ব্রেকিং নিউজ

কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে গরীব মানুষ বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, ৩০ প্রকার ওষুধ পাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীস্টাফ রিপোর্টার :: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল জনগণের দোর গোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া। তাতে আমরা অনেকটা সক্ষম হয়েছি। আরেকবার ক্ষমতায় আসতে পারলে দেশের জনগণকে আরও উন্নতমানের স্বাস্থ্যসেবা উপহার দিতে পারব। দেশের প্রতিটি মানুষ যেন স্বাস্থ্যসেবা পায় সে লক্ষ্য মাথায় রেখে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এ জন্য ১৬ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে গরীব মানুষ বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা এবং ৩০ প্রকার ওষুধ পাচ্ছে।

শেখ হাসিনা আজ বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও কনভেনশন সেন্টার, ডায়াগনস্টিক ও অনকোলজি ভবন এবং ডক্টরস’ ডরমেটরির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, যাতে একটা মান সম্মত শিক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত করা যায় সে ব্যবস্থাটা আমরা করতে চাই। চিকিৎসা সেবার মানউন্নয়ন করতে চাই। আর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে গড়ে তুলতে বহুমুখী পরিকল্পনা আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে রাজশাহীতে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। রাজশাহী এবং রংপুরে যে সমস্ত সরকারি এবং বেসরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে সেগুলোকে এই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এফিলিয়েটেড হতে হবে। চট্টগ্রামে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করেছি। চট্টগ্রাম এবং আশপাশের জেলার যে কয়টি মেকিলে কলেজ রয়েছে সেইগুলো এই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে এফিলিয়েটেড থাকবে। ঠিক সেইভাবে সিলেটে যে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হবে তার সঙ্গে সিলেটের সবগুলো মেডিকেল কলেজ এফিলিয়েটেড থাকবে।

তিনি বলেন, এখনও যেসব বিভাগে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় নাই সেগুলো বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এফিলিয়েটেড থাকবে, কেবল ঢাকা মেডিকেল কলেজ বাদে। আর ঢাকা মেডিকেল কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে এফিলিয়েটেড সেটা ঐভাবেই থাকবে। এর বাইরে যেগুলো নতুন সব সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ যখন ঐ বিভাগে বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে তার সঙ্গে এফিলিয়েটেড হয়ে যাবে।

শেখ হাসিনা বলেন, এসব মেডিকেল কলেজে কি পড়াশোনা হচ্ছে, আদৌও সেখানে কোন পড়াশোনা হচ্ছে কি না, সত্যিকার ডাত্তার তৈরী হচ্ছে নাকি রোগী মারা ডাক্তার হচ্ছে সেটা আমাদের দেখা দরকার।

তিনি বলেন, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কেবল পোষ্ট গ্রাজুয়েট স্টাডি এবং রিসার্চ হবে আর গ্রাজুয়েশনসহ অন্যান্য কর্মকান্ড সব মেডিকেল কলেজে সম্পন্ন হবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে যেভাবে হয়।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়র সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শেখ ফজলুল করিম সেলিম অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। বিএসএমএমইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক ড. কনক কান্তি বড়ুয়া অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব জি এম সালেহ উদ্দিন স্বাগত বক্তৃতা করেন এবং ঢাকাস্থ কোরীয় রাষ্ট্রদূতের পক্ষে চোও মিন জো বক্তৃতা করেন।

প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক মো. জুলফিকার রহমান অনুষ্ঠানে প্রকল্পের ওপর একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, মন্ত্রী পরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, বিদেশি কূটনিতিকবৃন্দ, শিক্ষাবিদ এবং পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষক নেই কেন?

স্টাফ রিপোর্টার :: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত ...