কোটা আছে কোটা নাই!

আরিফ চৌধুরী শুভ

লেখক- আরিফ চৌধুরী শুভ

আরিফ চৌধুরী শুভ :: ‘জয় পেতে হলে আন্দোলন করতে হয়। আন্দোলন ছাড়া জয় পাওয়া মামার বাড়ির আম কাঁঠালের মতো’। কথাটা কোটা সংস্কার আন্দোলনের ঘোর বিরধিতাকারী একজন ঢাবি শিক্ষকের। গত ৩ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ডিপার্টমেন্টের ক্লাস শেষে ঐ শিক্ষকের সাথে একান্ত আলাপে জানতে চেয়েছিলাম কোটা আন্দোলনের যারা বিরোধীতা করেছে, তারা এখন কি বলবে? এতদিনতো আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা বলেছে, হাঁতুড়ি পেটাকে সমর্থন করেছে, এখন কি বলবে? প্রশ্নটা করার আগে ভাবলাম স্যার উত্তর দিবেনতো। কিন্তু আমার চোখের দিকে তাকিয়ে স্যার মুচকি হেসে দিয়ে বললেন, আসলেই কি কোটা বাতিল হয়েছে?

স্যারের হাসিতে গভীর রহস্য। স্যারের মতো রহস্যের হাসি দেন এদেশের মন্ত্রীরাও। এদেশের মানুষ সেই হাসিতে আনন্দ পায় আবার কষ্টও পায়। হাসি নিয়েও এদেশে গণআন্দোলন হয়। শাহবাগে এসেই হাসি রহস্যের প্রথম সিঁড়ি অনুভব করলাম। মন্ত্রিপরিষদের কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখার দাবিতে  শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মসহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা। ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখা ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য সুরক্ষা আইন, রাজাকারের সন্তানদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ না দেওয়া ও তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার দাবিও তাদের। দাবি না মানা পর্যন্ত রাজপথে থাকার হুশিয়ারি দিয়েছে সরকারকে। সেই সাথে আগামী শনিবার (৬ অক্টোবর) শাহবাগে মহাসমাবেশেরও ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।

৩ অক্টোবর রাতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া একপক্ষ আগুন দিয়ে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবিও পুড়িয়ে দিয়েছে চোখের সামনে। চেষ্টা করেও ব্যানারটি সরাতে পারিনি আগুন থেকে। সারারাত স্যারের সেই মুচকি হাসি ঘুম কেড়ে নিল। বার বার চোখের সামনে ভেসে উঠলো শাহবাগের রাস্তায় বঙ্গবন্ধু পুড়ে যাচ্ছে আগুনে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের সাথে যারা ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিল হয়তো তারাও ভাবছেন আসলেই কি কোটা বাতিল হয়েছে? এই ভাবনা আসাটা স্বাভাবিক। কিন্তু এই ভাবনার জন্যে দায়ী কে? যেদিন প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে কোটা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন এবং পরবর্তীতে হাইকোর্টের দোহাই দিয়ে কোটা বাতিল করা থেকে সরে আসলেন, সেদিন থেকেই এই ভাবনার সৃষ্টি। এই ভাবনা ভবিষ্যত বাংলাদেশের জন্যে নেতিবাচক। এই ভাবনার সারাংশ আংশিক সফলতা। প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে।

কিন্তু যারা এখন শাহবাগে অবস্থান নিয়েছে তাদের কি হবে? এদের শাহবাগে কে নামিয়েছে? প্রধানমন্ত্রীর কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে তারা শাহবাগে নামেননিতো? কারণ বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের অভিজ্ঞতা জানাতে গণভবনে এসে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কোটা থাকলেই শুধু আন্দোলন। তাই কোটার দরকার নেই। কোটা না থাকলে আন্দোলন নেই, সংস্কারও নেই। যদি কেউ কোটা চায়, তাহলে এখন কোটা চাই বলে আন্দোলন করতে হবে। সেই আন্দোলন যদি ভালোভাবে করতে পারে, তখন ভেবেচিন্তে দেখা হবে কী করা যায়? এরপর যদি কেউ কোনো কোটা চায়, তাহলে তাকেও আন্দোলন করতে হবে। আন্দোলন ছাড়া কোটা দেওয়া হবে না।

আমার প্রশ্ন হলো শাহবাগে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখার দাবিতে যারা রাস্তা দখল করেছেন, তারা না ফিরলে সরকার কি আবার কোটা বসিয়ে দিবেন? নাকি সাধারণ শিক্ষার্থীদের যেভাবে পুলিশ আর কর্মী বাহিনী দিয়ে রাজপথ থেকে বিড়াতি করেছেন সেভাবেই বিতাড়িত করবেন?

একদিকে সরকার লাখ লাখ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের চাপে কোনঠাসা হয়ে কোটা বাতিল করে শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখি করলেন, অন্যদিকে কোটা রাখতে হলে আবারো আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিলেন আরেক পক্ষকে। প্রশ্ন হলো নির্বাচন সামনে রেখে সরকার আসলে কি চান?

বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে নির্বাহী আদেশে সরকারি চাকরিতে কোটাপদ্ধতি চালু করা হয়। বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে ৪৫ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হয়। বাকি ৫৫ শতাংশ পদে নিয়োগ করা হয় অগ্রাধিকার কোটায়। অগ্রাধিকার কোটার মধ্যে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা (পরে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, এখন নাতি-নাতনি) কোটা, ১০ শতাংশ নারী কোটা, ১০ শতাংশ জেলা কোটা এবং ৫ শতাংশ ক্ষুদ্র জাতিসত্তা কোটা। ২০১২ সালে বিদ্যমান অগ্রাধিকার কোটায় কাঙ্ক্ষিত যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সেই কোটা থেকে ১ শতাংশ পদ প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের দিয়ে পূরণের নিয়ম চালু হয়। এর বাইরে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে পোষ্য, আনসার-ভিডিপিসহ আরও কিছু কোটা রয়েছে।

কোটা আর কোটার ভীড়ে যেন মেধাই কোনঠাসা। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরে এসে এই প্রথম বড় ধরণের ধাক্কা খেল সরকার। জেগে ওঠেছে বঞ্চিত ও মেধাবীরা। তুষের আগুন যেমন ধীরে ধীরে জ্বলে, সেভাবেই জ্বলে ওঠলো লাখ লাখ শিক্ষাথী। তাদের পাশে ছিল তাদের পরিবার আর মেধার সমর্থনে বাংলার মানুষ। সরকারও বুঝেছে এই মুহুর্তে কোটা সংস্কার আসলে কতটা জরুরি। তাই প্রজ্ঞাপনটা আর ধরে রাখলেন না।

তাই ৩ অক্টোবর,  প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের যে সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা, তাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। কিন্তু কোটা সংস্কার হলে আরো ভালো হতো। তাহলে অন্তত শাহবাগে আরেক পক্ষকে বসে থাকতে হতো না। কেউ ক্লাসে আবার কেউ রাজপথে এটা বড়ই বেমানান। যদিও কোটা একেবারেই বাতিল হয়নি। ক্ষেত্র বিশেষ কোটার লাগাম টানা হয়েছে।

কোটা বাতিলের সিদ্ধান্তের ফলে ৯ম থেকে ১৩ তম গ্রেড পর্যন্ত চাকরিতে কোনো কোটা থাকলো না। এসব পদে নিয়োগ হবে মেধার ভিত্তিতে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে। ফলে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আংশিক বিজয় হয়েছে। আংশিক বলছি এই জন্য যে, শিক্ষার্থীরা কোটা বাতিল চায়নি, চেয়েছে কোটার যৌক্তিক সংস্কার। যদিও সেটি করা হয়নি। মুক্তিযোদ্ধা কোটা তুলে দেওয়াটাও একেবারে অযৌক্তিক। কারণ মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নাতি-পুতির সুযোগ পাওয়া একেবারেই অযৌক্তিক বলে আমি মনে করি। এখন আবার দাবি উঠলো মুক্তিযোদ্ধার ভাই বোনেরাও এই সুবিধা পাবে। যদি এটা করা হয় তাহলে তা হবে কলঙ্কিত একটি দৃষ্টান্ত।

কোটার আন্দোলন করতে গিয়ে আন্দোলনকারীরা রাজাকারের বাচ্চা উপাধি পেয়েছে সরকারের মন্ত্রীর কাছে। কেউ কেউ তাদের দেশদ্রোহী বলেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাদের জয় হলো? কোটা আন্দোলনকারীরা আংশিক জয় নিয়ে শাহবাগ ছাড়লো, কিন্তু স্বাধীনতাকামীরা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পুড়িয়ে আবারো শাহবাগ দখলে নিল। হায়রে বাংলাদেশ! তুমি আসলে কার?

কোটা আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা বলে গালি দিলেও বঙ্গবন্ধুকে শিক্ষার্থীরা বুক থেকে মাটিতে পড়তে দেয়নি একমুহুর্তের জন্যেও। তারা রক্তাক্ত হয়েছে কিন্তু শেখ মুজিবকে বুকে আঁকড়ে রেখেছে ঠিকই। জেলে গিয়েও মুজিবকে ভেবে সাহস পেয়েছে মুক্তির আশায়। জেল থেকে বের হয়ে আবারো মুজিবের মতো প্রতিবাদী হয়েছে দেশের কথা ভেবে। কারণ মুজিব এই বাংলার অন্যায়ের প্রতিবাদী প্রতীক। মুজিবের আরেক নাম বাংলাদেশ। তারা ভালোবাসে মুজিবকে ও মুজিবের আদর্শকে। কিন্তু যারা চোখের সামনে শেখ মুজিবের ছবিতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়, তারা আসলেই কারা? যারা কাঙ্গালীভোজ শেষে মুজিবকে ময়লার ডাস্টবিনে ফেলে যায়, তারা আসলে কারা? মুজিব অনুসারীদের হাতে যেমন হাঁতুড়ি, হেলমেট বেমানান, তেমনি তাদের দ্বারা মুজিবের ছবিতে আগুন দিতে পারাটাও আমাদের কল্পনাতীত।

যে মুক্তির সন্তান, নাতি-পুতি ও প্রজন্ম নিজেদের স্বার্থে কোটি কোটি মানুষের স্বার্থকে তুচ্ছ ভেবে বার বার রাস্তায় নামে, বাঙ্গালী জাতির পিতাকে পুড়িয়ে দেয়, প্রধানমন্ত্রীর মুখে আগুন দেয়, তারা দেশের স্বার্থ কি করে বুঝবে? তাদের হাতে দেশ কতটা শৃঙ্খলবদ্ধ? তাদের অন্তরে বঙ্গবন্ধু কতটুকু? এরা স্বার্থের মোহে অন্ধ। এরা ভুলে গেছে স্বাধীনতার জন্যে ত্রিশলাখ শহীদের আত্মত্যাগ। এরা ভুলে গেছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশকে। দেশের চেয়ে স্বার্থটাই তারা বেশি দেখেছে।

প্রকৃত শিক্ষার্থীরা সব সময় নিজের পায়ে দাঁড়াতে শেখে। তার জন্যে বিদ্যা বুদ্ধি ও যোগ্যতায় নিজেকে এমন ভাবে তারা গড়ে তোলে, যেন কারো করুণার পাত্র হতে না হয়। অধিকার আদায়ে শেষ বিন্দু পর্যন্ত তারা লড়ে যায়। যেমন নড়ে গেছে কোটা আন্দোলনকারী, ভ্যাট আন্দোলনকারীরাও। কোটার পক্ষ আর কোটার বিপক্ষে আন্দোলন দেখে ঠিক এই মুহুর্তে পুরানো প্রবাদটি ‘দাদার নামে আদা, বাপের নামে গাধা আর নিজের নামে শাহজাদা’ মনে পড়লো। কে শাহজাদা, আর কে গাধা? এই সিদ্ধান্ত আপনার।

আমার বাবাও একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু আমরা ৭ভাই বোন পড়াশুনা করলাম, গ্র্যাজুয়েট হলাম। কোনদিনতো বাবার মুক্তিযোদ্ধার পরিচয়ে কোন রকম সুবিধা নেইনি। এমনকি আমার মাও না। আমিও কোটা সংস্কার আন্দোলন করেছি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আহবায়কের দায়িত্বে ছিলাম। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভ্যাট আন্দোলনের উদ্যোক্তা ছিলাম। আমি গর্ববোধ করছি এর জন্যে। আমি গর্ববোধ করছি দেশের সামষ্টিক স্বার্থে এই সকল আন্দোলনে অংশ নিতে পেরেছি বলে। আজ এই গর্ব কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী সকল শিক্ষার্থীদের।

বাবা শুধু একটা কথাই বলতেন, যুদ্ধ করে তার প্রতিদান যদি মুক্তিযোদ্ধাদের নিতে হয়, তাহলে স্বাধীনতার চেয়ে বড় প্রতিদান আর কি হতে পারে জীবনে। জীবনের চেয়ে বড় ত্যাগ আর কি হতে পারে? ত্রিশলক্ষ শহীদের জীবনের চেয়ে বড় ত্যাগ আসলেই আর কি হতে পারে? আমরা স্বাধীনতা দিয়েছি, স্বাধীনতা আমাদের কি দিবে? এই দেশই আমাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া। দেশের মানুষের সুখই আমাদের সুখ। আমাদের আত্মতৃপ্তি। এদেশের প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধা কি আজ এমনটি ভাবেন? সেলুট তাদের যারা ভাবেন।

বাবা যখন যুদ্ধের বিভিন্ন দু:সময়ের কথা বলতেন, তখন আমরা অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতাম বাবার চোখে। কখানো অশ্রুন্সিক্ত হতাম, কখনো দীর্ঘশ্বাস ফেলতাম। ঠিক এই ভাবেই বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের দিকে তাকিয়ে ছিলেন আন্দোলনের দিনগুলোতে। লাখ লাখ শিক্ষার্থীর রক্তক্ষয়ী আন্দোলন ব্যর্থ হয় কিনা, এই ভেবে উদ্বিগ্নও থাকতেন। তাদের উপর নির্মম অত্যাচারে কেঁদেছেন এই দেশের অসংখ্য মা বোন ভাই, বাবা। দাবি পূরণে সরকারের লুডু খেলায় বার বার হতাশ হয়ে র্দীঘশ্বাসও ফেলেছেন তারা। অবশেষে প্রজ্ঞাপনে সস্তি এলো। আন্দোলনকারীদের অভিনন্দন।

এই দেশের মানুষ আশা ভরসা আর ভবিষ্যত দেখেছেন বেসরকারি উচ্চ শিক্ষায় ভ্যাট, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, কোটা আন্দোলনকারীদের মাঝে। যে শিক্ষার্থীরা রাজনীতি বোঝেন না, তারাই এই সকল আন্দোলন করেছেন। তারাই বিজয় এনেছেন। কিন্তু  যারা এখন বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি পুড়িয়ে আন্দোলন করছেন, তারা এই দেশকে কি দিবেন?

পাথর কখনো সিদ্ধ হয় না, যদিও সেটি দেখতে চালের মতো। আজ আমাদের যেমন পাথর আর চালের পার্থক্য বুঝতে হবে তেমিন বুঝতে হবে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আর তার নাতি পুতির মধ্যে পার্থক্য। কে আসলে সুবিধাটার দাবিদার? তাদের দাবির যৌক্তিকতাও বুঝতে হবে আমাদের। মুক্তিযোদ্ধাদের নামে আন্দোলনের ডাক দিয়ে কেউ যেন অরাজগতা সৃষ্টি করতে না পারে, সেদিকে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। সড়ক আন্দোলনের একটি স্লোগান ছিল ‘যদি তুমি ভয় পাও তবে তুমি শেষ, যদি তুমি ঘুরে দাঁড়াও তবে তুমিই বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াবে বাংলার সন্তানদের নিয়ে এটাই সত্য।

 

 

 

লেখক: উদ্যোক্তা, নো ভ্যাট অন এডুকেশন আন্দোলন এবং শিক্ষার্থী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ডিপার্টমেন্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।  

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

কবি শামসুর রাহমানের জন্মদিনে গুগলের ডুডল

স্টাফ রিপোর্টার :: বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমানের ৮৯তম জন্মদিন ...