খালেদার জন্ম তারিখ: যখন যেখানে যেভাবে প্রযোজ্য (২)

লেখক : নাসির উদ্দিন আহম্মেদ

(পূর্ব প্রকাশিত পর) রাজনীতিতে কিছু বিষয় দিয়ে জনগণের আবেগ সৃষ্টি করতে হয়। আবেগ তৈরীর বিভিন্ন কৌশল কায়দা-কানুন রাজনীতিবিদরাই ভাল জানেন। তবে এ গুলি দক্ষ রাজনীতিকদের কাজ। হঠাৎ রাজনীতিতে এধরণের কাজ বুমেরাং হয়ে দেখা দিতে পারে। বিএনপি রাজনীতি করতে গিয়ে জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক, প্রথম প্রেসিডেন্ট, ড্রামতত্ত্ব, ৭১’র ২৭ মার্চকে ২৬ মার্চ বানানোর চেষ্টা, প্রশ্নবিদ্ধ জন্ম তারিখ পালন ইত্যাদি সব সত্য-অসত্য তথ্য রাজনীতিতে সংযোজন এবং এখন তা থেকে পেছানো দলীয় পুরো রাজনীতির বিষয়টিতে ওলট পালট হওয়া স্বাভাবিক।

এসব বিভ্রান্তিকর তত্ত্ব ও তথ্য ছড়ানোর অজুহাতে বিএনপি’র রাজনীতিকে এখন প্রশ্নবিদ্ধ করতে একটি মহল জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। যা প্রকৃত সত্য তাকে আবার সত্য প্রমাণ করতে আজ গলদঘর্ম হতে হয় আর একটি অসত্য বিষয়কে সত্যে রূপান্তরিত করে তা টিকিয়া রাখা আরো কঠিন ব্যাপার।

তবে বিরূপ পরিবেশে মিথ্যার চাপায় অনেক সত্য অপ্রকাশ থেকে যায় আর সত্য রূপে মিথ্যার প্রচার সবকিছু পাল্টে দেয়। রবি ঠাকুর নিশ্চয়ই তাই হয়তো আক্ষেপ করে রচনা করেছিন “ যা ঘটে তার সব সত্য নহে, তাহাই সত্য যা রচিবে তুমি”। কারো কারো জীবন ক্ষেত্র যদি তার এ রচনা বীজ গণিতের সূত্রবৎ প্রয়োগ ক্ষেত্র হয় তবে খালেদা জিয়া এদের প্রথম সারিতে। প্রতারনার আশ্রয়ে সত্যকে আড়াল করে মিথ্যার মাধ্যমে ফায়দা হাসিলের ফলাফল শুভ হয়না আর দীর্ঘ মেয়াদে হতেও পারেনা।

১৫ আগষ্ট যদি খালেদা জিয়ার জন্ম তারিখ হয় তবে স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে ৭৫’র ঐ জন্ম দিবসে কোথায়, কখন এবং কাদের উপস্থিতিতে কেক কাটা হয়েছিল। বর্তমানের মত রাতের প্রথম প্রহরে হয়ে থাকলে গাঁদায় গাঁদায় প্রশ্ন তৈরী হবে। যেহেতু তার স্বামীকে বঙ্গবন্ধু হত্যা ঘটনায় সম্পৃক্ত সন্দেহ করা হয় তাই ঐ রাতের আমন্ত্রিত অতিথিদের কারা জীবিত আর কারা মৃত তার একটি তালিকা করা যেতে পারে। আর যদি ঐ রাতে কোন অনুষ্ঠান না হয়ে থাকে তবে নিশ্চিত করে বলা যায় রাতটি ব্যয় হয়ে  ছিল অনুমিত চক্রান্ত হাসিলেই।

অবশ্য এ গুলি তদন্তের ব্যাপার। এ সবের তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনার বিবরণ জনগণ জানতে পারতো।

অভিভাবক আর শিক্ষকের হেয়ালীপনায় জন্ম তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়ে থাকে। পঞ্চাশোর্ধ অনেক প্রাতঃস্মরনীয় ব্যক্তির জন্ম তারিখ ঘাটলে দেখা যাবে তাদের সহোদরদের কেউ কেউ তার চেয়ে ৪-৫ মাসের ছোট বা বড়। আগের এ বিষয়গুলি এখন আর ধর্তব্য নহে। তবে জন্ম তারিখের দূষনীয় ব্যবহার ফৌজদারী অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। একটি রাজনৈতিক দলের প্রধানের জন্ম তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির পেছনে যে অসৎ উদ্দেশ্য  কাজ করে তাহা সহজেই অনুমেয়।

দালিলিক প্রমাণের কোন একটি উপজীব্য করে জন্ম তারিখ নির্দিষ্ট করে নেয়া হলে এ বিষয়ে আর  প্রশ্ন উঠার সুযোগ থাকে না। অন্যথায় জন্ম তারিখের ভিন্নতা নিয়ে মুখরোচক কথায় অন্যের জন্মকেও কলঙ্কিত করার সুযোগ পায় প্রতিপক্ষ।

জন্ম তারিখের তিনটি দালিলিক প্রমাণ থাকার পরও তা পাশ কাটিয়ে ১৫ আগষ্টকে খালেদা জিয়ার জন্ম তারিখ হিসেবে উৎসব করার পেছনে কি যুক্তি থাকতে পারে তা বোধগম্য নহে। এটি পরিবারের কেউ বা কোন মহলের চাপিয়ে দেয়া রাজনৈতিক জন্ম তারিখ কি না তা বার বার জন্ম গ্রহণকারীই ভাল বলতে পারবেন। ( চলবে)

লেখক: নাসির উদ্দিন আহম্মেদ, নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক আজকের বাংলাদেশ, ৩৩ ছোট বাজার, ময়মনসিংহ

মোবাইল-০১৭৪০৯১৪০৬৯

 

 

 

 

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আরিফ চৌধুরী শুভ

বই পড়ার মাথাপিছু বরাদ্দ মাত্র ৬০ পয়সা!

আরিফ চৌধুরী শুভ :: একুশ শতকের গ্রন্থাগার এখন আর কেবল জ্ঞানের সংগ্রহশালাই নয়, ...