ব্রেকিং নিউজ

কলারোয়ায় আওয়ামীলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ: ৫ পুলিশসহ আহত ২২

কলারোয়ায় আওয়ামীলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ: ৫ পুলিশসহ আহত ২২কামরুল হাসান, কলারোয়া প্রতিনিধি :: কলারোয়া উপজেলায় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৫ পুলিশসহ কমপক্ষে ২২ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে।

শনিবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ও পরে থানা চত্ত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় সারাদেশের মতো কলারোয়াতে সরকারিভাবে সেটি পালিত হচ্ছিল। এতে অংশ নেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন, ইউএনও মনিরা পারভীন, থানার অফিসার ইনচার্জ বিপ্লব দেবনাথ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আরাফাত হোসেন ও সেলিনা আনোয়ার ময়না, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গোলাম মোস্তফা, আবুল হোসেন, সৈয়দ আলীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সুধিজন।

অপরদিকে, একই সময় উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লাল্টু ও যুবলীগের সভাপতি কাজী আসাদুজ্জামান সাহাজাদা এবং তাদের কর্মী সমর্থকরা আনন্দ শোভাযাত্রা বের করেন।

তার পর অনুষ্ঠান চলাকালীন পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লাল্টুর কর্মী সমর্থকরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফিরোজ আহমেদ স্বপনসহ তার অনুসারিদের উপর চড়াও হন।

এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের সমর্থকরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ১২ জন আহত হন। পরে ফিরোজ আহমেদ স্বপনকে তার কার্যালয়ে দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে।

কলারোয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ স্বপন বলেন, লাল্টু গ্রুপের সন্ত্রাসী বাহিনী আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। নেতাকর্মীদের মারধর করে আহত করেছে।

তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আমিনুল ইসলাম লাল্টু বলেন, এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। এটি ফিরোজ আহমেদ স্বপনের কারসাজি। তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমার নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে আহত করেছে। এরপরে থানায় পাল্টা পাল্টি মামলা করতে যেয়ে থানা চত্ত্বরে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা।

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মেরিনা আক্তার বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১৫ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছোঁড়ে। এখন পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কলারোয়া থানার ভারপ্রাাপ্ত কর্মকর্তা বিপ্লব দেবনাথ জানান, উভয় গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এদিকে, সরকারি কর্মসূচিতে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে অংশ গ্রহণ করে এমন ঘটনার ফলে সেখানে উপস্থিত বিপুল সংখ্যক কোমলমতি শিক্ষার্থী চরম নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ায় দারুন উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার মধ্যে পড়েন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকমন্ডলী, অভিভাবকসহ সুধিজন। তারা আগামীতে উপজেলা প্রশাসনের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের না নিয়ে আসার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। বর্তমানে কলারোয়াতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বিদ্রোহী প্রার্থী হলে আজীবন বহিষ্কার: প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার :: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ প্রার্থী ...