এসডিজি অর্জনে প্রয়োজন প্রগতিশীল কর সংস্কার: সুপ্র্র

এসডিজি অর্জনে প্রয়োজন প্রগতিশীল কর সংস্কার: সুপ্র্র ঢাকা :: বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে বেসরকারি নাগরিক সংগঠনের জোট সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান-সুপ্র্র ‘বিদ্যমান কর ও মূসক বিষয়ক বিভাগীয় সংলাপ’-এর আয়োজন করে। কর ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত কর সুশাসন প্রচারাভিযানের অংশ হিসাবে সংগঠনটি এই সংলাপের আয়োজন করে।

সুপ্র সহ-সভাপতি মঞ্জু রাণী প্রামাণিকের সভাপতিত্বে ও সুপ্র জাতীয় পরিষদ সদস্য আহমেদ স্বপন মাহমুদের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি, বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন কাজী রোজী এমপি, মূসক কমিশনার মো. মতিউর রহমান।

সংলাপের শুরুতেই ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলার দাবি সম্বলিত আলোচনাপত্রটি পাঠ করেন সুপ্র প্রকল্প সমন্বয়কারী লাভলী রানী তালুকদার। পত্রটিতে বলা হয়, বর্তমান কর ব্যবস্থায় বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

মূসক কমিশনার মতিউর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, একটি শক্ত চক্রের মধ্য দিয়ে আমাদেরকে কাজ করতে হয় যেটা অনেক কঠিন একটা ব্যাপার। এই চক্রটাকে ভাঙ্গতে হবে। সততার সাথে কাজ করতে গিয়ে আমাদেরকেও নানা হয়রাণির শিকার হতে হয়।

মাল্টিন্যাশনাল ও কর্পোরেট কোম্পানীগুলো কর ফাঁকি দিতে ওঁত পেতে থাকে। এদেরেকে থামানো না গেলে কর ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। কর ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যাপক সচেতনতা ও প্রচারের বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বেসরকারী উদ্যোগী সংস্থার মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করাটাও জরুরী। নাগরিক বান্ধব কর্মপরিবেশ/সার্ভিস প্রদানের জন্য সরকারের সদিচ্ছা আছে তবে সেক্ষেত্রে নাগরিক সচেতনতা দরকার। সুপ্র এ ব্যাপারে ভূমিকা রাখতে পারে। এসডিজিকে মাথায় রেখে উন্নয়নের সবকিছু করতে হবে। অটোমেশন দূর্নীতি রোধে ভূমিকা রাখতে সক্ষম। তবে এক্ষেত্রে আমাদের সক্ষমতা বড়াতে হবে। দূর্নীতি বন্ধে ডিজিটালাইজেশন একটি বড় রাস্তা হিসাবে কাজ করতে পারে।

ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি তাঁর বক্তব্যে বলেন, সাধারণ নাগরিক ও নীতি নির্ধারকদের মধ্যে সেতু বন্ধ হিসাবে কাজ করছে সুপ্র। সাড়ে সাতশ’ কোটি টাকা থেকে বাজেট এখন ৪ লক্ষ কোটি টাকা। এটাই উন্নয়নের একটি বড় নির্দেশক। বাজেটে বিদেশী নির্ভরতাও কমেছে। সরকারের দিক থেকে বাজেট ও জিডিপি’র অনুপাত বাড়ানোর চেষ্টা থাকে। তবে খুব একটা বাড়ে না। কিন্তু উন্নয়নের গতি থেমে নেই। এলাকাভিত্তিক বাড়ী ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়া হলে কর আয় বাড়বে। ইসিআর চালু করা গেলে মূসক ব্যবস্থার অনেক উন্নতি হবে।

কাজী রোজী এমপি বলেন, দেশের ভালোর জন্য, ভালোবাসা থেকেই কর দিতে হবে। কর ব্যবস্থার গতি ধরে রাখতে এনবিআরকে আরো সক্রিয় হতে হবে। সেবা মানুষের দোর গোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। একা সরকার না, সবাই এগিয়ে আসলে তবেই উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। প্রত্যেকের ভেতরে সচেতনতা আসতে হবে। কাজ করার মানসিকতা বাড়াতে হবে।

এ ছাড়াও সভায় শরীয়তপুর জেলা সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, গোপালগঞ্জ জেলা সম্পাদক মাজহারুল হক বাবলু, বাঁচতে শিখ নারী’র সভাপতি ফিরোজা বেগম তাদের মতামত তুলে ধরেন।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন এনজিও ও নারী প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, আইনজীবি, সাংবাদিক, ছাত্র-শিক্ষক প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে সুপ্র’র পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য দাবি ও সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়:

১. করের বিপরীতে নাগরিক সুবিধাগুলো নিশ্চিত করতে হবে।
২. স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত হওয়া প্রয়োজন যা কর ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য আবশ্যক।
৩. দরিদ্রপ্রবণ এলাকাকে মূসকের (ভ্যাটের) আওতামুক্ত রাখা। সর্বোপরি কর ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করতে নিম্ন আয়ের ব্যক্তিদের কথা বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে মূসক (ভ্যাট) আইন ও নীতি প্রণয়ন করতে হবে।
৪. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটিগুলোকে সক্রিয় করা জরুরী।
৫. কর্পোরেট কর ফাঁকি বন্ধে সরকারের পক্ষ থেকে আইন সংস্কার-এর মাধ্যমে বিদেশী কোম্পানীগুলোর কাছ থেকে রয়ালিটি। সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে এদেশ থেকে পাচার হওয়া সকল অর্থ উদ্ধারের ক্ষেত্রে সরকারকে শক্তিশালী লবি শুরু করা আশু প্রয়োজন।– প্রেস বিজ্ঞপ্তি

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

সামাজিক অবক্ষয় রোধে রূপান্তরের ইয়ূথ ফোরাম গঠন

সামাজিক অবক্ষয় রোধে রূপান্তরের ইয়ূথ ফোরাম গঠন

মোঃ শহিদুল ইসলাম, বাগেরহাট প্রতিনিধি :: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি ও ...