কলাপাড়া হাসপাতালে ঔষধ সংকট নেই কিন্তু রোগীদের কিনতে হচ্ছে

uyhhhমিলন কর্মকার রাজু, কলাপাড়া(পটুয়াখালী) প্র্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়া হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের খাবার স্যালাইনসহ আইভি স্যালাইন, ট্যাবালেট কিনতে হচ্ছে বাহিরের ফার্মেসি থেকে। গত একসপ্তাহ ধরে এ অবস্থা চললেও উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক জানালেন কোন ঔষধ কিংবা স্যালাইস সংকট নেই।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ১১ মে থেকে ১৫ মে বিকাল পর্যন্ত কলাপাড়া হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৩৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। কলাপাড়া,কুয়াকাটা ও মহীপুর হাসপাতালে বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে অন্তত পাঁচ শতাধিক রোগী।

কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোস্তফা সিকদারের (৬০) স্ত্রী কোহিনুর বেগম বলেন, সোমবার (১০মে) তার স্বামী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত আটটি স্যালাইন পুশ করা হয়েছে। হাসপাতাল থেকে দেয়া হয়েছে একটি স্যালাইন। এমনকি মেট্রিল সিরাপ, ইনজেকশন ও খাবার স্যালাইনও কিনেছেন বাহিরের ফার্মেসি থেকে। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত আবু কালাম খাঁ ভর্তি হয়েছে ৮ মে।

তার স্ত্রী সাহিদা বেগম বরেন, হাসপাতাল থেকে কোন স্যালাইনতো দূরের কথা একটা ট্যাবলেটও দেয়নি। সোমবার ভর্তি হওয়া রোগী রিপন শীল জানায় তাকে সাতটি স্যালাইন কিনতে হয়েছে। হাসপাতাল থেকে দেয়া হয়েছে একটি স্যালাইন। বিল্লাল হোসাইন জানান, তাকে শুধু দুটি নাপা ট্যাবলেট দেয়া হয়েছে হাসপাতাল থেকে। শুক্কুর মিয়া বলেন, বাহির থেকে কিনেছেন সাতটি স্যালাইন। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত দুই বছরের শিশু সাজিমের মা নিলুফা বেগম জানায়, দুটি স্যালাইন দেয়া হয়েছে ছেলেকে। দুটিই বাহির থেকে কিনতে হয়েছে।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া একাধিক রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, হাসপাতালে নাকি কিছুই নেই। সব কিছুই শেষ। ডাক্তার ও নার্সদের কাছে ঔষধ চাইলে তারা বলে নেই। বাহির থেকে কিনতে হবে। এভাবে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত প্রতি রোগীকে অন্তত চার-পাঁচ হাজার টাকার ঔষধ, স্যালাইন বাহির থেকে কিনতে হয়েছে।

একাধিক রোগী জানান, দুপুর একটা বাজলেই আর কোন ডাক্তার পাওয়া যায় না। সকালে একবার এসে দেখে যায়, আবার আসে রাত নয়টা-১০টার পর। দুপুরে বা বিকালে জরুরী প্রয়োজনে রোগী অসুস্থ্য হলে বিভিন্ন ক্লিনিকে গিয়ে ডাক্তারের সাথে কথা বলতে হয়। সেখানে আবার তিনশ থেকে চারশ টাকা ভিজিট। আর নার্সদের তো প্রতি স্যালাইন পুশ করতে ৫০-১০০ টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে স্যালাইন পুশ করে না, বাজে ব্যবহার করে।

এখানে চিকিৎসা নিতে এসে রোগী ধীরে ধীরে সুস্থ্য হলেও অসুস্থ্য হয়ে যাচ্ছে তাদের স্বজনরা।

এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. চিন্ময় হাওলাদার জানান, হাসপাতালে কোন স্যালাইন ও ঔষধ সংকট নেই। তবে রোগীরা কেন পাচ্ছেন না বিষযটি দেখবেন বলে জানান।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

১২ নভেম্বর কথা শুনলে আজও আঁতকে উঠি

১২ নভেম্বর কথা শুনলে আজও আঁতকে উঠি

এম শরীফ আহমেদ, ভোলা থেকে :: ভোলার মনপুরা উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের  ৯নং ...