খালেদার জন্ম তারিখ: যখন যেখানে যেভাবে প্রযোজ্য (১)

লেখক: নাসির উদ্দিন আহমেদ

গত ১৫ আগষ্ট রাতের প্রথম প্রহরে ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে যখন জাতীয় শোক দিবস পালনের আনুষ্ঠানিকতা চলছিল ঠিক তখনি তারই সমান-রালে বিএনপি’র গুলশান কার্যালয়ে সাবেক প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৬৯তম জন্ম দিবস পালনের অনুষ্ঠান ঘটা করে পালন করা হচ্ছিল।

নানা প্রতিকূলতাতেও এ দিবসটি আওয়ামী লীগ শোক দিবস হিসেবে পালন করে আসছে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর থেকেই। খালেদার জন্মের কতদিন পর বা কত সাল থেকে এ দিবসটি তার জন্ম তারিখ হিসেবে পালন করা হচ্ছে তা জানতে কয়েকটি জন্ম তারিখের ফিরিস্থি দিয়ে বিএনপি’র নিবেদিত কয়েক নেতা/ কর্মী বন্ধুকে প্রশ্ন করেছিলাম।

কথা না বলে কেউ মুচকি হাসিতে উত্তর কেউবা আবার দরাজ কন্ঠে সুর মিলিয়ে প্রশ্নবোধক উত্তরে প্রশ্ন করলেন ‘ঐ ১৫ তারিখে জন্ম নিতে বাঁধা ছিল কোথায়?‌ উত্তরের এ প্রশ্নের উত্তর আমার কাছেও ছিলনা। তবে তার জন্ম দিবসের তারিখের বিভিন্নতা নিয়ে আওয়ামী লীগ সহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতা-কমীদের নানা মুখরোচক শব্দে আলোচনা-সমালোচনায় আড্ডা গরম হয়।

মোটা মাথার কেউ কেউ আবার বেফাঁস মন্তব্য করতেও ছাড়েন না। তবে পঞ্জিকার যে কোন একটি দিবসেই প্রাকৃতিক নিয়মে খালেদা জন্ম গ্রহণ করেছেন এটা শ্বাশ্বত সত্য এবং তা কোন ক্রমেই একাধিক বার নহে। ধরে নেয়া যায়, অভিভাবকদের অসতর্কতায় তার জন্ম তারিখের বিভিন্নতা হয়েছে এবং এটাই স্বাভাবিক। আগে শিক্ষিত পরিবার ছাড়া এদেশে খুব কম পরিবারের লোকজনই ছেলে-মেয়েদের জন্ম তারিখ লিখে রাখতেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেখা যেত ছাত্র-ছাত্রীদের জন্ম কেবল ডিসেম্বর বা জানুয়ারী মাসে যা বিশ্বাস যোগ্য হবার কোন কারণ নেই।

তখন শিক্ষকরা যে জন্ম তারিখ লিখে দিতেন তা সারা জীবন বয়ে বেড়ানোর জন্য নির্ধারিত হয়ে যেত ছাত্রটির জন্য। তবে কম্পিউটারের কারণে এখন অনেক কিছুর পরিবর্তন হচ্ছে। যা হোক, কারো জন্ম তারিখ তার নিজের একান্ত বিশ্বাসের বিষয় এবং তা পালন করার বাধ্যবাধকতা নিজের কাছেই। তবে নিজে লাভবান হওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে যদি কেউ তা দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ায় তবে তা দুঃখজনক।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, খালেদা জিয়ার বিয়ের কাবিন অনুসারে তার জন্ম ১৯৪৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। এ দেশে এখনো মেয়েদের বয়স বাড়িয়ে লিখে বিয়ে দেয়া হয়। তিনি যে পাসপোর্টটি ব্যবহার করেন সেখানে তার জন্ম তারিখ ১৯ আগষ্ট ১৯৪৫। বর্তমানে ১৫ আগষ্ট কে জন্ম দিবস হিসেবে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কেক কেটে পালন করেন। আবার তার মেট্রিকুলেশন পরীক্ষার রেজিষ্ট্রেশন অনুযায়ী জন্ম তারিখ ৯ আগষ্ট ১৯৪৫।

এরূপ পরিবর্তশীল জন্ম তারিখ বর্ননার কারণে তার মত একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে নিয়ে আলোচনা সমালোচনা হতেই পারে। এখানে কোন জন্ম তারিখটি সঠিক তা তাকে এখন প্রমাণ করার প্রয়োজন হতে পারে। পেছনের দিকে ধাবমান নিয়ে একটি রূপক গল্প প্রচলিত এরূপ যে, কোন এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর এক ছাত্রের বাবা ফল প্রকাশের খবর পেয়ে  শিক্ষককে তার ছেলের উন্নতির বিষয় জানতে চাইলেন।

শিক্ষক ছাত্রের বাবাকে এই বলে আশ্বস্ত করলেন যে, ছেলেকে ৩য় শ্রেণীতে নামিয়ে দেয়া হয়েছে এবং এবার একটু শক্ত করে তাকে ৪র্থ শ্রেণীতে উঠানো হবে। ছাত্রের প্রতি শিক্ষকের এমন নজর থাকার কারণে চরম ফেলের পরও বাবা খুশী হয়ে বললেন “আমি জানি আমার ছেলের প্রতি আপনার কতটা দরদ”। যা হোক,বর্ষ শেষে ফল প্রকাশের দিনে পিতা শিক্ষকের কাছে গেলেন ছেলের ফলাফল জানতে।

শিক্ষক এবার কিছুটা অপ্রতিভ হয়ে বললেন, আপনার ছেলেকে এবার ২য় শ্রেণীতে নামিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছি। পিতা শিক্ষকের সিদ্ধান্তে কোনরূপ বিরক্তি প্রকাশ না করে বরং খুশী হয়ে বললেন আমার ছেলের জন্য আপনার সিদ্ধান্তে অতিশয় যথার্থ। ছেলের বিষয়ে পিতা বাড়ী গিয়ে স্ত্রীকে ডেকে বললেন, “ওগো শুনছ, ছেলে যেভাবে ক্লাসে পেছাচ্ছে তাতে শেষ পর্যন্ত তোমার প্রস্তুত হওয়া ছাড়া আর কোন পথ দেখছিনা। অবশ্য খালেদা জিয়ার বেলায় এরূপ বলার কোন সুযোগ নেই।    (চলবে)

 

লেখক: নাসির উদ্দিন আহম্মেদ, নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক আজকের বাংলাদেশ, ৩৩ ছোট বাজার, ময়মনসিংহ

মোবাইল-০১৭৪০৯১৪০৬৯

 

 

 

 

 

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আরিফ চৌধুরী শুভ

বই পড়ার মাথাপিছু বরাদ্দ মাত্র ৬০ পয়সা!

আরিফ চৌধুরী শুভ :: একুশ শতকের গ্রন্থাগার এখন আর কেবল জ্ঞানের সংগ্রহশালাই নয়, ...