কমলগঞ্জে মণিপুরী মহারাসলীলা অনুষ্ঠিত

879546546সোহেল রানা, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি :: বর্ণাঢ্য আয়োজন ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মৌভীবাজারের কমলগঞ্জে আজ বৃহস্পতিবার শুরু হয় মণিপুরী সমপ্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব “মহারাসলীলা” অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কমলগঞ্জের মাধবপুর জোড়া মন্ডপ প্রাঙ্গনে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সমপ্রদায়ের মনিপুরী মহারাসলীলা সেবা সংঘের আয়োজনে এ বছর ১৭২তম মহারাসোৎসব চলছে।

অপরদিকে কমলগঞ্জের আদমপুরের তেতইগাঁও সানাঠাকুর মন্ডপ প্রাঙ্গনে মনিপুরী মৈ-তৈ সমপ্রদায়ের আয়োজনে ২৯তম রাসোৎসব শুরু হয়েছে।

আজ সকাল ১১টায় মাধবপুর জোড়ামন্ডপ ও সানাঠাকুর মন্ডপে রাখাল (গোষ্ঠলীলা) নৃত্যেও মধ্যদিয়ে শুরু হয় মহারাসলীলা পর্ব। চলে গোধূলীলগ্ন পর্যন্ত। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে আলোচনা সভা,সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গুণীজন সংবর্ধনা এবং রাত ১০টা থেকে আগামীকাল শুক্রবার ভোর পর্যন্ত চলে শ্রীশ্রী কৃষ্ণের মহা রাসলীলানুসরণ।

এাধবপুর জোড়া মন্ডপ ও সানাঠাকুর-এর প্রতিটি মন্ডপে মনিপুরী শিশু নৃত্যশিল্পীদের সুনিপুন নৃত্যাভিনয় রাতভর মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখবে আগত ভক্ত ও দর্শনার্থীদের। মনিপুরী সমপ্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে অন্যান্য সমপ্রদায়ের লোকেরাও মেতে উঠে একদিনের এই আনন্দে। মহারাত্রির আনন্দের পরশ পেতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা হাজার হাজার নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, দেশী-বিদেশী পর্যটক, বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ, প্রশাসনিক উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে মনিপুরী পল্ল্লীর এ দুটি এলাকা।

নানা সাজ আর আনন্দ-উৎসাহ-এর মধ্যদিয়ে ঢাক-ঢোল,মৃদঙ্গ,করতাল এবং শঙ্খ ধ্বনির মধ্যদিয়ে রাধা-কৃষ্ণের লীলাকে ঘিরেই এই দিনটি বছরের অন্য সব দিন থেকে ভিন্ন আমেজ নিয়ে আসে কমলগঞ্জবাসীর জীবনে। ১৮৪২ সাল থেকে মাধবপুর জোড়ামন্ডপে প্রতি কার্তিকের পূর্ণিমা তিথিতে ভাবগাম্ভীর্যের সাথে মহারাসলীলা উদযাপিত হয়ে আসছে।

মণিপুরী ঐতিহ্যের সুমহান ধারায় এবার অনুষ্ঠিত হয় ১৭২তম শ্রী শ্রী কৃষ্ণের মহারাস লীলানুসরন মহোৎসব। অপর দিকে কমলগঞ্জের তেতইগাঁও সানা ঠাকুর মন্ডপে ১৯৮৬ সাল থেকে রাস উৎসব উদয়াপিত হচ্ছে। প্রতি বছরের ন্যায় এখানে এবার অনুষ্ঠিত হয় ২৯তম শ্রী শ্রী কৃষ্ণের মহারাস লীলানুসরন মহোৎসব। কমলগঞ্জে প্রায় এক মাস আগ থেকেই চলে রাসোৎসবের প্রস্ততি।

মনিপুরী সমপ্রদায়ের বাড়ি বাড়ি কুমারী কিশোরদের রাস লীলায় অংশগ্রহণ করার জন্যে নৃত্য ও সংগীতের তালিম দেয়া হয়। রাসলীলা উপলক্ষ্যে মণিপুরী পল্লীর আবালবৃদ্ধ বণিতা মৃদঙ্গ করতাল আর শংখ ধ্বনির সমন্বয়ে মেতে উঠে রাধা কৃষ্ণের লীলায়। প্রতিবছর ভরা কার্তিকের রৌদ্রছায়ার লুকোচুরি খেলায় দিনের শেষে পূর্ণিমা তিথিতে প্রানের উচ্ছ্বাস জাগানো এ উৎসব উৎযাপিত হয় বলে একে রাসপূর্ণিমা বা পূর্ণিমা রাস বলা হয়। প্রেমের পূণ্যবাঁধনে বিকশিত হবার দিন রাসপূর্ণিমা।

যুগযুগ ধরে কার্তিকেয় পূর্ণিমা তিথিতে এ চিরাচরিত উৎসবের মধ্যে দিয়ে সব বয়সের মণিপুরীরা একত্রিত হয় সংস্কৃতির লালনে এবং দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে বৈচিত্র্যময় ও সমৃদ্ধশালী করার অঙ্গিকার নিয়ে।

রাত ভর চাঁদের আলোয় মায়াবী জোৎনায় নূপুরের সিঞ্চনে মুদ্রা তুলবে সুবর্ণ কঙ্কন পরিহীতা রাধা ও গোপিনী রূপের মণিপুরী তরুনীরা। সুরের আবেশে মাতাল হয়ে উঠবে কমলগঞ্জের প্রকৃতি ও মানুষ। আগামীকাল শুক্রবার সকালে নতুন সূর্য উঠার সাথে সাথে শেষ হবে মহারাস উৎসব-এর মিলনমেলা।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ইনজেকশন দেয়া গরু চিনবেন যেভাবে

ষ্টাফ রিপোর্টার ::ঈদুল আজহার আর মাত্র ক’দিন বাকি। ঈদুল আজহা মূলত মহান ...