গুইমারা উপজেলা নির্বাচন: জয় তুমি কার!

গুইমারা উপজেলা নির্বাচন: জয় তুমি কার! আল-মামুন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: আগামী ৬ মার্চ প্রথম বারের মত অনুষ্ঠিতব্য নবসৃষ্ট গুইমারা উপজেলা নির্বাচন। ইতিমধ্যে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো গুইমারা উপজেলায়। ৩ চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রতিদ্ধন্ধীতার মাঠে “জয় তুমি কার” এমন প্রবাদ শুনা যাচ্ছে সাধারণ জনগণের মূখে।

এ উপজেলায় জয়ের লক্ষেকে টার্গেট নিয়ে মাঠে নেমেছে (নৌকা) প্রতিক নিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের মনোনিত মেমং মারমা, (ধানের শীষ) প্রতিক নিয়ে বিএনপির মনোনিত মো: ইউসুফ ও (আনারস) প্রতিক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক হাফছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান উশ্যেপ্রু মারমা।

জয় পরাজয়ের মাঠে অবাধ,সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে শঙ্খা নতুন কিছু নয়। নতুন নির্বাচন কমিশনের অধিনে বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাচনের পর পাহাড়ের দ্বিতীয় নির্বাচন হতে যাচ্ছে খাগড়াছড়ি জেলার নব সৃষ্ট গুইমারা উপজেলায়।

তবে সুষ্ঠ নির্বাচন না কি ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর জয়ের লক্ষে ভোট হতে যাচ্ছে তা নিয়ে নানা গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে লোকের মূখে। শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের আড়ালে জাল ভোটের কারসাজি নিয়েও শঙ্খিত জাতীয় বৃহত্তর রাজনৈতিক দল বিএনপির মনোনিত প্রার্থী।

পাশাপাশি ক্ষমতাহীন এর উপর ক্ষমতাসীনের চাপিয়ে দেওয়া নির্বাচন নামের শব্দ’টির ভিন্নরূপ ঘটতে যাচ্ছে কি না তা নিয়ে দলের মধ্যে গুঞ্জনের শেষ নেই বিএনপির। বিগত দিনের গুইমারাবাসীর প্রত্যাশা পুরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসলেও কোন জনপ্রতিনিধি তাদের কথা রাখেনি বলে অভিযোগের শেষ নেই। গুইমারা সদর ইউনিয়নের অনেক রাস্তা ঘাটের চিত্রই বলে দেয় এ ধরনের অভিযোগের বাস্তবতা।

অনেক সড়কে সেকেলে নির্মিত ইটের রাস্তা থাকলেও বর্তমানে কাচা সড়কের মত বেহাল অবস’ায় পরিণত হয়েছে। তার পরও কোন জনপ্রতিনিধির চোখে পড়েনা। আর সদর বাজারের পানি,শোচাগারসহ নাগরিক সুবিধার দিকে সৃষ্টি দিলেই মিলবে উন্নয়নের দৃশ্যপট ও ভোটের পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। অন্যদিকে এবারের নির্বাচনের ইশতিহারে যোগ হয়েছে নতুন একটি ইস্যু। নতুন উপজেলা বাস্তবায়নে অবদান কার বেশি ?

ভোটারদের মন জয়ের লক্ষে প্রার্থীদের নানা প্রতিশ্রুতি আর মিষ্টি কথার ফুল ঝুঁড়িতে নয় এবার উপজেলাবাসীর দাবী সৎ,যোগ্য,শান্তি-সম্প্রীতি ও উন্নয়নের কর্ণধার হয়ে যে আর্শিবাদ নিয়ে আসবে তাকে চাই গুইমারা উপজেলাবাসী। তবে এ উপজেলায় জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী প্রতিদ্বন্ধী ৩ প্রার্থীই। তাই ভোটের এখন একটাই প্রশ্ন জয় তুমি কার। আওয়ামীলীগের প্রার্থী মেমং মারমা নিজেকে উপজেলা বাস্তবায়নের রূপকার দাবী করে জয়ে লক্ষে তিনি শতভাগ আশাবাদী।

অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাফছড়ির ইউপির চেয়ারম্যান উশ্যেপ্রু মারমাও আনারস প্রতিক নিয়ে ভেতরে ভেতরে পিছিয়ে নেই। উপজাতীয় ভোটারদের বড় একটি অংশ তার উশ্যেপ্রুর ভক্ত বলে দাবী স’ানীয় উলাপ্রু মারমা,আব্দুল মজিদ, ক্যওজাইসহ একাদিক ভোটারের। ফলে আওয়ামীলীগ-বিএনপির কসাকসিতে মাঝপথে জয়ের পথে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে সে এমনি শুনা যাচ্ছে লোকমূখে।

অন্যদিকে-বিএনপি আছে ফুরফরে অবস’ানে ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে মাঠে থাকা মো: ইউসুফের রাজনৈতিক ভাবে যেমনি দূরদর্শী তেমনি ভদ্র,শিক্ষিত ও যোগ্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী হিসেবে রয়েছে সুখ্যাতি। অন্যদিকে জাতীয় প্রতিকে নির্বাচন হওয়ায় হয়েছে প্লাস পয়েন্ট। সব মিলিয়ে ৩ প্রার্থীর মধ্যে দু’জন উপজাতী হওয়ায় ভোটের হিসাব-নিকাশে জয় এখন ভাগ্যের খেলায় পরিণত হয়েছে। তবে অবাধ, সুষ্ঠ,নিরপেক্ষ ও প্রভাবহীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে জনগণের ভোটে জয় সুনিশ্চিত বলে জানান।

প্রসঙ্গত: ২০১৫ সালের ২জুন সরকারের প্রশাসনিক পূনবির্নাস সম্পর্কিত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠকে হাফছড়ি,সিন্ধুকছড়ি ও গুইমারা ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নবসৃষ্ট এ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৭হাজার ৭শ ৮৫ জন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

৩২ ধারা বহাল রেখে ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল পাস

ষ্টাফ রিপোর্টার :: সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন মহলের আপত্তি সত্ত্বেও বহুল ...