কমিউনিটি ক্লিনিকে টাকা ছাড়া ঔষধ পায় না রোগীরা!

চরাঞ্চলে কমিউনিটি ক্লিনিকে টাকা ছাড়া ঔষধ পায় না রোগীরা!খোরশেদ আলম বাবুল, শরীয়তপুর প্রতিনিধি :: শরীয়তপুরের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল সখিপুর থানা। সেই সখিপুরের আরো প্রত্যন্ত অঞ্চল কাচিকাটা, উত্তর তারাবুনিয়া ও চর সেনসাস ইউনিয়ন। পদ্মার তীরবর্তী ও পদ্মা পার হয়েও বিশাল এলাকা রয়েছে এ সকল ইউনিয়নের জন বসতি।

এ এলাকার সুবিধা বঞ্চিত ও অবহেলিত মানুষের জন্য বর্তমান সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ দোরগোড়ে চিকিৎসা সেবা পৌছে দেয়া। সেই লক্ষ্যে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে। সরকারের সেই হমত উদ্যোগ ভেস্তে যাচ্ছে কমিউনিটি ক্লিনিক হেল্থ প্রোভাইডার (সিএইচসিপি), ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিদর্শকদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে।

সপ্তাহের শনি থেকে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত কমিউনিটি ক্লিনিক খোলা রাখার কথা রয়েছে। সেই ক্লিনিক সপ্তাহে ২-৩ দিনের বেশি খোলা হয়না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে। ক্লিনিক খোলা হলেও ১-২ দুই ঘন্টার বেশী সেবা প্রদান কার্যক্রম স্থায়ী হয় না।

টাকা ছাড়া ঔষধ পায়না চিকিৎসা প্রত্যাশীরা। বেশি টাকা দিলে বেশী ঔষধও দেয়া হয় বলে জানান এলাকাবাসী। টাকা না দিতে পেরে চিকিৎসা ছাড়া চলে গেছেন এমনও নজির রয়েছে। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও সহকারী পরিদর্শকরাও এ অনিয়রে কথা স্বীকার করেছেন। সিএইচপি’দের আরো কড়া নজরদারিতে রাখা হবে বলেও জানান তারা।

চিকিৎসা বঞ্চিত মানুষের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, চর সেনসাস ইউনিয়নের মাগন বেপারীর কান্দি কমিউনিটি ক্লিনিক দুপুর ১২টার সময় তালাবদ্ধ। ক্লিনিকের পাশবর্তী বাবুল সরকারের মেয়ে রুজিনা ও স্থানীয় সজিব জানায়, সিএইচসিপি কামরুন্নাহার মাঝে মধ্যে আসে। বেলা ১০টার দিকে আসলে দুপুর ১২টার দিকে চলে যায়।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানা যায়, এ ক্লিনিক সাধারণ মানুষের কোন কাজে আসে না। এ থেকে সাধারণ মানুষ কোন সেবা পায় না।

দুপুর ১২টার দিকে নরসিংহপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে বদ্ধ পাওয়া যায়। প্রতিবেদকের উপস্থিতি টের পেয়ে স্থানীয় আবাল-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ ছুটে আসেন অভিযোগ যানাতে। সকল অভিযোগ সিএইচসিপি ইয়াকুবের বিরুদ্ধে। স্থানীয় মরিয়ম জানায় তার সন্তান নিয়ে ক্লিনিকে আসে। ইয়াকুবের চাহিদা মতো টাকা না দেয়ায় ঔষুধ পায়নি তিনি।

স্থানীয় এক মুরব্বি জানায়, ইয়াকুবের চাহিদা ৫০ টাকা তা না দিতে পারায় চিকিৎসা বঞ্চিত হয়ে চাদপুরে যেতে হয়েছে তাকে। পাশবর্তী পল্লী চিকিৎসক জানায়, যে সকল রোগীদের ইয়াকুব টাকা ছাড়া চিকিৎসা দেয় না মানবিক কারনে বিনা পয়সায় আমি তাদের চিকিৎসা দেই। অথচ এরা সরকারী চিকিৎসা পাওয়ার যোগ্য। এ বিষয়ে ইয়াকুব জানায়, তিনি কর্তৃপক্ষের অনুমতিতে ছুটি কাটিয়েছেন। তিনি কম-বেশী টাকা নেন। তা দিয়ে অফিস পরিস্কার করান।

দুপুর দেড়টার দিকে বেরাচাক্কি কমিউনিটি ক্লিনিকও তালাবদ্ধ দেখা গেছে। একই মাঠে অবস্থিতি ১৩০ নং বেরাচাক্কি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদানরত সহকারী শিক্ষক বর্ষা ও নুসরাত জাহানের সাথে আলাপ কালে জানায়, ওই দিন (সোমবার) ক্লিনিক খোলা হয় নাই। কেন খোলা হয়নি সে বিষয়ে কিছুই জানা যায়নি। খেয়া পারের মাঝি মনির জানায়, সিএইচসিপি উঞ্জিলা মাঝে মধ্যে আসেন। ১০-১১টার দিকে আসেন আর যোহরের আযান দিলে চলে যায়। এর মধ্যেই রোগী দেখে ২-৩ শত টাকা রোজগার করে নেন।

চরসেনসাস ইউনিয়ন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক নার্গিস আক্তার আমেনা বলেন, এ সকল ক্লিনিকে সিএএইচসিপি’রা বেশ অনিয়ম করে। তাদের একাধিকবার কারণ দর্শানো হয়েছে। এখন অনেকটা নিয়মের মধ্যে আসছে। আমি দুটি ইউনিয়নের দায়িত্বে আছি তাই সপ্তাহে একবারের বেশী কমিউনিটি ক্লিনিকে যেতে পারি না। আপনাদের অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

‘এবি’

‘এবি’র বিদায়

স্টাফ রিপোর্টার :: ‘সেই তুমি, কেন এতো অচেনা হলে’, ‘চলো বদলে যাই’, ...