরাধসংগঠিত হয়েছেবিগত দুই সরকারেরশাসনামল লক্ষ করলে দেখা যায়১৯৯১ সালের জুন থেকে ১৯৯৬ সালেরমে পর্যন্ত বিএনপি শাসনামলেগুম-হত্যা আর ক্রসফায়ারে মারাযায় ১৭৪ জন, ১৯৯৬ সালের জুন থেকে২০০১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্তআওয়ামীলীগ শাসনামলে মৃত্যুহয় ৮৯৮ জন মানুষেরতেমনি আবার২০০১ সালের অক্টবর থেকে ২০০৬সাল পর্যন্ত বিএনপি শামসনামলেমারা যায় ৮৭২ জনেরএবং গত সরকারঅর্থ্যাৎ ২০০৯ সালের জানুয়ারীথেকে ২০১৩ সালের নভেম্বর পর্যন্তপ্রাণ হারিয়েছে মোট ৫৭৫ জনমানুষএছাড়া বর্তমান আওয়ামীলীগসরকারের শুধূ জানুয়ারী মাসেইহত্যা ও গুম হয়েছে বিরোধীজোটেরপ্রায় ৩০০ জন নেতাকর্মী এবংফেব্রুয়ারী, মার্চ ও এপ্রিলমাসে আরো হারিয়ে গেছে একং হত্যা-গুমহয়েছে প্রায় ৫০০ জনের মতো মানুষতবেএ কথা বলাই যায় বিগত সকল সরকারেরশাসনামলের চেয়ে বর্তমান চলতিসরকারে আমলে সবচেয়ে বেশি মানুষহত্যা-গুম এবং অপহরণে আক্রান্তহচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকগণ

 পরিশেষে বাংলার সাধারণ মানুষেরমনে একটাই চাওয়া তারা এই গুম-অপহরণএবং হত্যা নামক জঘন্য নৃসংসতাথেকে বাঁচতে চায়তাদের একটাইপ্রত্যাশা চায় স্বাবাবিক ভাবেবাঁচতে এবং স্বাভাবিক ভাবেমরতেএবং আমাদের দেশের মহানদুই নেত্রীর কাছে সাধারন মানুষেরএকান্ত অনুরোধ আপনারা সকল বিষয়কেশুধু রাজনৈতিক ভাবে অপব্যাখ্যানা করে দেশের মানুষকে কিভোবেএই গুম অপহরণ, হত্যা থেকে রক্ষাকরা যায় এবং সর্বপরি একটু ভালোভাবেবাঁচার ব্যবস্থা করা যায় সেদিকেনজর দেয়ার জন্য সকলেই প্রত্যাশায়তাঁকিয়ে আছে

লেখক: এস.এম সাজু আহমেদ/

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আরিফ চৌধুরী শুভ

‘শিক্ষা আমার স্বাধীনতার অধিকার, আমৃত্যু লড়ে যাবো অধিকার আদায়ে’

আরিফ চৌধুরী শুভ :: বাংলাদেশে শিক্ষার অধিকার মানুষের সংবিধান স্বীকৃত জন্মগত অন্যতম একটি মৌলিক ...