ক্ষমতার দম্ভ ও দাপট আইনের কাছে অসহায়

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মো মুজাহিদ রবীন্দ্র নাথ পাল :: ক্ষমতার দম্ভ ও দাপট আইনের কাছে অসহায়। অপরাধ করে নিস্কৃতি পাওয়া যায়না দুই যুদ্ধাপরাধীর রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে তা আবারো প্রমানিত হলো। সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে স্বাধীনতার ৪৪ বৎসর পর আবারো প্রমানিত হলো এরা ছিল যুদ্ধাপরাধী। যার সাজা মৃত্যুদন্ড। যা কার্যকর হলো শনিবার রাত ১২ টা ৫৫মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে।

আদালতের রায়ে যাকে ঠান্ডা মাথার খুনী বলে আখ্যায়িত করা হয়েছিল সেই সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও হিটলালের চেয়েও নৃশংস বলে আখ্যায়িত আলী আহসান মো: মুজাহিদ ফাঁসির আগে তাদের অপরাধের দায় স্বীকার করে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে প্রান ভিক্ষা আবেদন করেও শেষ রক্ষা হয়নি। এ নিয়ে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ৪ জনের ফাঁসি কার্যকর করা হলো।

মানবতাবিরোধী অপরাধে সর্বোচ্চ আদালতে রিভিউ খারিজের পর বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে শীর্ষ এই দুই যুদ্ধপরাধী ফাঁসির দন্ড কার্যকর বিলম্ব করতে নানা ছলচাতুরীর আশ্রয় নেন। এক সময় এই সাকা ট্রাইবুন্যালের বিচারকের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন-“ডোন্ট শো ইয়োর রেড আই”।

অথচ দন্ডাদেশ কার্যকরের আগ মুহুর্তে ৭১ এ নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে প্রানভিক্ষার আবেদনের পর দীর্ঘ দিনের দম্ভের নৈতিক পরাজয় মেনে নেয়ায় এটাই প্রমান হয়,তার সমস্ত হুংকার ছিল কাগুজে বাঘের মত। আরেক যুদ্ধাপরাধী ৭১এ শহীদ বুদ্ধিজীবি হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী আল বদর কমান্ডার আলী আহসান মো: মুজাহিদ যিনি কিনা নির্বাচন কমিশনে গিয়ে দম্ভের সাথে বলেছিলেন দেশে কোন যুদ্ধাপরাধী নেই,ছিলোও না।

শেষ পর্যন্ত নিজের অপকর্মের দায় স্বীকার করে প্রানভিক্ষা চেয়েছিলেন রাষ্ট্রপতির কাছে এই ঠান্ডা মাথার খুনী। মানবতাবিরোধী এই দুই যুদ্ধাপরাধী ৩০ লাখ শহীদের রক্তে অর্জিত লাল সবুজের পতাকা উড়িয়ে এরশাদ ও খালেদা সরকারের মন্ত্রীত্ব গ্রহন করে বীর মুক্তিযোদ্ধা, ৩০লাখ শহীদ ও বীরাঙ্গনাদের বিরুদ্ধে শিষ্টাচার বহিভুত কটুক্তি ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে চরম ধৃষ্টতা দেখিয়ে নিজেদের শেষ পরিনতির কথা একটি বার ভেবে দেখেননি। কল্পনাও করেননি এমন কোনদিন আসবে যেদিন বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধের দায় স্বীকার করে প্রানভিক্ষা চাইতে হবে। এ ছিল তাদের কাছে অলীক স্বপ্ন।

শনিবার মধ্যরাতে স্বজনদের কাছে চীরবিদায় নিয়ে দুই কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী র,মৃত্যুদন্ড যখন কার্যকরের পদক্ষেপ চলছিল কারাভ্যন্তরে, তখন স্বাধীনতা স্বপক্ষের কোটি কোটি মানুষ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ঘাতক দুজনের লাঞ্ছনার শিকার পরিবারের লোকজন অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিল মহেন্দ্র ক্ষনের বার্তাটি শোনার জন্য।

রাত সোয়া ১২ টার কিছুপরে মানবতার শত্রু’র আত্মীয় স্বজনরা যখন জেলগেট দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছিল,তখন তাদের চোখে মুখে ছিল গভীর সমুদ্রে কুল কিনারা হারা নাবিকের মত। অসহ্য যন্ত্রনার প্রচন্ড ঢেউ যেন তাদের তাড়িয়ে ফিরছিল ৭১ এ হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোতে।

এমন নিষ্ঠুর পরিনতি ও কঠিন সত্যের মুখোমুখি এ দুজন ঘৃনিত যুদ্ধাপরাধীকে পড়তে হবে,তার চীর শত্রুরাও ক্ষুনাক্ষরে কল্পনা করেনি। ইতিহাস বড়ই নির্মম ও সত্য হলেও আদালতের রায়ে এদের ঠান্ডা মাথার খুনী ও হিটলারের চেয়েও নৃশংস বলে আখ্যায়িত করে ভয়াবহ সত্যের স্বীকৃতি তাদের অপকর্মে পাওনাই ছিল।

ঔদ্ধত্যপুর্ন আচরন, ব্যাঁঙ্গাত্মক অঁঙ্গভঁঙ্গি ও সবাইকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের সাথে অপমানজনক আচরনে অভ্যস্ত সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে ৪ টি হত্যা মামলা ও বুদ্ধিজীবি হত্যার পরিকল্পনাকারী আলবদর কমান্ডার আলী আহসান মো: মুজাহিদ দেশের বরেন্য ব্যক্তিদের স্বাধীনতার উষালগ্নে হত্যার অভিযোগে সর্বোচ্চ আদালত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর বহাল রাখায় শনিবারের মধ্যরাতে তা কার্যকরের মধ্য দিয়ে ইতিহাসে ৪৪ বৎসরের দায় মুক্তি হয়েছে-এটা নিসন্দেহে বলা যায়। এমন অপরাধীরা যদি তাদের অপকর্মের দায় থেকে মহামান্য রাষ্ট্রপতির ক্ষমা পেতেন. তবে ইতিহাস অন্যরকম হতো।

তবে তাদের দায় স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনার মধ্য দিয়ে এটাই প্রমান হলো ৭১ এ এরা ছিল হানাদার বাহিনীর পথ প্রদর্শক এবং সমস- অপকর্মের সাথী, যারা এ দেশের স্বাধীনতা চায়নি, চায়নি একটি স্বাধীন মানচিত্র। এরা মুক্তিযোদ্ধাকে বলতো দুস্কৃতিকারী। ধর্মের দোহাই দিয়ে, সারাজীবন অধর্ম করেছেন। এমনকি শেষ সময়েও এরা প্রানভিক্ষা চেয়ে পুরো জাতির সাথে প্রতারনা করতে চেয়েছেন।

যা দুজনের স্বজনরা এখন বলে বেড়াচ্ছেন। আজ ইতিহাসের জয় হলো,জয় হলো সত্যের। পাপ কোনদিন চাপা থাকেনা,এ নির্মম সত্যটি যতদিন স্বাধীনতাবিরোধীরা বুঝবেন,ততই দেশ ও দশের কল্যান হবে। আজকের এ বিজয়ের দিনে শহীদ পরিবার,বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরাঙ্গনা ও বর্তমান মহাজোট সরকারকে জানাই শতকোটি শ্রদ্ধা। জয় হোক মুক্তিকামী মানুষের।

তারিখ ২৩/১১/১৫

লেখক: বার্তা সম্পাদক, দৈনিক আজকের বাংলাদেশ, ময়মনসিংহ। মোবা:০১৭১৩৮১৯২৯৪

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আরিফ চৌধুরী শুভ

‘শিক্ষা আমার স্বাধীনতার অধিকার, আমৃত্যু লড়ে যাবো অধিকার আদায়ে’

আরিফ চৌধুরী শুভ :: বাংলাদেশে শিক্ষার অধিকার মানুষের সংবিধান স্বীকৃত জন্মগত অন্যতম একটি মৌলিক ...