Home / জাতীয় / কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আব্দুল জব্বার আর নেই

কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আব্দুল জব্বার আর নেই

আব্দুল জব্বারস্টাফ রিপোর্টার :: বরেণ্য কন্ঠশিল্পী আব্দুল জব্বার আর নেই। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে আইসিউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন তিনি (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।

গত সাড়ে ৩ মাস ধরে বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন এ কিংবদন্তি শিল্পী। গত শনিবার দুপুরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পর থেকে তাকে হাসপাতালের  আইসিইউতে নেয়া হয়েছিল।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠসৈনিক কালজয়ী এ শিল্পী কিডনি, হার্ট, প্রস্টেটসহ নানা জটিলতায় ভোগছিলেন।

‘জয় বাংলা বাংলার জয়’, ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’, ‘ওরে নীল দরিয়া’, ‘তুমি কি দেখেছো কভু জীবনের পরাজয়’ এমন অসংখ্য কালজয়ি গান গেয়েছেন তিনি।

আব্দুল জব্বার স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হারমোনিয়াম নিয়ে কলকাতার বিভিন্ন ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের গান গেয়ে উদ্বুদ্ধ করেন।

সেই দুঃসময়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গেয়েছেন অসংখ্য গান। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে শিল্পীর গাওয়া গান মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা ও মনোবল বাড়িয়েছে।

একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার পাওয়া শিল্পী আবদুল জব্বার মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন গলায় হারমোনিয়াম ঝুলিয়ে কলকাতার পথে-প্রান্তরে সংগীত পরিবেশন করে যুদ্ধের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন। ওই সময়ে তিনি প্রায় ১২ লাখ টাকা সংগ্রহ করে মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ তহবিলে দান করেন।

আব্দুল জব্বারের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা তার আত্মার মাগফেরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

তার মৃত্যুতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংগীতশিল্পী তিমির নন্দী শোক প্রকাশ করে বলেছেন, এ দেশে তার উপর কোনো আর্টিস্ট ছিল না। আব্দুল জব্বার এ দেশের সম্পদ। তিনি শুধু সংগীতে অবদান রাখেননি, তিনি মুক্তিযুদ্ধেও অবদান রেখেছেন। তার অসংখ্য গান কালজয়ী হয়েছে। যে কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে দেখেছি তার অনেক ভক্ত নিজ থেকেই বলেছেন, আমরা কিডনি দেব। ভক্তদের এই ভালোবাসা পাওয়া বিরল ঘটনা।

আব্দুল জব্বার ১৯৩৮ সালের ৭ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার গান গাওয়া শুরু ১৯৫৮ সাল থেকে তৎকালীন পাকিস্তান বেতারে । প্রথম চলচ্চিত্রের জন্য গান করেন তিনি ১৯৬২ সালে। ১৯৬৪ সাল থেকে তিনি বিটিভির নিয়মিত গায়ক হিসেবে পরিচিতি পান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ভোলায় এক্সিম ব্যাংকের শাখা উদ্ধোধন

ভোলায় এক্সিম ব্যাংকের শাখা উদ্ধোধন

এম শরীফ আহমেদ, ভোলা থেকেঃ  বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে দ্বীপ জেলা ভোলায় এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ...