খাগড়াছড়িতে সন্ত্রাসী হামলায় উপজেলা চেয়ারম্যানের গুরুত্বর আহত: আটক ৪

খাগড়াছড়িতে সন্ত্রাসী হামলায় উপজেলা চেয়ারম্যানের গুরুত্বর আহত: আটক ৪ আল-মামুন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:: খাগড়াছড়িতে দিনে-দুপুরে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুত্বর আহত হয়েছে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে মোটর সাইকেল নিয়ে বাসায় যাওয়ার পথে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাব সংলগ্ন ইসলামিয়া মাদ্রাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহাদাত হোসেন টিটো।

এছাড়াও খাগড়াছড়ির আলুটিলায় প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত ইউপিডিএফ কর্মী জ্ঞানেন্দু চাকমা লাশ নিতে এসে তারই ছোট ভাই কালায়ন চাকমা (২২) কে অপহরণের ঘটনা ঘটে। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে খাগড়াছড়ির আধুনিক সদর হাসপাতাল থেকে এ অপহরণের করলে অপহরণকারীরা বেধড়ক মারধর করে ছেড়ে দেয় বলে জানা যায়।

ওসি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ আহত খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ ঘটনার সময় আহত হয় উপজেলা চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল চালক চিকু বড়ুয়া। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে গুরুত্বর অবস্থান চেয়ারম্যানকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে কর্তব্যরত চিকিৎসক।

খাগড়াছড়ি আবাসিক মেডিকেল অফিসার নয়নময় ত্রিপুরা জানান, উপজেলা চেয়ারম্যানের মাথায় ও শরীরের কয়েকস্থানে আঘাত হয়েছে। মাথায় সেলায় করা হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চমেকে রেফার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর ১২টার সময় আদালত সড়ক হয়ে শাপলা চত্ত্বরের দিকে যাওয়ার পথে ৩টি মোটরসাইকেলে করে উপজেলা চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমার উপর হামলা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় চেয়ারম্যানের মোটরসাইকেলের গতিরোধের চেষ্টা করলে তিনি হুন্ডা না থামলে হামলা চালিয়ে তাকে ফেলে দেয় হামলাকারীরা। এ সময় তারা চেয়ারম্যান ও তার মোটরসাইকেল চালককে ইট দিয়ে বেধড়ক ভাবে থেতলে দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৪ জনকে আটক করে। এদিকে অপহৃত যুববকে অপহরণকারীরা বেধড়ক মারধর করে ছেড়ে দেয় বলে জানা যায়।

ইউপিডিএফের সংগঠন অংগ্য মারমা এ ঘটনার জন্য জেএসএস সংস্কার (এমএন লারমা) গ্রুপকে দায়ী করেছে। ইউপিডিএফের অভিযোগ তাদেও কর্মী জ্ঞানেন্দু চাকমা লাশ নিতে এসে তারই ছোট ভাই কালায়ন চাকমা (২২)কে অপহরণের ঘটনায় জেএসএস সংস্কারকে দায়ী করে ইউপিডিএফের পক্ষ থেকে অভিযোগ করেন ১৫/২০ জন সংস্কারপন্থী গুলিতে জ্ঞানেন্দু চাকমা লাশ নিতে আসা কালায়ন চাকমাকে জোর পূর্বক অস্ত্রের মূখে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে বেধড়ক ভাবে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

সংগঠনটি আরো জানান, বৃহস্পতিবার জ্ঞানেন্দু চাকমাকে গুলি করে হত্যার পর থেকে তার লাশ মহালছড়িতে না নিতে তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে আসছে হত্যাকারীরা। তবে অভিযোগের বিষয় অস্বীকার করেছে জেএসএস সংস্কার (এমএন লারমা) গ্রুপ।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার বিকেলে খাগড়াছড়ি আলুটিলায় পর্যটন এলাকায় গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জ্ঞানেন্দু চাকমাকে হত্যা করা হয়। সে মহালছড়ি উপজেলার কিয়াংঘাট ইউনিয়নের যাদুগানালা গ্রামের মৃতকালি মোহন চাকমার ছেলে। পাহাড়ে উপজাতীয় সংগঠনের দ্বন্দ্বের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের লড়ায়ে ধারাবাহিক ভাবে হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে চলেছে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

বাগেরহাটে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

মোঃ শহিদুল ইসলাম, বাগেরহাট প্রতিনিধি :: বাগেরহাটে পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু ...