খেঁজুরের গুড়ে তৈরী মুখোরোচক কয়েকটি পিঠার রেসিপি

শীতের পিঠাতাহমিনা শিল্পী :: ঋতু বৈচিত্রের বিচারে আমরা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি সমৃদ্ধ্ব। ষড়ঋতুর দেশ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। পৃথীবির বেশির ভাগ দেশই দুটি বা তিনটির বেশি ঋতু অনুভব করতে পারেনা। আর আমাদের দেশে প্রতিটি ঋতুরই রয়েছে আলাদা আলাদা রূপ সৌন্দর্য আর বৈশিষ্ট্য। তবে সব ঋতুর মধ্যে শীতকাল অসাধারন প্রাকৃতিক রূপ বৈচিত্র। কুঁয়াশার চাদরে মোড়া, বিন্দু বিন্দু শিশিরে ভেজা ঘাস, হলুদ সরিষা ক্ষেত, খেঁজুরের রস। সব মিলে এক মোহনীয় আবেশ।

শীত মানেই উৎসবের আমেজ। পাড়ায় পাড়ায় পিঠা-পুলি তৈরীর ধুম। গ্রামে প্রতিদিন ভোরে গাছ থেকে নামানো হয় খেঁজুর রসের হাড়ি। আর পাঠখড়ির চোঙা দিয়ে চলে বাচ্চাদের রস খাওয়া। তারপর খেঁজুরের রসে রান্না হয় পায়েশ। আর উঠোনে বড় চুলায় চাতালে রস জাল দিয়ে বানান হয় গুড়। পাটালি, হাজারি। লালি বা ঝোলা কত রকমের গুড়। এই গুড় দিয়ে বানায় ভাঁপা পিঠা। সকালে মুড়ির সাথে এই পায়েশ আর ভাঁপা পিঠাই হয় তাদের সকালের নাস্তা।

আমরা শহরে থাকলেও বাঙালীয়ানা আমাদের মনে থাকে শতভাগ। তাই পিঠা পায়েশের গল্প শুনলেই জিভে পানি এসে যায়, খেতেও ইচ্ছে করে। আসাটাই স্বাভাবিক, বরং না আসাটাই অস্বাভাবিক। তাইতো শীত এলেই আমরা পিঠা কিনতে ছুটে যাই বিভিন্ন দোকানে, শপিংমলে। অনেক জায়গায় হয়ে থাকে পিঠা উৎসব। আমরা আমাদের বাচ্চাদের নিয়ে যাই সেসব উৎসবে পিঠা দেখাতে। আর আমাদের ঐতিহ্যের সাথে পরিচয় করাতে। কিন্তু তাতে কি আমদের মন পরোপুরি তুষ্ট হচ্ছে কি? না বোধহয়! কারণ আমরা সবাই জানি এবং মনে প্রাণে মানি ঘরে তৈরী পিঠার আবেদন আমাদের কাছে কতখানি।

আর মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই চলে যাচ্ছে শীত। যাদের বাসায় এখনো শীতের পিঠা বানানো হয়নি কিন্তু ইচ্ছেটা রয়ে গেছে। তাদেরকে বলছি আর দেরী করবেন কেন? এক্ষুনি সংগ্রহ করে ফেলুন পিঠা তৈরীর সকল উপকরণ। আর আজই বানিয়ে ফেলুন আপনার ও পরিবারের সদস্যদের পচ্ছন্দের পিঠা।

তাইতো শুধুমাত্র আপনাদের জন্যই আজকের এই আয়োজনে থাকল, খেঁজুরের রস ও গুড়ে ঘরে তৈরী করার মতো সহজ ও মজাদার কয়েকটি পিঠার রেসিপি:

payeshপায়েশঃ

যা লাগবেঃ দুধ-২ লিটার, খেঁজুরের গুড়-২৫০ গ্রাম, আতপ চাল-১০০ গ্রাম, কিশমিশ-৫০গ্রাম, এলাচ-২টি। (পরিমানটা পরিবারের সদস্য সংখ্যার উপর নির্ভর করবে)

যেভাবে তৈরী করবেনঃ প্রথমে দুধ ভাল করে জ্বাল দিতে হবে। ১০ মিনিট পর দুধ ফুটে উঠলে তারমধ্যে চাল দিতে হবে। আর চাল ফুটে উঠলে দিতে হবে খেঁজুরের গুড়। তারপর ঘন ঘন নাড়তে হবে। এক পর্যায়ে ঘন হয়ে এলে কিশমিশ আর এলাচ দিয়ে নামাতে হবে।

shahi-vapa-pitha-070113-k-kanthaভাঁপা পিঠাঃ

যা লাগবেঃ সেদ্ধ ও আতপ চালের গুঁড়া ২৫০+২৫০ = ৫০০ গ্রাম, গুড় ১ কাপ (আধা ভাঙা) নারকেল কুরানো বড় ১ কাপ, লবণ আধা চা চামচ, পানি সামান্য। পিঠার জন্য ছোট ২টি বাটি, ২ টুকরো পাতলা কাপড়।

যেভাবে তৈরী করবেনঃ চালের গুঁড়া, লবণ ও পানি একসঙ্গে মেশাতে হবে। বাঁশের চালুনিতে করে চেলে নিতে হবে। এবার বাটিতে অল্প চালের গুঁড়া দিয়ে তার মাঝখানে গর্ত করে গুড় ও নারকেল দিয়ে ওপরে চালের গুঁড়া দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। এবার পাতলা কাপড় ভিজিয়ে পিঠা ঢেকে দিয়ে বাটির নিচ পর্যন্ত কাপড় ধরে বাটিটি উল্টে দিয়ে ফুটন্ত পানির ওপর ছিদ্র করা ঢাকনার ওপর বসিয়ে বাটিটি উঠিয়ে পিঠার কাপড় দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। পাঁচ-ছয় মিনিট পর পিঠা উঠিয়ে পরিবেশন করুন।

puli pithaদুধ পুলিঃ

যা লাগবেঃ চালের গুড়া ২ কাপ, নারকেল ১ ভাগের ৪ কাপ, দুধ ২ কাপ, চিনি ১ কাপ, এলাচ কয়েকটি, পানি ২ কাপ।

যেভাবে তৈরী করবেনঃ পানি ও চালের গুড়া দিয়ে শক্ত ডো তৈরী করে নি। এবার ছোট ছোট বা ২ বাই ২ রুটি বেলে ভিতরে নারকেল দিয়ে ছোট পুলি তৈরি করে নিন। এবার চুলায় দুধ জ্বাল করে তাতে চিনি ও এলাচ দিন তারপর পুলি দিয়ে তুলে নামিয়ে নিন। ঠান্ডা হলে পরিবেশন করুন।

chitoi pitha(1)দুধ চিতইঃ

যা লাগবেঃ  চালের গুঁড়া ৪কাপ, দুধ ১লিটার, খেঁজুরের গুড় ২কাপ, নারিকাল কোরা ১/২কাপ।

যেভাবে তৈরী করবেনঃ প্রথমেই দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করে রাখুন। এরপর খেঁজুরের গুড়ের সিরা তৈরী করে আলাদা করে রাখুন। অন্যএকটি পাত্রে হালকা গরম পানিতে চালের গুড়া গুলে গোলা তৈরী করুন। এবার মাটির খোলায় কাপে করে গোলা দিয়ে পিঠা বানিয়ে রসের সিরায় ফেলুন। পিঠা ঠাণ্ডা হলে তার ওপর ঠাণ্ডা দুধ ঢেলে দিয়ে নারকেল ছড়িয়ে দিন। এই পিঠা রাতে তৈরি করে রেখে পরদিন সকালে খেতে হয়।

লেখক: tahmina_shilpi@yahoo.com

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

জানালার কাঁচ ভেদ করা রোদ কি ভিটামিন ডি দিতে পারে?

কে না চায়, সূর্যের নরম রোদ জানালার কাঁচ ভেদ করে আলতো করে ...