ব্রেকিং নিউজ

গভীর সমুদ্রবন্দর হচ্ছে সোনাদিয়াতেই

গভীর সমুদ্রবন্দর হচ্ছে সোনাদিয়াতেইসায়ান তানভি::  কক্সবাজারের সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মানের লক্ষ্যে ২০১৫ সালে চীনের সাথে চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে সেটি বাতিল হয় অজ্ঞাত কারনে। যদিও অনেকে মনে করেন মূলত ভারত সরকারের আপত্তি বা হস্তক্ষেপের কারনে প্রকল্পটি স্থগিত করতে বাধ্য হয় বাংলাদেশ। বলা হয়ে থাকে ভারত চায় না বাংলাদেশের এতো বড় কোন প্রকল্পে আর্থিক এবং কারিগরি সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে চীন এদেশে আধিপত্য বৃদ্ধির সুযোগ পাক। একই সাথে গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপনের মাধ্যমে চীন কিছু সামরিক সুযোগসুবিধা নিতে পারে বলেও ভারতের আশঙ্কা বা সন্দেহ রয়েছে।

পরবর্তীতে সরকার গভীর সমুদ্রবন্দরটি সোনাদিয়ার বদলে পটুয়াখালীর পায়রায় করার সিদ্ধান্ত নেয়। শোনা যাচ্ছিল পায়রায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মানে ভারতের সম্মতি রয়েছে এবং তারা প্রকল্পটিতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।

কিন্তু নানাবিদ কারনে প্রকল্পটির ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়ে এবং এটি নিয়ে কার্যকর তৎপরতাও স্তিমিত হয়ে আসে। বিশেষজ্ঞরা পায়রায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন। পায়রা নদীর খর স্রোত, নাব্যতা, প্রাকৃতিক অবস্থান কোনটাই গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপনের পক্ষে সহায়ক নয় বলে তারা মত দেন।

বস্তুত এসব কারনে সরকারের ভারতপন্থি প্রভাবশালী মহলের অতি উৎসাহ এবং ভারতীয় হস্তক্ষেপের পরও পায়রায় গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপনের প্রকল্পটির বাস্তবায়ন  নিয়ে সংশয় দেখা দেয়।

সর্বশেষ বিগত কয়েকদিনের ব্যবধানে সরকারের তিনজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর বক্তব্যে গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপন বিষয়ে সরকারের অবস্থান খোলসা হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। গত ২৭ এপ্রিল চট্টগ্রামে একটি অনুষ্ঠানে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, পায়রায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মানের পরিকল্পনা থেকে সরকার সরে এসেছে। এটি এখন মহেশখালীতেই হবে। তিনি এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দেখাতে গিয়ে বলেন, পায়রায় সমুদ্রবন্দর নির্মান হবে ব্যয়বহুল এবং সমস্যাপূর্ণ। তুলনায় কক্সবাজার উপকূলে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মান অধিক লাভজনক এবং সুবিধাজনক হবে।

পরদিন ২৮ এপ্রিল বানিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদও চট্টগ্রামে গিয়ে একই ধরনের বক্তব্য দেন। তিনি বলেন মহেশখালী কিংবা মাতারবাড়ী, যেখানেই হোক, গভীর সমুদ্রবন্দর পটুয়াখালীতে নয় চট্টগ্রামেই হবে। একই অনুষ্ঠানে নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাহাজান খানও বানিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি ঘটান।

সরকারের তিনজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর এমন বক্তব্যই প্রমান করে, সরকার গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মান প্রকল্পটি নিয়ে গুরুত্বের সাথে কাজ করছে এবং এর নির্মানে যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল তার অবসান হচ্ছে। মূলত বন্দরটি কোথায় হবে সেটি নিয়েই দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে বলেই প্রতীয়মান। তবে শেষ পর্যন্ত মন্ত্রীদের প্রকাশ্য ঘোষনা সেই সংশয় অনেকটাই কাটিয়ে দিয়েছে।

মন্ত্রীদের বক্তব্যের সুর ধরে এটা সহজেই অনুমান করা যায় মহেশখালীতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মান প্রকল্পের ব্যাপারে সরকারের উচ্চপর্যায়ে ঐক্যমত হয়েছে এবং সর্বসম্মতিকক্রমে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এখন আনুষ্ঠানিক ঘোষনা বা কার্যক্রম শুরু হওয়াটা কেবল বাকী।

সবমিলিয়ে বলা যায় দেশে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মানের যে মেগাপ্রজেক্টের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছিল সেটা কক্সবাজারের মহেশখালী বা মাতারবাড়ীতেই হচ্ছে।

এই গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মান প্রকল্পের প্রাক্কলিত বাজেট ধরা হয়েছিল ৪০ হাজার কোটি টাকা, যার সিংহভাগ চীন যোগান দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। তবে পরবর্তীতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে আলোচনা থেমে যায় দৃশ্যপটে ভারতের আগমনের কারনে।

বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান হেতু একটি গভীর সমুদ্রবন্দর খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এটি স্থাপন করা জরুরি হয়ে পড়েছে অনেক আগে থেকেই। এটি স্থাপিত হলে সৃষ্টি হবে বিপুল কর্মসংস্থান, বাংলাদেশ পরিনত হবে আঞ্চলিক হাবে, প্রচুর পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের সুযোগ তৈরি হবে, সর্বোপরি দেশের অর্থনীতিতে এই গভীর সমুদ্রবন্দরের ফেলবে ইতিবাচক প্রভাব।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

দাঁড়িয়ে থাকা সিএনজিতে ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ৪

ষ্টাফ রিপোর্টার :: চট্টগ্রামের মীরেরসরাইয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি সিএনজির অটোরিকশাতে ট্রাকের ধাক্কায় ...