কলাপাড়ায় বসতভিটা অধিগ্রহণ বন্ধের দাবি

কলাপাড়ায় বসতভিটা অধিগ্রহণ বন্ধের দাবিমিলন কর্মকার রাজু, কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ধানখালী ইউনিয়নে তিনফসলী জমিসহ বসতভিটা অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে শুক্রবার সকালে ধানখালীর নিশানবাড়িয়া এলাকায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে শত শত কৃষক পরিবারের সদস্যরা । সকাল সাড়ে দশটায় ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন সমাবেশে এলাকার নারী-পুরুষ অংশ নেয়।

কৃষক আব্দুর রশিদ তালুকদারের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গাজী রাইসুল ইসলাম রাজীব, শওকত হোসেন তালুকদার, মহিব মিয়া প্রমুখ।

বক্তারা জানান, তিনফসলী জমি, ঘনবসতিপুর্ণ এলাকা, বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কবরসহ তাদের শত বছরে পুরনো বাড়িঘর যা বিভিন্ন সংস্থার নামে কোন ধরনের যাচাই বাছাই ছাড়াই অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। ফলে বসতভিটা হারা হচ্ছে সাধারণ হাজারো কৃষক পরিবার। সরকারের এক শ্রেণির কর্মকর্তাকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করে এসব জমি অধিগ্রহণের আওতায় নেয়া হচ্ছে বলে এরা অভিযোগ করেন। এইসব অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে তারা যে কোন ধরনের প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দেন।

ষাটোর্ধ সালেহা বেগম বলেন, ‘ হুনি ব্যাবাক লইয়া যাইবে। তিনডা ফসল যদি যায়, বাচমু ক্যামনে। কষ্ট-ক্লেশ কইর‌্যা যেডু জাগা-জমি করছি হেইয়া যদি লইয়া যায় তাইলে যামু কই। এইললইগ্যা এইহানে (মানববন্ধনে) আইছি।’

উত্তর নিশানবাড়িয়া গ্রামের এই বৃদ্ধার মতো গন্ডামারি গ্রামের কৃষক সোহেল তালুকদার বলেন, ‘ মরলে এইহানে বইয়া মরমু। জাগা আর দেওন যাইবে না। কই যামু? রক্ত দিতে রাজি আছি। লাশ পড়বো। জমি দেওয়া যাইব না। জমি যারা আগে দেছে ওই জায়গার সবাই ভিখারি অইয়া গ্যাছে।’

একই ইউনিয়নে একের পর এক তিন ফসলী জমি বসতভিটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাপ-দাদার কবর কোন কিছুই বাদ পড়ছে না। কেন ধানখালীতে তিন ফসলী জমিতে একের পর এক বেসরকারি কোম্পানি জমির নামে কৃষিজমিসহ বসতভিটা অধিগ্রহণ করছে। এসব প্রক্রিয়াকে তারা বসতভিটা থেকে জোর করে উচ্ছেদ করার শামিল বলে মন্তব্য করেন। এরা সবাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণের আবেদন জানান। এসব মানুষ এখন উপায়হীন হয়ে আন্দোলনমুখী হয়ে উঠেছেন।

উল্লেখ্য, আরপিসিএল নামের একটি বেসরকারি সংস্থা এই এলাকায় আরও একটি বিদ্যুতপ্লান্ট করার জন্য কাজ শুরু করেছে। এছাড়া একই ইউনিয়নে ১৩২০ মেগাওয়াট পায়রা তাপ বিদ্যুত কেন্দ্রের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। আরও একাধিক বিদ্যুত প্লান্টের পরিকল্পনা রয়েছে বলে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে কৃষক-জেলেসহ এই ইউনিয়নের হাজার হাজার পরিবারের নারী-পুরুষ।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

আমরা নির্বাচন বয়কট করবো না: ড. কামাল

স্টাফ রিপোর্টার :: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ...