কাতালোনিয়ায় স্বাধীনতা ঘোষণা

কাতালোনিয়াডেস্ক নিউজ :: অনেক জল্পনা কল্পনা শেষে স্পেন থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিল স্বায়ত্বশাসিত কাতালোনিয়া। এই ভুখন্ডের স্বাধীনতা চেয়ে উত্থাপিত প্রস্তাব শুক্রবার এর পার্লামেন্টে পাস হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘সরাসরি শাসনের’ হুঁশিয়ারির জবাবে এদিন স্বাধীনতা ঘোষণার প্রস্তাবটি পার্লামেন্টে তোলা হলে ৭০-১০ ভোটে তা স্বীকৃতি পায়। তবে এই ভোট বর্জন করে মাদ্রিদের অনুগত রাজনৈতিক দলগুলো।
কাতালোনিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণার পর স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো তার দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন। অপ্রত্যাশিতভাবে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে তিনি কাতালোনিয়ায় মাদ্রিদের সরাসরি শাসন ঘোষণা করেন। এই ঘোষণা ২১৪ ভোটে পাস হয়। বিপক্ষে ভোট পড়ে মাত্র ৪৭টি। পরে তিনি মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকে বসেন পরবর্তী করণীয় নির্ধারনের জন্য।
কাতালোনিয়ার পার্লামেন্টে স্বাধীনতার যে প্রস্তাব তোলা হয় তার শুরুতে বলা হয়- ‘আমরা গণপ্রজাতন্ত্রী স্বাধীন কাতালোনিয়ার ঘোষণা দিচ্ছি’। প্রস্তাবটি পার্লামেন্টে উত্থাপনের পর বেশিরভাগ সদস্যই একযোগে ‘হ্যাঁ’ বলেন। প্রস্তাবে গণপ্রজাতন্ত্রী, সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক ও সমাজবাদী রাষ্ট্র কাতালোনিয়ার জন্য সংবিধান প্রণয়নের ব্যবস্থা রাখা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১ অক্টোবর গণভোটের পর পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এবং গণভোট ইস্যুতে পরস্পরের স্বাধীনতা ঘোষণা ও স্বায়ত্বশাসন বাতিলের হুমকির ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সিনেটে বক্তব্য রাখেন স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী।  তিনি আবেগপূর্ণ ভাষণে সিনেটরদের উদ্দেশে বলেন, যখন কোনো পথই খোলা থাকে না, তখন সংবিধান সুরক্ষায় কাতালোনিয়ার স্বায়ত্বশাসনই বাতিল করতে হবে। এই পথ সুগম করতে কাতালান প্রেসিডেন্টসহ (কার্লেস পুজদেমন্ত) ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ নেতাদের ক্ষমতা থেকে অপসারণ করতে হবে। সুতরাং সিনেটকে সেরকম পদক্ষেপই অনুমোদন দিতে হবে।
এদিকে, স্বাধীনতা ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো জাতিকে বলেছেন, ‘কাতালোনিয়া আইনের শাসন বজায় থাকবে এবং সংবিধান পুনপ্রতিষ্ঠিত হবে’। যদিও স্বাধীনতা ঘোষণার পক্ষে কাতালান নেতাদের স্বাগত জানাতে রাস্তায় নেমেছে হাজারো মানুষ। বার্সেলোনার রাস্তা স্বাধীনতাকামীদের পদভারে মুখরিত হয়ে ওঠে গতকাল। প্রস্তাবটি পাস হওয়ার পর বার্সেলোনায় পার্লামেন্টের বাইরে জড়ো হওয়া স্বাধীনতাপন্থীরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। তবে ভিন্ন পরিস্থিতি দেখা গেছে মাদ্রিদে। সেখানে বিষন্ন পরিবেশ বিরাজ করে।
যুক্তরাষ্ট্রযুক্তরাজ্যের প্রতিক্রিয়া: স্পেন থেকে কাতালোনিয়ার স্বাধীনতা লাভের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি বলছে, তাদের কাছে কাতালোনিয়া স্পেনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। গতকাল শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক বিবৃতিতে দেশটির এমন অবস্থানের কথা তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ন্যাটো মিত্র স্পেনের সঙ্গে আমাদের চমত্কার বন্ধুত্ব এবং স্থায়ী অংশীদারিত্ব রয়েছে। নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের বিষয়ে উভয় দেশ পরস্পরের ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগী। শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ স্পেনের জন্য দেশটির সরকারের সাংবিধানিক পদক্ষেপের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন রয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য জানিয়েছে তারা কাতালোনিয়ার এই স্বাধীনতা ঘোষণায় সমর্থন দেবে না। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর অফিসের একজন মুখপাত্র বলেন, এমন একটি গণভোটের উপর আস্থা রেখে এই স্বাধীনতা ঘোষনা করা হয়েছে যে গণভোট আদালতে অবৈধ ঘোষিত হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য ঐক্যবদ্ধ স্পেনে বিশ্বাস করে। একতরফাভাবে ঘোষিত এই স্বাধীনতায় ব্রিটেনের আস্থা নেই।
উল্লেখ্য, স্পেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিত্তশালী একটি অঞ্চল কাতালোনিয়া। এর জনসংখ্যা ৭৫ লাখ। রাজধানী বার্সেলোনা। কাতালোনিয়ার নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, পার্লামেন্ট, জাতীয় পতাকা ও সংগীত আছে। এমনকি কাতালোনিয়ার নিজস্ব পুলিশ বাহিনী আছে এবং স্কুল ও স্বাস্থ্যসেবার মতো জন পরিষেবাগুলো তারা নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করে।

অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পক্ষ থেকেও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলা হয়েছে কাতালোনিয়া স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও ইইউ’র অবস্থান আগের মতোই আছে। ইইউ কেবলমাত্র স্পেনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে। তবে আমরা দুই পক্ষকে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে আহ্বান জানাই।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু হবে না

স্টাফ রিপোর্টার :: পৃথিবীর কোনো দেশেই শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না। তাই ...