কিমের সঙ্গে ট্রাম্পের ঐতিহাসিক বৈঠকের দিকে বিশ্ব

কিমের সঙ্গে ট্রাম্পের ঐতিহাসিক বৈঠকের দিকে বিশ্বডেস্ক নিউজ :: দীর্ঘ শত্রুতা ভুলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক গড়তে চায় উত্তর কোরিয়া। কোরীয় উপদ্বীপের বৈঠকে স্থায়ী সুসম্পর্ক ও শান্তির বিষয়টি আলোচ্য সূচি হিসেবে দেখছে পিয়ংইয়ং। কিমের সঙ্গে ট্রাম্পের এ ঐতিহাসিক বৈঠক আগামীকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৭ টায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র মুক্ত করতে চায়। এদিকে এখন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার দাবি খোলাসা নয়। তবে উত্তর কোরিয়ার সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। কোরীয় উপদ্বীপে কিভাবে চিরস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় এটাই এখন তাদের লক্ষ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তারা চিরস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চায়।
ইতিমধ্যে ইতিবাচক মনোভবের পরিচয়ও দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। গত মে মাসে তারা নিজেদের একমাত্র পরমাণু কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়।

সিঙ্গাপুরের অভিজাত সাংরি-লা হোটেলে উঠেছেন ট্রাম্প। হোটেলটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারি অস্ত্রসজ্জিত ‘গোর্খা’ সেনাদের আগে থেকেই সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে।

সেই উপনিবেশ আমল থেকেই নেপালের সেনাবাহিনীর সদস্যরা সিঙ্গাপুর পুলিশের বিশেষ বাহিনীর সদস্য হিসেবে কাজ করে, যারা ‘গোর্খা’ সেনা নামে পরিচিত।

এই প্রথম কোন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে উত্তর কোরীয় নেতা বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। ঐতিহাসিক এ বৈঠকের সংবাদ সংগ্রহ করতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সিংগাপুরে জড়ো হয়েছেন প্রায় তিন হাজার সাংবাদিক।
যে কারণে ট্রাম্প-কিম সম্মেলনের আয়োজক সিঙ্গাপুর

সিঙ্গাপুর পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেখানে ‘চুইং গাম’ নিষিদ্ধ। প্লেবয়’এর মত অ্যাডাল্ট ম্যাগাজিনের প্রবেশাধিকারও সেখানে নেই। যেকারণে দেশটিকে ‘ন্যানি স্টেট’ বলা হয়।

সেখানে অপরাধের শাস্তি অত্যন্ত কঠোর। দেশটিতে লুটপাট ও ভাংচুরের জন্য বেত্রাঘাতের শাস্তি আছে, মাদক পাচারকারীদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। সিঙ্গাপুরে জনবিক্ষোভ খুবই বিরল।

সিঙ্গাপুর ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটির আইনের অধ্যাপক ইউজেন তান আল জাজিরাকে বলেন, “নিশ্চিতভাবেই সিঙ্গাপুর অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং নিরাপদ একটি দেশ।”

দেশটি যেন দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার সুইজারল্যান্ড। এ কারণেই এরকম একটি সংবেদনশীল এবং কূটনৈতিক আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং উত্তর কোরিয়া উভয় দেশের কাছে সিঙ্গাপুরকে আকর্ষণীয় ও গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে।

“আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার কঠোর বাস্তবায়নের কারণে ট্রাম্প ও কিমকে বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকিতে পড়তে কিংবা সড়কে বিক্ষোভ মোকাবেল করতে হবে না। যে কারণে তারা নিজেদের আলোচনায় অধিক মনযোগ দিতে পারবেন।”

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু হবে না

স্টাফ রিপোর্টার :: পৃথিবীর কোনো দেশেই শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না। তাই ...